নওহাটা ফাজিল মাদ্রাসায় নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, প্রতিবাদে মানববন্ধন
রাজশাহীর পবা উপজেলার নওহাটা সালেহিয়া দারুস সুন্নাত ফাজিল মাদ্রাসায় কর্মচারী নিয়োগকে কেন্দ্র করে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। গোপনে দুইজনকে নিয়োগ দেওয়ার ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা ও চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মাদ্রাসার কম্পিউটার ল্যাব অপারেটর পদে পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ইসমাইল হোসেনের মেয়ে ফৌজিয়া শাবনুর এবং ল্যাব সহকারী পদে মরিয়ম খাতুনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া লোকচক্ষুর আড়ালে গোপনে সম্পন্ন করা হয়েছে।
ক্ষুব্ধ চাকরিপ্রার্থীরা জানান, এর আগে একটি নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলেও তা বাতিল করে প্রার্থীদের ব্যাংক ড্রাফট ফেরত দেওয়া হয়। তবে পরবর্তীতে কোনো প্রকার পুনঃবিজ্ঞপ্তি ছাড়াই গোপনে নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয়েছে, যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে আরও বিস্ময়কর তথ্য দিয়েছেন নিয়োগ বোর্ডের সভাপতি মশিউর রহমান। তিনি জানান, এ নিয়োগ সম্পর্কে তিনি অবগত নন এবং সংশ্লিষ্ট কোনো নথিতেও তার স্বাক্ষর নেই। তার এমন বক্তব্যে নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
এদিকে, অনিয়মের প্রতিবাদে সোমবার (১৩ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টায় মাদ্রাসার সামনে মানববন্ধন করেন চাকরিপ্রার্থী ও স্থানীয় এলাকাবাসী। ‘চাকরিপ্রার্থী ও এলাকাবাসী’র ব্যানারে আয়োজিত এই কর্মসূচি থেকে বিতর্কিত নিয়োগ বাতিল, অধ্যক্ষ আলতাফ উদ্দীনকে অপসারণ এবং বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার দাবি জানানো হয়।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আলতাফ উদ্দীন। তিনি দাবি করেন, নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ নিয়ম মেনে এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে সম্পন্ন হয়েছে; কোনো ধরনের অনিয়ম বা ঘুষের ঘটনা ঘটেনি।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন এলাকাবাসী।