২০ বছরে মাদক ব্যবসায় কোটিপতি এক হাজার মানুষ
গত দুই দশকে রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ অঞ্চলে মাদক ব্যবসার মাধ্যমে অন্তত এক হাজার ব্যক্তি কোটিপতি বনে গেছেন বলে মন্তব্য করেছেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু। তিনি বলেন, মাদক ব্যবসার বিস্তার শুধু সমাজকেই ধ্বংস করেনি, বরং পরিবার, তরুণ সমাজ ও সামগ্রিক সামাজিক মূল্যবোধকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তাই মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও সক্রিয় হতে হবে।
শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে রাজশাহী নগরীর নানকিং দরবার হলে আয়োজিত ‘নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ আইন সুরক্ষা: চ্যালেঞ্জ ও প্রতিকার’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি ড. মোহাম্মদ শাহজাহান।
ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বলেন, “রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ একসময় শিক্ষা, সংস্কৃতি, সামাজিক সম্প্রীতি ও উন্নয়নের জন্য পরিচিত ছিল। কিন্তু গত ২০ বছরে মাদক ব্যবসার ভয়াবহ বিস্তারের কারণে সমাজের একটি বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মাদক ব্যবসা করে অনেকে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। এসব ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “অতীতের রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব-প্রতিপত্তি বিবেচনা না করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। মাদক, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং সামাজিক অপরাধ দমনে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া যাবে না।”
রাজশাহীর উন্নয়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, “উন্নয়ন ও অর্জনের ক্ষেত্রে রাজশাহী সব সময়ই দেশের অন্যতম অগ্রগামী অঞ্চল ছিল। তবে নানা কারণে গত দুই দশকে সেই ধারাবাহিকতায় ব্যাঘাত ঘটেছে। এখন সময় এসেছে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে রাজশাহীর ঐতিহ্য, সুনাম ও উন্নয়নের ধারা পুনরুদ্ধার করার।”
সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, শুধু আইন প্রয়োগ করলেই হবে না, পরিবার ও সমাজকেও এ বিষয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
নওগাঁ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. ফজলে হুদা বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো অপরাধ প্রতিরোধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পরিবার এবং সামাজিক সংগঠনগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন রোধে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বিত কার্যক্রম আরও জোরদার করতে হবে।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় দ্রুত তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।
সভাপতির বক্তব্যে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি ড. মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে আইনের যথাযথ প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি। এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য তিনি সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানান।
সেমিনারে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, আইনজীবী, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, জনপ্রতিনিধি, নারী নেত্রী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে আইনের কার্যকর প্রয়োগ, অপরাধীদের দ্রুত বিচার এবং ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।