১০ হাজার কোটি টাকা দিয়েও আমাকে কেনা যাবে না
সিলেটে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইকে কেন্দ্র করে পক্ষপাতিত্ব ও ঘুস লেনদেনের অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে মন্তব্য করেছেন সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সারওয়ার আলম। তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেছেন, ১০ কোটি টাকা তো দূরের কথা, কেউ যদি এক টাকা ঘুস নেওয়ারও প্রমাণ দিতে পারে, তাহলে তিনি সঙ্গে সঙ্গে চাকরি ছেড়ে দেবেন এবং যে কোনো শাস্তি মাথা পেতে নেবেন।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন ডিসি সারওয়ার। তিনি বলেন, “আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই—১০ কোটি টাকা না, ১০ হাজার কোটি টাকা দিয়েও সারওয়ার সাহেবকে কেনা যাবে না। আমি দুর্নীতি করি না, করতেও দিই না। কাজেই পাঁচ কোটি বা দশ কোটি—এ ধরনের গুজবে বিভ্রান্ত হওয়ার কোনো কারণ নেই।”
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অভিযোগের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে। এসব ভুয়া সংবাদ ছড়িয়ে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার পাশাপাশি জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার চেষ্টা চলছে। এ ধরনের অপপ্রচারের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সিলেট-১ আসনের মনোনয়ন বাতিল হওয়া এনসিপির প্রার্থী এহতেশাম হক মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তোলেন। এর পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সিলেট-৩ আসনের বিএনপির প্রার্থী আব্দুল মালিকের সঙ্গে জেলা প্রশাসকের আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ ছড়ানো হয়। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতেই বুধবার সন্ধ্যা ৬টায় নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার আয়োজন করেন ডিসি সারওয়ার।
মতবিনিময় সভায় তিনি আরও বলেন, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব বা আর্থিক লেনদেনের প্রশ্নই ওঠে না। দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত বিষয়ে আইন ও বিধি অনুযায়ী যাচাই-বাছাই করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মালেক ও রাশেদ নাগরিকত্ব ত্যাগের বিষয়ে হোম অফিসে আবেদনের রসিদ ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দিয়েছেন। অন্যদিকে এহতেশাম হক দ্বৈত নাগরিকত্ব ত্যাগের পক্ষে কোনো নথি বা আবেদন রসিদ জমা দিতে পারেননি। তাকে অতিরিক্ত সময় দেওয়া হলেও তিনি প্রয়োজনীয় প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হন। সে কারণেই আইন অনুযায়ী তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে বলে ব্যাখ্যা দেন ডিসি।
তিনি আরও জানান, মালেক ও রাশেদের জমা দেওয়া কাগজপত্রের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সেগুলো লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনে পাঠানো হয়েছে। ভবিষ্যতে যদি প্রমাণিত হয় যে তারা নাগরিকত্ব ত্যাগ করেননি, তাহলে নির্বাচিত হলেও তাদের সংসদ সদস্যপদ অবৈধ বলে গণ্য হবে।
সবশেষে ডিসি সারওয়ার বলেন, নির্বাচন একটি সংবিধানিক প্রক্রিয়া। এখানে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ বা কোনো ধরনের প্রভাবের সুযোগ নেই। আইন ও নিয়মের বাইরে গিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রশ্নই আসে না। জনগণকে গুজব ও অপপ্রচার থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।