রাজশাহীতে টেন্ডার বক্স ছিনতাইয়ের ঘটনায় যুবদলের দুই নেতা বহিষ্কার
রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) কার্যালয়ে দরপত্র জমা দেওয়ার বাক্স ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় যুবদলের দুই নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে রাজশাহী মহানগর যুবদল এ সিদ্ধান্ত জানায়।
বহিষ্কৃতরা হলেন নগরের ১৮ নম্বর ওয়ার্ড (দক্ষিণ) যুবদলের আহ্বায়ক মো. ধলু এবং ১৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আজিজুল ইসলাম।
দলীয় সূত্র জানায়, ঘটনার পরপরই তাঁদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। নোটিশে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক ও সদস্যসচিবের কাছে সশরীরে উপস্থিত হয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়। তবে সিসিটিভি ফুটেজে সংশ্লিষ্টতা স্পষ্ট হওয়ায় নোটিশের সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই তাঁদের বহিষ্কার করা হয়।
রাজশাহী মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম বলেন, “সিসিটিভি ফুটেজে তাঁদের সম্পৃক্ততা স্পষ্টভাবে দেখা গেছে। সংগঠনের নীতি-আদর্শবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
মহানগর যুবদলের দপ্তরে সংযুক্ত সদস্য মাসুদুল হক মৃধা মোমিন স্বাক্ষরিত বহিষ্কারাদেশে বলা হয়েছে, আরডিএ কার্যালয়ে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং সংগঠনের শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তাঁদের বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কৃতদের কোনো কর্মকাণ্ডের দায় দল নেবে না বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
এর আগে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আরডিএ ভবনে পুলিশের উপস্থিতিতেই দরপত্র বাক্স ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল হঠাৎ ভবনে ঢুকে বাক্সটি নিয়ে যায়। কয়েক মিনিট পর ভবনের চারতলা থেকে সেটি উদ্ধার করা হয়। এ সময় ভবনের সামনে কয়েকজন যুবকের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে এবং এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
আরডিএর সহকারী প্রকৌশলী শেখ কামরুজ্জামান বলেন, “দরপত্র বাক্সটি পুলিশের পাহারায় ছিল। হঠাৎ কিছু উচ্ছৃঙ্খল যুবক এসে জোর করে বাক্সটি নিয়ে যায়। পরে ভবনের ভেতরেই রেখে চলে যায়।”
প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মশিউর রহমান জানান, চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে টেন্ডার মূল্যায়ন কমিটি এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবে।
আরডিএ সূত্রে জানা গেছে, গত ২০ এপ্রিল পরিত্যক্ত ও ব্যবহার অনুপযোগী কিছু মালামাল নিলামে বিক্রির জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। মঙ্গলবার ছিল দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। নিলামে প্রায় ৪০০টি শিডিউল বিক্রি হয়েছিল এবং সংশ্লিষ্ট মালামালের মূল্য আনুমানিক আড়াই লাখ টাকা।
শাহ মখদুম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন, এ ঘটনায় এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।