রাজশাহীতে রায়হান ও সাকিব হত্যা মামলায় সাবেক মেয়র লিটনসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজশাহীতে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারিক প্রক্রিয়ায় আসামিদের বিরুদ্ধে এই পরোয়ানা জারি করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর এস এম মইনুল করিম। এর আগে গত ৩১ জুলাই রাষ্ট্রপক্ষের (প্রসিকিউশন) পক্ষ থেকে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছিল।
প্রসিকিউশনের দাখিলকৃত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান চলাকালে রাজশাহী মহানগরীর বোয়ালিয়া থানার শেখেরচক স্বচ্ছ টাওয়ার সংলগ্ন লবঙ্গ রেস্টুরেন্টের সামনে আন্দোলনকারী রায়হান আলী গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। একই দিনে শাহ মখদুম কলেজের সামনে গুলিতে নিহত হন অপর আন্দোলনকারী আনজুম সাকিব। এছাড়া এই নৃশংস হামলায় সালমান ওরফে শিমুলসহ অন্তত ৪৫ জন আন্দোলনকারী গুরুতর আহত হন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, শেখেরচক স্বচ্ছ টাওয়ার এলাকা, শাহ মখদুম কলেজ প্রাঙ্গণ, পদ্মা নদীর বেড়িবাঁধ, আলুপট্টি মোড় এবং এর আশপাশের এলাকায় সংঘটিত এসব সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ড মানবতাবিরোধী অপরাধের আওতাভুক্ত এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের পরিপন্থী।
মামলায় অভিযুক্ত উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন,এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন, মো. আসাদুজ্জামান আসাদ, ডাবলু সরকার, বিপ্লব বিজয় তালুকদার, হুমায়ুন কবির, রকি কুমার ঘোষ, রাশিক দত্ত, জহিরুল ইসলাম রুবেল, বাপ্পী চৌধুরী রনি, মহিদুল ইসলাম মোস্তফা, খালিদ হাসান বিপ্লব, রাশেদুল করিম রোজেল, মেহেদী হাসান ওরফে রনি, জেডু সরকার ওরফে জাবেদুর রহমান, আব্দুল হামিদ সরকার ওরফে টেকন, আনোয়ার হোসেন ওরফে আনার, আরমান আলী, আব্দুল মোমিন, শাহাদত হোসেন শাহু, তৌহিদুল হক সুমন, মাহতাব হোসেন চৌধুরী, আলাউদ্দিন ওরফে আলাল, সরিফুল ইসলাম বাবু, মো. নাবিল হাসান, মাহমুদুল হাসান রাজীব, ফরহাদ হোসেন বিপ্লব, তৌরিদ আল মাসুদ রনি, মেহেদী হাসান রিমেল ওরফে রিগেন, আশরাফুল ইসলাম জাফর, সুকান্ত কুমার দাস, ফয়সাল আহমেদ রুনু, নূর মোহাম্মদ সিয়াম, আসাদুল্লাহ-হিল-গালিব, গোলাম কিবরিয়া, আলাল পারভেজ লুলু, মনিরুজ্জামান খান ওরফে মনির, শফিকুজ্জামান ওরফে শফিক এবং মোহাইমিনুল ইসলাম মানিক।