নতুন সমীকরণে নির্বাচনী মাঠে ইসলামী আন্দোলন
জামায়াত-এনসিপির নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর নতুন কৌশলে নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় হয়েছে চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। জোট ছাড়ায় প্রচারের আলো কিছুটা কমলেও দলটি এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অন্তত দুই অঙ্কের (ডাবল ডিজিট) আসন পাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে। একই সঙ্গে উচ্চকক্ষে শক্ত অবস্থান তৈরি ও শরিয়াহ প্রশ্নে আপসহীন পরিচয় প্রতিষ্ঠাকেও দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হিসেবে দেখছে দলটি।
গত ১৬ জানুয়ারি ইসলামী আন্দোলন আনুষ্ঠানিকভাবে ১১ দলীয় জোট ত্যাগ করে। শরিয়াহ আইন প্রশ্নে আপস, আসন সমঝোতায় জটিলতা, আস্থার ঘাটতি এবং বিএনপিকে নিয়ে জামায়াতের জাতীয় সরকার গঠনের উদ্যোগ-এসব অভিযোগ তুলে তারা জোট ছাড়ার ঘোষণা দেয়। পরে দলটির মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান জানান, ইসলামী আন্দোলন ২৬৮ আসনে এককভাবে নির্বাচন করবে এবং বাকি আসনে নীতি-আদর্শের মিল আছে-এমন প্রার্থীদের সমর্থন দেবে।
দলীয় সূত্র জানায়, শুরুতে ২৬ আসনে জয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও বাস্তবতা বিবেচনায় তা কমিয়ে আনা হয়েছে। সাম্প্রতিক অভ্যন্তরীণ জরিপে ৮-৯টি আসনে জয়ের সম্ভাবনা দেখা গেছে বলে শীর্ষ নেতারা দাবি করছেন। এখন অন্তত ১০ বা তার বেশি আসন পাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে প্রচারণা চলছে।
ঢাকা-৫ আসনে দলটির প্রার্থী হাজী মো. ইবরাহীমের পক্ষে জয়ের আশা দেখছে ইসলামী আন্দোলন। এছাড়া কুড়িগ্রাম, লক্ষ্মীপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী ও বরিশালের কয়েকটি আসনেও সম্ভাবনা দেখছেন নেতারা। বরিশাল-৪ ও বরিশাল-৬ আসন নিয়ে তারা বিশেষভাবে আশাবাদী। তবে বরিশাল-৫ ও নীলফামারীর একটি আসনে জয়ের সম্ভাবনা কম বলে অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে উঠে এসেছে।
দলটির নেতারা বলছেন, শরিয়াহ ইস্যুতে স্পষ্ট অবস্থান না থাকায় জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা হয়নি। উপজেলা নির্বাচনসহ কয়েকটি বিষয়েও ঐকমত্যে পৌঁছানো যায়নি। ইসলামী আন্দোলন ইতোমধ্যে শরিয়াহভিত্তিক রাষ্ট্র পরিচালনার অঙ্গীকার তুলে ধরে নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করেছে।
জোট ভাঙার পর দুই দলের মধ্যে উত্তেজনাও বেড়েছে। বিভিন্ন স্থানে কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগের ঘটনা ঘটেছে। ইসলামী আন্দোলনের নেতারা বলছেন, তারা আবারও প্রকাশ্যে জামায়াতবিরোধী অবস্থানে ফিরেছেন এবং ভবিষ্যতে আদর্শভিত্তিক রাজনীতিকেই অগ্রাধিকার দেবেন।
দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন বলেন, শরিয়াহ প্রশ্নে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না এবং ইসলামী আন্দোলন এককভাবেই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে।