চাঁপাইনবাবগঞ্জে সালিশ বৈঠক রণক্ষেত্রে পরিণত, নিহত ১ আহত ১০
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার শাজাহানপুর ইউনিয়নের দুর্লভপুর গ্রামে মাদক-সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে আয়োজিত একটি গ্রাম্য সালিশ ভয়াবহ সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে। দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে বল্লমের আঘাতে ইব্রাহিম (৩৫) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
গতকাল বুধবার (১০ জুন) দুপুরে সদর উপজেলার শাজাহানপুর ইউনিয়নের দুর্লভপুর এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত ইব্রাহিম উপজেলার দুর্লভপুর গ্রামের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. শওকত আলীর ছেলে।
পুলিশ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, এলাকায় মাদক চোরাকারবারিদের বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর কাছে ধরিয়ে দেওয়াকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় দুটি পক্ষের মধ্যে বিরোধ ও উত্তেজনা চলছিল। বিরোধ নিরসনের উদ্দেশ্যে বুধবার স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে একটি গ্রাম্য সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
সালিশ চলাকালীন সময়েই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ চলাকালে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ এবং ধারালো অস্ত্রের ব্যবহারে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষের এক পর্যায়ে প্রতিপক্ষের বল্লমের আঘাতে গুরুতর আহত হন ইব্রাহিম। স্থানীয়রা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সংঘর্ষে আহত অন্তত ১০ জনকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
ঘটনার খবর পেয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নতুন করে সংঘর্ষ বা প্রতিশোধমূলক হামলার আশঙ্কায় এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ এন এম ওয়াসিম ফিরোজ বলেন, “ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে ইতোমধ্যে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি থমথমে থাকলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, মাদককে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা বিরোধ ও সামাজিক বিভাজনের কারণেই এ ধরনের রক্তক্ষয়ী ঘটনা ঘটেছে। তারা এলাকায় মাদক নির্মূল এবং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় প্রশাসনের আরও কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।