শুক্রবার , ১৫ মে ২০২৬
হোমসারাদেশচাঁপাইনবাবগঞ্জে জনবান্ধব পুলিশিং, দালালমুক্ত থানা ও দ্রুত সেবায় ফিরছে মানুষের আস্থা

চাঁপাইনবাবগঞ্জে জনবান্ধব পুলিশিং, দালালমুক্ত থানা ও দ্রুত সেবায় ফিরছে মানুষের আস্থা

favicon
ফয়সাল আজম অপু, নিজস্ব প্রতিবেদক:-
চাঁপাইনবাবগঞ্জে জনবান্ধব পুলিশিং, দালালমুক্ত থানা ও দ্রুত সেবায় ফিরছে মানুষের আস্থা

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। নতুন পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই গৌতম কুমার বিশ্বাসের নেতৃত্বে জেলা পুলিশের কার্যক্রমে এসেছে দৃশ্যমান ও ইতিবাচক পরিবর্তন। অপরাধ নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে জনবান্ধব পুলিশিং—সব ক্ষেত্রেই এক নতুন গতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

দায়িত্ব গ্রহণের অল্প সময়ের মধ্যেই পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস দক্ষতা, নিষ্ঠা ও ন্যায়পরায়ণতার পরিচয় দিয়ে জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে সুসংগঠিত করতে সক্ষম হয়েছেন। রাজনৈতিক কিংবা সামাজিক চাপ উপেক্ষা করে আইনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দায়িত্ব পালনের কারণে তিনি সাধারণ মানুষের পাশাপাশি প্রশাসনের ভেতরেও আস্থা অর্জন করেছেন।

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, তার কঠোর কিন্তু মানবিক নেতৃত্বই চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশের বর্তমান সাফল্যের মূল ভিত্তি।

সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল থানায় দালাল নির্ভরতা ও হয়রানি। সেই বাস্তবতায় পুলিশ সুপার চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সব থানাকে দালালমুক্ত করার উদ্যোগ নেন। ইতোমধ্যে একাধিক থানায় দালালমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

থানায় সেবা নিতে আসা ভুক্তভোগীরা এখন সরাসরি ওসি কিংবা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলতে পারছেন। এতে সময় ও ভোগান্তি দুটোই কমেছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশ মাদকবিরোধী অভিযানে নতুন করে সক্রিয় হয়েছে। নিয়মিত মাদক উদ্ধার অভিযান, অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদারের ফলে অপরাধ প্রবণতা কমছে বলে স্থানীয়দের অভিমত।

একই সঙ্গে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন এনে জনদুর্ভোগ কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা শহরবাসীর স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।

যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত পুলিশি সহায়তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি থানায় কুইক রেসপন্স টিম গঠন করা হয়েছে। ফলে ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারছে, যা অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।

পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস অন্যতম ব্যতিক্রমী উদ্যোগ হলো সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের ব্যবস্থা। তার মোবাইল নম্বর উন্মুক্ত থাকায় সাধারণ মানুষ প্রয়োজনে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারছেন। এতে করে পুলিশের জবাবদিহিতা যেমন বেড়েছে, তেমনি মানুষের আস্থাও দৃঢ় হয়েছে।

এ বিষয়ে পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস বলেন, সাধারণ মানুষ যেন থানায় এসে হয়রানির শিকার না হয় এবং দ্রুত ন্যায়বিচার পায়—এটাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। এই পথে কাজ করতে গিয়ে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে, তবে আমরা দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাচ্ছি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সব থানাকে জনকল্যাণমুখী ও নিরীহ মানুষের ভরসাস্থল হিসেবে গড়ে তুলতে ধারাবাহিকভাবে নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

পুলিশ সুপার আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে বলেন, নির্বাচনে পুলিশ হবে নিরপেক্ষ ও আস্থার প্রতীক, নির্বাচন পূর্ববর্তী, নির্বাচনকালীন এবং নির্বাচন পরবর্তী এই তিন ধাপেই পুলিশের উপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে বদ্ধপরিকর। সরকার একটি অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করছে এবং সেই লক্ষ্য অর্জনে পুলিশকে জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে।

নির্বাচনে পুলিশ সদস্যরা সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবে বলেও জানিয়েছেন পুলিশ সুপার। তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, নির্বাচনের সময় মাঠে অবস্থানরত প্রত্যেক পুলিশ সদস্য হবে জনগণের বন্ধু ও আস্থার প্রতীক। পুলিশ হবে কঠোরভাবে নিরপেক্ষ।

একজন ভুক্তভোগী বলেন, আগে থানায় যেতে ভয় লাগত। এখন সেই ভয় আর নেই। সরাসরি ওসির সঙ্গে কথা বলা যায়। এমনকি নতুন এসপি স্যারের সঙ্গে মোবাইলে কথা বলে দ্রুত সেবা পেয়েছি।

সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও মনে করছেন, পুলিশের বর্তমান ভূমিকা চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় একটি নিরাপদ ও নিশ্চিন্ত পরিবেশ নিশ্চিত করবে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জবাসীর প্রত্যাশা—এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে জেলা পুলিশ সত্যিকার অর্থেই সাধারণ মানুষের শেষ ভরসাস্থল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। জনবান্ধব, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক পুলিশিংয়ের এই উদ্যোগ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার পাঁচ থানাকে আইনশৃঙ্খলার ক্ষেত্রে একটি আদর্শ মডেলে পরিণত করতে পারে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে জনবান্ধব পুলিশিং, দালালমুক্ত থানা ও দ্রুত সেবায় ফিরছে মানুষের আস্থা
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
০৬ জানুয়ারি ২০২৬
দৈনিক উপচার
 শুক্রবার , ১৫ মে ২০২৬
হোমসারাদেশচাঁপাইনবাবগঞ্জে জনবান্ধব পুলিশিং, দালালমুক্ত থানা ও দ্রুত সেবায় ফিরছে মানুষের আস্থা

চাঁপাইনবাবগঞ্জে জনবান্ধব পুলিশিং, দালালমুক্ত থানা ও দ্রুত সেবায় ফিরছে মানুষের আস্থা

favicon
ফয়সাল আজম অপু, নিজস্ব প্রতিবেদক:-
চাঁপাইনবাবগঞ্জে জনবান্ধব পুলিশিং, দালালমুক্ত থানা ও দ্রুত সেবায় ফিরছে মানুষের আস্থা

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। নতুন পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই গৌতম কুমার বিশ্বাসের নেতৃত্বে জেলা পুলিশের কার্যক্রমে এসেছে দৃশ্যমান ও ইতিবাচক পরিবর্তন। অপরাধ নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে জনবান্ধব পুলিশিং—সব ক্ষেত্রেই এক নতুন গতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

দায়িত্ব গ্রহণের অল্প সময়ের মধ্যেই পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস দক্ষতা, নিষ্ঠা ও ন্যায়পরায়ণতার পরিচয় দিয়ে জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে সুসংগঠিত করতে সক্ষম হয়েছেন। রাজনৈতিক কিংবা সামাজিক চাপ উপেক্ষা করে আইনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দায়িত্ব পালনের কারণে তিনি সাধারণ মানুষের পাশাপাশি প্রশাসনের ভেতরেও আস্থা অর্জন করেছেন।

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, তার কঠোর কিন্তু মানবিক নেতৃত্বই চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশের বর্তমান সাফল্যের মূল ভিত্তি।

সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল থানায় দালাল নির্ভরতা ও হয়রানি। সেই বাস্তবতায় পুলিশ সুপার চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সব থানাকে দালালমুক্ত করার উদ্যোগ নেন। ইতোমধ্যে একাধিক থানায় দালালমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

থানায় সেবা নিতে আসা ভুক্তভোগীরা এখন সরাসরি ওসি কিংবা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলতে পারছেন। এতে সময় ও ভোগান্তি দুটোই কমেছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশ মাদকবিরোধী অভিযানে নতুন করে সক্রিয় হয়েছে। নিয়মিত মাদক উদ্ধার অভিযান, অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদারের ফলে অপরাধ প্রবণতা কমছে বলে স্থানীয়দের অভিমত।

একই সঙ্গে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন এনে জনদুর্ভোগ কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা শহরবাসীর স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।

যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত পুলিশি সহায়তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি থানায় কুইক রেসপন্স টিম গঠন করা হয়েছে। ফলে ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারছে, যা অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।

পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস অন্যতম ব্যতিক্রমী উদ্যোগ হলো সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের ব্যবস্থা। তার মোবাইল নম্বর উন্মুক্ত থাকায় সাধারণ মানুষ প্রয়োজনে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারছেন। এতে করে পুলিশের জবাবদিহিতা যেমন বেড়েছে, তেমনি মানুষের আস্থাও দৃঢ় হয়েছে।

এ বিষয়ে পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস বলেন, সাধারণ মানুষ যেন থানায় এসে হয়রানির শিকার না হয় এবং দ্রুত ন্যায়বিচার পায়—এটাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। এই পথে কাজ করতে গিয়ে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে, তবে আমরা দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাচ্ছি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সব থানাকে জনকল্যাণমুখী ও নিরীহ মানুষের ভরসাস্থল হিসেবে গড়ে তুলতে ধারাবাহিকভাবে নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

পুলিশ সুপার আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে বলেন, নির্বাচনে পুলিশ হবে নিরপেক্ষ ও আস্থার প্রতীক, নির্বাচন পূর্ববর্তী, নির্বাচনকালীন এবং নির্বাচন পরবর্তী এই তিন ধাপেই পুলিশের উপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে বদ্ধপরিকর। সরকার একটি অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করছে এবং সেই লক্ষ্য অর্জনে পুলিশকে জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে।

নির্বাচনে পুলিশ সদস্যরা সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবে বলেও জানিয়েছেন পুলিশ সুপার। তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, নির্বাচনের সময় মাঠে অবস্থানরত প্রত্যেক পুলিশ সদস্য হবে জনগণের বন্ধু ও আস্থার প্রতীক। পুলিশ হবে কঠোরভাবে নিরপেক্ষ।

একজন ভুক্তভোগী বলেন, আগে থানায় যেতে ভয় লাগত। এখন সেই ভয় আর নেই। সরাসরি ওসির সঙ্গে কথা বলা যায়। এমনকি নতুন এসপি স্যারের সঙ্গে মোবাইলে কথা বলে দ্রুত সেবা পেয়েছি।

সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও মনে করছেন, পুলিশের বর্তমান ভূমিকা চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় একটি নিরাপদ ও নিশ্চিন্ত পরিবেশ নিশ্চিত করবে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জবাসীর প্রত্যাশা—এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে জেলা পুলিশ সত্যিকার অর্থেই সাধারণ মানুষের শেষ ভরসাস্থল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। জনবান্ধব, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক পুলিশিংয়ের এই উদ্যোগ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার পাঁচ থানাকে আইনশৃঙ্খলার ক্ষেত্রে একটি আদর্শ মডেলে পরিণত করতে পারে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে জনবান্ধব পুলিশিং, দালালমুক্ত থানা ও দ্রুত সেবায় ফিরছে মানুষের আস্থা
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
০৬ জানুয়ারি ২০২৬