বেগম জিয়া দেশের সর্বোচ্চ সম্মানিত নারী: মিলন
তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির সাবেক চেয়ারম্যান দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশের একজন সর্বোচ্চ সম্মানিত নারী বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহ-সম্পাদক এবং রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট শফিকুল হক মিলন।
বুধবার রাতে পবার নওহাটা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় বাগধানী মোড়ে বেগম জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।
এডভোকেট শফিকুল হক মিলন বলেন, পতিত সরকারের স্বৈরাচার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজের প্রাণ বাঁচাতে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। অথচ সেই সরকারই বেগম জিয়াকে চিকিৎসা নিতে না দিয়ে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে। তাঁর চিকিৎসা নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যও করা হয়েছে।
তিনি বলেন, অল্প বয়সে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সঙ্গে বেগম জিয়ার বিবাহ হয়। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি নাবালক দুই সন্তান তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকোকে নিয়ে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাতে বন্দি অবস্থায় চরম কষ্টের জীবন কাটান। সেই সময় থেকেই তিনি একজন দৃঢ়চেতা ও সাহসী নারী হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলেন।
বেগম জিয়াকে বীর মুক্তিযোদ্ধা উল্লেখ করে মিলন বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের পর তিনি বিএনপির নেতৃত্ব গ্রহণ করেন এবং স্বৈরাচার এরশাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করেন। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের পর শহীদ জিয়ার অসমাপ্ত কাজ ও ১৯ দফা বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেন।
তিনি আরও বলেন, বেগম জিয়া নারীর ক্ষমতায়ন ও শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। নারী ও শিশু মন্ত্রণালয়, মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় গঠন, প্রেসিডেন্সিয়াল শাসনব্যবস্থা বাতিল করে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনর্বহাল এবং মেয়েদের পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা চালু করেন।
দোয়া মাহফিলে তিনি জানান, বৃহস্পতিবার রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচার শুরু হবে। এ সময় তিনি নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণকে ধানের শীষের পক্ষে পাড়া-মহল্লায় গণসংযোগ ও প্রচারণা জোরদার করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি নির্বাচনী এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার অনুরোধ করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নওহাটা পৌর বিএনপির ৪ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি কামাল হোসেন এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক হুরমত আলী। এতে জেলা ও পৌর বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী এবং স্থানীয় জনগণ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান শেষে বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।