পুঠিয়া এসি-ল্যান্ডের কক্ষে তাণ্ডব-দেড় বছরের জেলে যুবক
রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলা ভূমি অফিসে সরকারি কাজে বাধা, কর্মচারীকে মারধর ও রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তাকে প্রকাশ্যে হুমকির ঘটনায় এক যুবককে দেড় বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিবু দাস। দণ্ডপ্রাপ্ত যুবক নাইম আহমেদ (২৫) পুঠিয়া উপজেলার মাহেন্দ্রা গ্রামের নুর মোহাম্মদের ছেলে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন এসি-ল্যান্ড শিবু দাস নিজেই।
জানা গেছে, একটি খারিজ সংক্রান্ত কাজে গত রোববার থেকে ভূমি অফিসে নিয়মিত আসছিলেন নাইম আহমেদ। তবে ওই দিন জেলা সদরে পূর্বনির্ধারিত সরকারি সভায় অংশ নিতে এসি-ল্যান্ড সারাদিন অফিসের বাইরে ছিলেন। সভা শেষে পুঠিয়ায় আরেকটি সড়ক দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলা সামাল দিতে সরাসরি ঘটনাস্থলে যান তিনি। ফলে রোববার রাতে অফিসে ফিরলেও তখন আর সেবা কার্যক্রম চালানো সম্ভব হয়নি।
অফিসে গিয়ে এসি-ল্যান্ডকে না পেয়ে নাইম আহমেদ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। পরদিন সোমবার বিকেলে এসি-ল্যান্ড শিবু দাস তার কার্যালয়ে নিয়মিত শুনানি কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন। এ সময় নাইম আহমেদ শুনানি কক্ষে প্রবেশ করতে চাইলে অফিসের পিয়ন তাকে অপেক্ষা করতে বলেন। এতে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং পিয়নের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তা শারীরিক চোটপাটে রূপ নেয়।
ঘটনার একপর্যায়ে নাইম আহমেদ প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে বলেন, এখানে ভূমি অফিসই থাকবে না এবং এসি-ল্যান্ড কীভাবে এখানে চাকরি করেন সেটাও তিনি দেখে নেবেন। তার এমন হুমকিমূলক আচরণে অফিসের পরিবেশ অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে এবং সরকারি কাজে সরাসরি বাধা সৃষ্টি হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে আটক করা হয়। ঘটনার পর দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ১৮৬ ধারায় সরকারি কাজে বাধা প্রদান এবং ১৮৯ ধারায় সরকারি কর্মকর্তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অপরাধে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে দেড় বছরের কারাদণ্ড এবং ৫০০ টাকা জরিমানা প্রদান করা হয়। পরে সন্ধ্যায় তাকে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।
স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে ভূমি সংক্রান্ত সেবা নিতে এসে কিছু ব্যক্তি অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি ও হুমকিমূলক আচরণ করছেন, যা প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক। এ ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার মাধ্যমে সরকারি অফিসে শৃঙ্খলা রক্ষা ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণের বার্তা দেওয়া হয়েছে।
ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই বলছেন, ভূমি অফিসে দীর্ঘদিনের সেবা জটিলতা ও মানুষের চাপ থাকলেও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ নেই। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, সরকারি কাজে বাধা ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হেনস্থার ঘটনায় ভবিষ্যতেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।