টাকা, স্বর্ণালংকার ও পরকীয়ার অভিযোগে চাঞ্চল্য
রাজশাহীর তানোর উপজেলায় নগদ ১০ লাখ টাকা, ৬ ভরি স্বর্ণালংকার ও ঘরের মূল্যবান আসবাবপত্র নিয়ে এক গৃহবধূ নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্বামী ফরিদ আলী তানোর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে তিনি স্ত্রীসহ মোট ৬ জনকে অভিযুক্ত করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন বছর আগে ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক পারিবারিকভাবে মোসা. শাবানা বেগমের সঙ্গে ফরিদ আলীর বিয়ে হয়। বিয়ের পর চাকরিসূত্রে ফরিদ আলী ঢাকায় অবস্থান করলেও তার স্ত্রী গ্রামের বাড়িতে পরিবারের সঙ্গে বসবাস করতেন।
ভুক্তভোগী ফরিদ আলীর দাবি, প্রায় তিন মাস আগে তার স্ত্রী শাবানা বেগম পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সহযোগিতায় তার কষ্টার্জিত নগদ ১০ লাখ টাকা, ৬ ভরি স্বর্ণালংকার এবং ঘরের আসবাবপত্রসহ আরও প্রায় ১০ লাখ টাকার মালামাল বাবার বাড়িতে নিয়ে যান। বিষয়টি পরে বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পারেন তিনি।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, শাবানা বেগমের বিরুদ্ধে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। স্বামীর দাবি, স্থানীয়ভাবে তার চলাফেরা নিয়ে নানা অভিযোগ ছিল এবং সম্প্রতি পরকীয়ার সম্পর্কের বিষয়ও সামনে আসে।
ফরিদ আলীর ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৯ মে বিকেলে তানোর উপজেলার কলমা বিল্লি এলাকায় শাবানা বেগমকে কথিত পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় স্থানীয় এক চৌকিদার দেখতে পান। পরে পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতায় ওই ব্যক্তি প্রেমিককে নিয়ে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে ফরিদ আলী বলেন, “আমার সংসারের সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। স্ত্রী নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও আসবাবপত্র নিয়ে চলে গেছে। আমি থানায় অভিযোগ করেছি। পুলিশ প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”
তিনি আরও জানান, ঘটনার পর থেকে স্ত্রী ও অভিযুক্তদের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেগুলো বন্ধ পাওয়া যায়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত শাবানা বেগম ও অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে তানোর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস.এম. মাসুদ পারভেজ বলেন,“একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তবে অভিযোগে উত্থাপিত পরকীয়া ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিষয়গুলো এখনো তদন্তাধীন এবং পুলিশের পক্ষ থেকে সেগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করা হয়নি।