শুক্রবার , ১৫ মে ২০২৬
হোমসারাদেশপবা-মোহনপুরে মিলনের কড়া বার্তা

পবা-মোহনপুরে মিলনের কড়া বার্তা

নারী অধিকার বনাম ধর্মীয় রাজনীতি
favicon
স্টাফ রিপোর্টার :
পবা-মোহনপুরে মিলনের কড়া বার্তা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনে রাজনৈতিক বক্তব্য ক্রমেই আরও তীব্র ও আদর্শিক রূপ নিচ্ছে। নির্বাচনী মাঠে উন্নয়ন ও জনকল্যাণের পাশাপাশি এবার আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে নারী অধিকার ও রাষ্ট্র পরিচালনায় নারীর ভূমিকা। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে সরাসরি ও কঠোর অভিযোগ তুলেছেন বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন। সোমবার পবা উপজেলার দর্শনপাড়া ইউনিয়নে গণসংযোগকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মিলন বলেন, জামায়াতে ইসলামী নারীদের মানুষ হিসেবে নয়, বরং পণ্য হিসেবে দেখে এবং তাদের ঘরের চার দেয়ালে বন্দি করে রাখতে চায়। তিনি অভিযোগ করেন, জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বিভিন্ন সময়ে নারীদের নিয়ে অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন, যা একজন রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতার জন্য সম্পূর্ণ অনভিপ্রেত। মিলনের ভাষায়, এসব বক্তব্য আরও বেশি বিস্ময়কর, কারণ জামায়াত আমিরের স্ত্রী নিজেই একজন কর্মজীবী নারী। 


মিলন বলেন, জামায়াত জনগণের কল্যাণে নয়, বরং নিজেদের প্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষার জন্য রাজনীতি করে। তাদের রাজনীতিতে মানুষের অধিকার, বিশেষ করে নারীর মর্যাদা ও স্বাধীনতার কোনো স্থান নেই। তিনি দাবি করেন, চলতি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের কোনো নারী প্রার্থী না থাকাই প্রমাণ করে দলটি নারীদের নেতৃত্ব ও ক্ষমতায়নে বিশ্বাস করে না। বিএনপি প্রার্থী আরও বলেন, জামায়াত একটি চরম নারী বিদ্বেষী রাজনৈতিক শক্তি। তারা নারীদের ঘরের বাইরে আসাকে সমাজের জন্য হুমকি হিসেবে উপস্থাপন করে, যা একটি ভয়ংকর ও পশ্চাৎপদ মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই দল কখনো রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে দেশে নারীদের অবস্থা আফগানিস্তানের মতো হয়ে যাবে, যেখানে নারীরা শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক জীবনে প্রায় সম্পূর্ণভাবে বঞ্চিত।


এই কারণেই দলমত নির্বিশেষে সবাইকে দেশবিরোধী ও গণতন্ত্রবিরোধী শক্তিকে ভোট না দেওয়ার আহ্বান জানান মিলন। তার মতে, একটি আধুনিক ও উন্নয়নমুখী রাষ্ট্র গড়তে হলে নারী ও পুরুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করাই একমাত্র পথ।


নারীর ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নারী-পুরুষ উভয়েরই সমান অধিকার রয়েছে এবং প্রত্যেকে নিজ নিজ ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী জীবনযাপন করবে। নারীরা বাড়ির বাইরে গেলে ‘খারাপ হয়ে যায়’এ ধরনের ধারণাকে তিনি ভ্রান্ত ও কূপমণ্ডূকতা হিসেবে আখ্যা দেন। মিলন স্মরণ করিয়ে দেন, বিএনপির চেয়ারপারসন একজন নারী ছিলেন এবং এ কারণেই বিএনপি নারীর ক্ষমতায়ন ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় রাজনৈতিকভাবে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।


তিনি বলেন, যে দেশে জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী, সে দেশে নারীদের বাদ দিয়ে কখনোই টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। নারীদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত না হলে রাষ্ট্র কখনোই এগোতে পারে না।
স্থানীয় উন্নয়ন প্রসঙ্গে মিলন পবা-মোহনপুর এলাকার অবকাঠামোগত দুরবস্থার কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, এই অঞ্চলের রাস্তাঘাটের বাস্তব কোনো উন্নয়ন হয়নি। বিএনপি শাসনামলে যেসব সড়ক নির্মিত হয়েছিল, সেগুলোর ওপরই এলাকাবাসী এখনও নির্ভর করছে। তার অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে রাস্তা সংস্কারের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করেছে পতিত সরকারের দোসররা। কাজ না করেই অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে, যার ভোগান্তি আজও সাধারণ মানুষ বহন করছে।


মিলন জানান, নির্বাচিত হলে পবা-মোহনপুরের শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। কর্মমুখী শিক্ষা সম্প্রসারণ, শিক্ষার সঙ্গে খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলক করা এবং তরুণদের দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়নের মাধ্যমেই দেশের সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন।


গণসংযোগকালে তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন দর্শনপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক ও পবা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুস সালাম মাস্টার, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটন, দর্শনপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রমজান আলী, জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি মোজাদ্দেদ জামানি সুমনসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।


সব মিলিয়ে রাজশাহী-৩ আসনে এই নির্বাচন শুধু উন্নয়ন বা অবকাঠামোর হিসাবেই সীমাবদ্ধ নেই; বরং এটি পরিণত হচ্ছে নারী অধিকার, রাষ্ট্রীয় দর্শন ও রাজনৈতিক আদর্শের একটি স্পষ্ট মীমাংসার মঞ্চে। ভোটাররা এখন দেখছেন—কে কেবল প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন, আর কে রাষ্ট্রকে কোন পথে নিতে চান।

পবা-মোহনপুরে মিলনের কড়া বার্তা
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
দৈনিক উপচার
 শুক্রবার , ১৫ মে ২০২৬
হোমসারাদেশপবা-মোহনপুরে মিলনের কড়া বার্তা

পবা-মোহনপুরে মিলনের কড়া বার্তা

নারী অধিকার বনাম ধর্মীয় রাজনীতি
favicon
স্টাফ রিপোর্টার :
পবা-মোহনপুরে মিলনের কড়া বার্তা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনে রাজনৈতিক বক্তব্য ক্রমেই আরও তীব্র ও আদর্শিক রূপ নিচ্ছে। নির্বাচনী মাঠে উন্নয়ন ও জনকল্যাণের পাশাপাশি এবার আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে নারী অধিকার ও রাষ্ট্র পরিচালনায় নারীর ভূমিকা। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে সরাসরি ও কঠোর অভিযোগ তুলেছেন বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন। সোমবার পবা উপজেলার দর্শনপাড়া ইউনিয়নে গণসংযোগকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মিলন বলেন, জামায়াতে ইসলামী নারীদের মানুষ হিসেবে নয়, বরং পণ্য হিসেবে দেখে এবং তাদের ঘরের চার দেয়ালে বন্দি করে রাখতে চায়। তিনি অভিযোগ করেন, জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বিভিন্ন সময়ে নারীদের নিয়ে অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন, যা একজন রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতার জন্য সম্পূর্ণ অনভিপ্রেত। মিলনের ভাষায়, এসব বক্তব্য আরও বেশি বিস্ময়কর, কারণ জামায়াত আমিরের স্ত্রী নিজেই একজন কর্মজীবী নারী। 


মিলন বলেন, জামায়াত জনগণের কল্যাণে নয়, বরং নিজেদের প্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষার জন্য রাজনীতি করে। তাদের রাজনীতিতে মানুষের অধিকার, বিশেষ করে নারীর মর্যাদা ও স্বাধীনতার কোনো স্থান নেই। তিনি দাবি করেন, চলতি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের কোনো নারী প্রার্থী না থাকাই প্রমাণ করে দলটি নারীদের নেতৃত্ব ও ক্ষমতায়নে বিশ্বাস করে না। বিএনপি প্রার্থী আরও বলেন, জামায়াত একটি চরম নারী বিদ্বেষী রাজনৈতিক শক্তি। তারা নারীদের ঘরের বাইরে আসাকে সমাজের জন্য হুমকি হিসেবে উপস্থাপন করে, যা একটি ভয়ংকর ও পশ্চাৎপদ মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই দল কখনো রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে দেশে নারীদের অবস্থা আফগানিস্তানের মতো হয়ে যাবে, যেখানে নারীরা শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক জীবনে প্রায় সম্পূর্ণভাবে বঞ্চিত।


এই কারণেই দলমত নির্বিশেষে সবাইকে দেশবিরোধী ও গণতন্ত্রবিরোধী শক্তিকে ভোট না দেওয়ার আহ্বান জানান মিলন। তার মতে, একটি আধুনিক ও উন্নয়নমুখী রাষ্ট্র গড়তে হলে নারী ও পুরুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করাই একমাত্র পথ।


নারীর ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নারী-পুরুষ উভয়েরই সমান অধিকার রয়েছে এবং প্রত্যেকে নিজ নিজ ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী জীবনযাপন করবে। নারীরা বাড়ির বাইরে গেলে ‘খারাপ হয়ে যায়’এ ধরনের ধারণাকে তিনি ভ্রান্ত ও কূপমণ্ডূকতা হিসেবে আখ্যা দেন। মিলন স্মরণ করিয়ে দেন, বিএনপির চেয়ারপারসন একজন নারী ছিলেন এবং এ কারণেই বিএনপি নারীর ক্ষমতায়ন ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় রাজনৈতিকভাবে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।


তিনি বলেন, যে দেশে জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী, সে দেশে নারীদের বাদ দিয়ে কখনোই টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। নারীদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত না হলে রাষ্ট্র কখনোই এগোতে পারে না।
স্থানীয় উন্নয়ন প্রসঙ্গে মিলন পবা-মোহনপুর এলাকার অবকাঠামোগত দুরবস্থার কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, এই অঞ্চলের রাস্তাঘাটের বাস্তব কোনো উন্নয়ন হয়নি। বিএনপি শাসনামলে যেসব সড়ক নির্মিত হয়েছিল, সেগুলোর ওপরই এলাকাবাসী এখনও নির্ভর করছে। তার অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে রাস্তা সংস্কারের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করেছে পতিত সরকারের দোসররা। কাজ না করেই অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে, যার ভোগান্তি আজও সাধারণ মানুষ বহন করছে।


মিলন জানান, নির্বাচিত হলে পবা-মোহনপুরের শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। কর্মমুখী শিক্ষা সম্প্রসারণ, শিক্ষার সঙ্গে খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলক করা এবং তরুণদের দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়নের মাধ্যমেই দেশের সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন।


গণসংযোগকালে তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন দর্শনপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক ও পবা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুস সালাম মাস্টার, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটন, দর্শনপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রমজান আলী, জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি মোজাদ্দেদ জামানি সুমনসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।


সব মিলিয়ে রাজশাহী-৩ আসনে এই নির্বাচন শুধু উন্নয়ন বা অবকাঠামোর হিসাবেই সীমাবদ্ধ নেই; বরং এটি পরিণত হচ্ছে নারী অধিকার, রাষ্ট্রীয় দর্শন ও রাজনৈতিক আদর্শের একটি স্পষ্ট মীমাংসার মঞ্চে। ভোটাররা এখন দেখছেন—কে কেবল প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন, আর কে রাষ্ট্রকে কোন পথে নিতে চান।

পবা-মোহনপুরে মিলনের কড়া বার্তা
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬