চলন্ত ট্রেনে অসুস্থ বৃদ্ধার পাশে তিন চিকিৎসক
মানুষের বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর নামই মানবতা। আর সেই মানবতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন তিন চিকিৎসক। মঙ্গলবার রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়া এক বৃদ্ধাকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসাসেবা দিয়ে সুস্থ করে তুলেছেন তারা। তাদের মানবিকতা, দায়িত্ববোধ ও দ্রুত চিকিৎসা সেবায় চলন্ত ট্রেনেই স্বস্তি ফিরে পান ওই যাত্রী।
জানা যায়, দুইবার পবিত্র কাবা শরিফ তাওয়াফকারী খোদেজা বেগম উন্নত চিকিৎসার জন্য স্বজনদের সঙ্গে রাজশাহী থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন। যাত্রাপথে ট্রেনটি সিরাজগঞ্জ অতিক্রম করার সময় তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। মুহূর্তেই উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে বগিজুড়ে। পরিবারের সদস্যরা দিশেহারা হয়ে পড়েন।
এ সময় ট্রেনের মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয়, কোনো চিকিৎসক যাত্রী হিসেবে উপস্থিত থাকলে যেন দ্রুত এক্সট্রা-৩ বগিতে গিয়ে রোগীকে চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন।
ঘোষণা শোনার সঙ্গে সঙ্গেই মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে এগিয়ে আসেন তিন চিকিৎসক। তারা হলেন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. রিমান ইসলাম (অ্যানেসথেসিওলজিস্ট), ইন্টার্ন চিকিৎসক ডা. সুরাইয়া আহমেদ এবং লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইনডোর মেডিকেল অফিসার ডা. মাহমুদ ইকবাল হাফিজ নোমানী।
রোগীর স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে চিকিৎসকরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করেন, ডায়াবেটিসের ওষুধ গ্রহণের পর পর্যাপ্ত খাবার না খাওয়ায় তিনি হাইপোগ্লাইসেমিয়াজনিত সমস্যায় আক্রান্ত হয়েছেন। ফলে তার শরীরে অতিরিক্ত ঘাম, দুর্বলতা ও অস্বস্তি দেখা দেয়।
পরে তিন চিকিৎসক সম্মিলিতভাবে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা ও ওষুধ প্রদান করেন। তাদের দক্ষতা ও দ্রুত পদক্ষেপে কিছুক্ষণের মধ্যেই খোদেজা বেগমের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়। ধীরে ধীরে তিনি স্বাভাবিক হয়ে উঠলে স্বস্তি ফিরে আসে তার স্বজনদের মুখেও।
চিকিৎসকদের এই মানবিক সেবায় মুগ্ধ হন ট্রেনের অন্যান্য যাত্রীরাও। অনেকেই করতালির মাধ্যমে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। যাত্রীরা বলেন, চিকিৎসা শুধু একটি পেশা নয়, এটি একটি মহান সেবা। আর এই তিন চিকিৎসক সেটিই আবারও প্রমাণ করেছেন।
চলন্ত ট্রেনের একটি সংকটময় মুহূর্তে তিন চিকিৎসকের এই মানবিক উদ্যোগ মনে করিয়ে দেয়-চিকিৎসকের পরিচয় শুধু হাসপাতালের চার দেয়ালের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সাদা অ্যাপ্রনের বাইরেও মানবতার আহ্বানে সাড়া দিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই একজন প্রকৃত চিকিৎসকের সবচেয়ে বড় পরিচয়।