সরকার সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী: প্রধানমন্ত্রী
জনপ্রশাসন সভাকক্ষে এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, তাঁর সরকার সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে। তিনি দেশের সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রতি সরকারের দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেছেন।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব)-এর সদস্যদের সঙ্গে এক বৈঠকে এ অবস্থান ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রতি তাঁর সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রীর উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি আরও বলেন, সরকার সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে। প্রধানমন্ত্রী নিয়মিত পত্রিকা পড়েন এবং টেলিভিশন দেখেন। গণমাধ্যমে দেশের যে চিত্র উঠে আসে, সে বিষয়ে তিনি খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন।
অতিরিক্ত প্রেস সচিব জানান, প্রধানমন্ত্রী ধৈর্যসহকারে নোয়াব সদস্যদের বক্তব্য শোনেন। নির্দিষ্ট সময় পরপর নোয়াব সদস্যদের সঙ্গে এ ধরনের মতবিনিময়ের আয়োজন করা হবে বলেও তিনি জানান।
আতিকুর রহমান রুমন আরও জানান, বৈঠকের শুরুতে নোয়াবের সভাপতি ও দৈনিক মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী বক্তব্য রাখেন। তিনি সংবাদপত্র শিল্পের বিদ্যমান সমস্যা তুলে ধরে সেগুলোর সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন।
নোয়াব সদস্যরা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির বিজয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান। তারা ২০০১ সালে বিএনপি সরকারের সময় সংবাদপত্রকে শিল্প হিসেবে ঘোষণা দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেন। বর্তমানে এটি একটি রুগ্ন শিল্পে পরিণত হয়েছে বলেও মন্তব্য করে নোয়াব।
বিগত সরকারের আমলের বিপুল সরকারি বিজ্ঞাপনের বিল বকেয়া রয়েছে উল্লেখ করে এ বিষয়ে নোয়াব নেতারা প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন।
পাশাপাশি সরকারের সঙ্গে সংবাদপত্র মালিকদের নিয়মিত বৈঠকের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী তিন মাস পরপর এ ধরনের বৈঠক আয়োজনের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।
অতিরিক্ত প্রেস সচিব জানান, বিগত সরকারের সময় সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো প্রত্যাহার এবং গ্রেফতারকৃত সাংবাদিকদের জামিনের বিষয়ে নোয়াব সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং এ বিষয়ে সহযোগিতা কামনা করেন।
দুপুর ২টা ২০ মিনিটে বৈঠকটি শুরু হয়ে শেষ হয় বিকেল সাড়ে ৩টায়। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী নোয়াব সদস্যদের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন এবং পরে তাদের সঙ্গে একটি গ্রুপ ছবি তোলেন। এটি নোয়াবের সঙ্গে সরকারের প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক বলে জানানো হয়।
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন নোয়াবের সহ-সভাপতি এএসএম শহীদুল্লাহ খান, কোষাধ্যক্ষ আলতামাশ কবির, সদস্য এ কে আজাদ, দৈনিক প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান, দ্য ডেইলি স্টার-এর সম্পাদক মাহফুজ আনাম, ইনকিলাব সম্পাদক এএমএম বাহাউদ্দীন, বণিক বার্তা সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, করতোয়া সম্পাদক মোজাম্মেল হক, পূর্বকোণ সম্পাদক ডা. রমীজউদ্দিন চৌধুরী এবং ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস-এর প্রকাশক নাসিম মনজুর।
বৈঠকে তথ্য উপদেষ্টা, তথ্য প্রতিমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন।