শনিবার , ১৫ আগস্ট ২০২৬
হোমসারাদেশতানোর-গোদাগাড়ীতে তরুণ ও আদিবাসী ভোটারই নির্ধারণ করবে ভাগ্য
মুখোমুখি জামায়াত-বিএনপি

তানোর-গোদাগাড়ীতে তরুণ ও আদিবাসী ভোটারই নির্ধারণ করবে ভাগ্য

favicon
সোহানুল হক পারভেজ :
তানোর-গোদাগাড়ীতে তরুণ ও আদিবাসী ভোটারই নির্ধারণ করবে ভাগ্য

রাজশাহী-১ আসনটি তানোর ও গোদাগাড়ী উপজেলা নিয়ে গঠিত। ভৌগোলিক বিস্তৃতি, রাজনৈতিক ঐতিহ্য ও জাতীয় রাজনীতিতে প্রভাবের কারণে আসনটি দীর্ঘদিন ধরেই দেশের অন্যতম ‘ভিআইপি’ আসন হিসেবে পরিচিত। অতীতে এই আসন থেকে নির্বাচিত প্রায় সব সংসদ সদস্যই মন্ত্রীত্ব পেয়েছেন। সে কারণেই এখানে বরাবরই হেভিওয়েট প্রার্থীদের উপস্থিতি দেখা যায়। 

এক সময় আসনটি বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত থাকলেও সময়ের পরিক্রমায় রাজনৈতিক সমীকরণে এসেছে নানা পরিবর্তন। 

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সেই পরিবর্তনের চূড়ান্ত রূপ দেখার অপেক্ষায় স্থানীয় রাজনীতি। 

জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এবারে রাজশাহী-১ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮০ জন। এর মধ্যে গোদাগাড়ী উপজেলায় ভোটার ২ লাখ ৯৬ হাজার ৯১০ জন এবং তানোর উপজেলায় ১ লাখ ৭১ হাজার ৮৭০ জন। ভোটারদের একটি বড় অংশ সনাতন ধর্মাবলম্বী, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও তরুণ জনগোষ্ঠী। এই বাস্তবতায় নির্বাচনি মাঠে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে তরুণ ও আদিবাসী ভোটব্যাংক। প্রচারণার ভাষা, প্রতীক ও কৌশলেও তার স্পষ্ট প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। 

এবারের নির্বাচনে এ আসনে মোট পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও সাধারণ ভোটারদের আলোচনায় ঘুরপাক খাচ্ছে মূলত দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর নাম। তারা হলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির, সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমান (দাঁড়িপাল্লা) এবং বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মেজর জেনারেল (অব.) শরীফ উদ্দিন (ধানের শীষ)। শরীফ উদ্দিন প্রয়াত মন্ত্রী ব্যারিস্টার আমিনুল হকের ছোট ভাই এবং এবারই প্রথম সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। এছাড়াও গণঅধিকার পরিষদের মীর মো. শাহজাহান (ট্রাক), এবি পার্টির মো. আব্দুর রহমান (ঈগল) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আল সাআদ (মোবাইল ফোন) নির্বাচনি মাঠে থাকলেও তাদের প্রচারণা তুলনামূলকভাবে সীমিত। অনেক ভোটার পোস্টারে ছবি দেখেও এসব প্রার্থীর নাম ও পরিচয় জানতে পারছেন না। ফলে স্থানীয়দের জিজ্ঞেস করে প্রার্থীদের সম্পর্কে জানার চিত্রও দেখা যাচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিপুলসংখ্যক সনাতন ধর্মাবলম্বী, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও তরুণ ভোটারদের সমর্থন আদায়ে বিএনপি ও জামায়াত উভয় দলই ভিন্ন ভিন্ন কৌশল গ্রহণ করেছে। ইতোমধ্যে জামায়াতের জনসভায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নেতাদের উপস্থিতি স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন এক মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। অন্যদিকে, ২০০৮ সাল থেকে আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে থাকলেও জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতায় দৃশ্যপট অনেকটাই পাল্টে গেছে। এলাকায় আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের তৎপরতা নেই, দলীয় কার্যক্রমও প্রায় স্থবির অবস্থায় রয়েছে।  এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বিএনপি তাদের একসময়ের দুর্গ পুনরুদ্ধারে জোর তৎপরতা চালাচ্ছে। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর জামায়াতের সাংগঠনিক শক্তি ও জনসমর্থন নতুন করে বৃদ্ধি পেয়েছে। 

বিশেষ করে ১৯৮৬ সালে এই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় অধ্যাপক মুজিবুর রহমানের ব্যক্তিগত পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতা এখনো অনেক ভোটারের মধ্যে প্রভাব ফেলছে। সব মিলিয়ে রাজশাহী-১ আসনের নির্বাচনি লড়াই এবার স্পষ্টভাবে দ্বিমুখী। তরুণ, সনাতন ধর্মাবলম্বী ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভোট কোন দিকে যাবে-সেই সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে কে জিতবে, কে হারবে। এই ভোটব্যাংকের মন জয়ে কে কতটা সফল হতে পারে, সেটিই এখন পুরো আসনের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু।

তানোর-গোদাগাড়ীতে তরুণ ও আদিবাসী ভোটারই নির্ধারণ করবে ভাগ্য
মুখোমুখি জামায়াত-বিএনপি
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
দৈনিক উপচার
 শনিবার , ১৫ আগস্ট ২০২৬
হোমসারাদেশতানোর-গোদাগাড়ীতে তরুণ ও আদিবাসী ভোটারই নির্ধারণ করবে ভাগ্য
মুখোমুখি জামায়াত-বিএনপি

তানোর-গোদাগাড়ীতে তরুণ ও আদিবাসী ভোটারই নির্ধারণ করবে ভাগ্য

favicon
সোহানুল হক পারভেজ :
তানোর-গোদাগাড়ীতে তরুণ ও আদিবাসী ভোটারই নির্ধারণ করবে ভাগ্য

রাজশাহী-১ আসনটি তানোর ও গোদাগাড়ী উপজেলা নিয়ে গঠিত। ভৌগোলিক বিস্তৃতি, রাজনৈতিক ঐতিহ্য ও জাতীয় রাজনীতিতে প্রভাবের কারণে আসনটি দীর্ঘদিন ধরেই দেশের অন্যতম ‘ভিআইপি’ আসন হিসেবে পরিচিত। অতীতে এই আসন থেকে নির্বাচিত প্রায় সব সংসদ সদস্যই মন্ত্রীত্ব পেয়েছেন। সে কারণেই এখানে বরাবরই হেভিওয়েট প্রার্থীদের উপস্থিতি দেখা যায়। 

এক সময় আসনটি বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত থাকলেও সময়ের পরিক্রমায় রাজনৈতিক সমীকরণে এসেছে নানা পরিবর্তন। 

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সেই পরিবর্তনের চূড়ান্ত রূপ দেখার অপেক্ষায় স্থানীয় রাজনীতি। 

জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এবারে রাজশাহী-১ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮০ জন। এর মধ্যে গোদাগাড়ী উপজেলায় ভোটার ২ লাখ ৯৬ হাজার ৯১০ জন এবং তানোর উপজেলায় ১ লাখ ৭১ হাজার ৮৭০ জন। ভোটারদের একটি বড় অংশ সনাতন ধর্মাবলম্বী, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও তরুণ জনগোষ্ঠী। এই বাস্তবতায় নির্বাচনি মাঠে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে তরুণ ও আদিবাসী ভোটব্যাংক। প্রচারণার ভাষা, প্রতীক ও কৌশলেও তার স্পষ্ট প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। 

এবারের নির্বাচনে এ আসনে মোট পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও সাধারণ ভোটারদের আলোচনায় ঘুরপাক খাচ্ছে মূলত দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর নাম। তারা হলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির, সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমান (দাঁড়িপাল্লা) এবং বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মেজর জেনারেল (অব.) শরীফ উদ্দিন (ধানের শীষ)। শরীফ উদ্দিন প্রয়াত মন্ত্রী ব্যারিস্টার আমিনুল হকের ছোট ভাই এবং এবারই প্রথম সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। এছাড়াও গণঅধিকার পরিষদের মীর মো. শাহজাহান (ট্রাক), এবি পার্টির মো. আব্দুর রহমান (ঈগল) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আল সাআদ (মোবাইল ফোন) নির্বাচনি মাঠে থাকলেও তাদের প্রচারণা তুলনামূলকভাবে সীমিত। অনেক ভোটার পোস্টারে ছবি দেখেও এসব প্রার্থীর নাম ও পরিচয় জানতে পারছেন না। ফলে স্থানীয়দের জিজ্ঞেস করে প্রার্থীদের সম্পর্কে জানার চিত্রও দেখা যাচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিপুলসংখ্যক সনাতন ধর্মাবলম্বী, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও তরুণ ভোটারদের সমর্থন আদায়ে বিএনপি ও জামায়াত উভয় দলই ভিন্ন ভিন্ন কৌশল গ্রহণ করেছে। ইতোমধ্যে জামায়াতের জনসভায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নেতাদের উপস্থিতি স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন এক মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। অন্যদিকে, ২০০৮ সাল থেকে আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে থাকলেও জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতায় দৃশ্যপট অনেকটাই পাল্টে গেছে। এলাকায় আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের তৎপরতা নেই, দলীয় কার্যক্রমও প্রায় স্থবির অবস্থায় রয়েছে।  এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বিএনপি তাদের একসময়ের দুর্গ পুনরুদ্ধারে জোর তৎপরতা চালাচ্ছে। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর জামায়াতের সাংগঠনিক শক্তি ও জনসমর্থন নতুন করে বৃদ্ধি পেয়েছে। 

বিশেষ করে ১৯৮৬ সালে এই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় অধ্যাপক মুজিবুর রহমানের ব্যক্তিগত পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতা এখনো অনেক ভোটারের মধ্যে প্রভাব ফেলছে। সব মিলিয়ে রাজশাহী-১ আসনের নির্বাচনি লড়াই এবার স্পষ্টভাবে দ্বিমুখী। তরুণ, সনাতন ধর্মাবলম্বী ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভোট কোন দিকে যাবে-সেই সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে কে জিতবে, কে হারবে। এই ভোটব্যাংকের মন জয়ে কে কতটা সফল হতে পারে, সেটিই এখন পুরো আসনের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু।

তানোর-গোদাগাড়ীতে তরুণ ও আদিবাসী ভোটারই নির্ধারণ করবে ভাগ্য
মুখোমুখি জামায়াত-বিএনপি
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬