শুক্রবার , ১৫ মে ২০২৬
হোমসারাদেশকুড়ালের কোপে আহত মামুন-মাথায় ১১ সেলাই
বাঘায় সালিসের পরও রক্তঝরা প্রতিশোধ

কুড়ালের কোপে আহত মামুন-মাথায় ১১ সেলাই

favicon
সাজ্জাদ মাহমুদ সুইট, বাঘা প্রতিনিধি:-
কুড়ালের কোপে আহত মামুন-মাথায় ১১ সেলাই
হামলায় গুরুতর আহত মামুনের মাথায় দিতে হয়েছে ১১টি সেলাই।

রাজশাহীর বাঘায় পূর্ব শত্রুতার জেরে এক ব্যক্তির ওপর নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটেছে। গ্রাম্য সালিসে মীমাংসার পরও প্রতিশোধের আগুনে জ্বলেই মামুন হক (৩৮) নামের ওই ব্যক্তির ওপর চালানো হয় পরিকল্পিত আক্রমণ। হামলায় গুরুতর আহত মামুনের মাথায় দিতে হয়েছে ১১টি সেলাই। ঘটনাটি এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সকাল ৯টার দিকে বাঘা উপজেলার মনিগ্রাম ইউনিয়নের গঙ্গারামপুর গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহত মামুন ওই গ্রামের মৃত আব্দুল জলিল সরকারের ছেলে। ঘটনার পর স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে দ্রুত বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

মামুন হকের দায়ের করা লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, এর আগের দিন ২৯ ডিসেম্বর রাতে মনিগ্রাম বাজারে পূর্ব শত্রুতার জেরে জয়নাল আবেদিন গরু জবাইয়ের ছুরি নিয়ে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে খুঁজতে থাকে। বাজারের লোকজন বিষয়টি টের পেয়ে তাকে বাধা দেন এবং ছুরিটি কেড়ে নেন। পরদিন ৩০ ডিসেম্বর রাতে গ্রাম্য সালিসের মাধ্যমে স্থানীয় নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়। সালিসে ভবিষ্যতে কোনো ঝামেলায় না জড়ানোর কথাও বলা হয়েছিল।

কিন্তু সালিসের একদিন পরই পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। বুধবার সকালে গঙ্গারামপুর গ্রামে একটি কাঁচা রাস্তায় ভাগ্নে জামাইয়ের বাড়ি নির্মাণ নিয়ে আলোচনা করছিলেন মামুন। এ সময় জয়নাল আবেদিনের নির্দেশে অপর অভিযুক্ত জিয়াউল হক ও আশরাফুল ইসলামের সহায়তায় তার ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, জয়নাল আবেদিন চাইনিজ কুড়াল দিয়ে মামুনের মাথার ডান পাশে আঘাত করে। এতে তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এরপর জিয়াউল হক লোহার শাবল এবং আশরাফুল ইসলাম বাঁশের লাঠি দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি আঘাত করে।

স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে প্রত্যক্ষদর্শীদের সহায়তায় মোটরসাইকেলে করে মামুনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, মাথার গুরুতর জখমে তাকে ১১টি সেলাই দিতে হয়েছে।

মনিগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুকুল হোসেন বলেন, আগের বিরোধ নিয়ে সালিসে বসে শান্তিপূর্ণ সমাধান করা হয়েছিল। কিন্তু এর পরদিনই এমন হামলার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক।

এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বাঘা থানার উপপরিদর্শক (নিঃ) আবু জামিল হাসান জানান, ঘটনার দিনই তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। অভিযুক্তরা বর্তমানে পলাতক রয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।

সালিসের পরও প্রকাশ্যে এমন সহিংসতা স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি করেছে। দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এলাকায় ক্ষোভ বাড়ছে।


কুড়ালের কোপে আহত মামুন-মাথায় ১১ সেলাই
বাঘায় সালিসের পরও রক্তঝরা প্রতিশোধ
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
০২ জানুয়ারি ২০২৬
দৈনিক উপচার
 শুক্রবার , ১৫ মে ২০২৬
হোমসারাদেশকুড়ালের কোপে আহত মামুন-মাথায় ১১ সেলাই
বাঘায় সালিসের পরও রক্তঝরা প্রতিশোধ

কুড়ালের কোপে আহত মামুন-মাথায় ১১ সেলাই

favicon
সাজ্জাদ মাহমুদ সুইট, বাঘা প্রতিনিধি:-
কুড়ালের কোপে আহত মামুন-মাথায় ১১ সেলাই
হামলায় গুরুতর আহত মামুনের মাথায় দিতে হয়েছে ১১টি সেলাই।

রাজশাহীর বাঘায় পূর্ব শত্রুতার জেরে এক ব্যক্তির ওপর নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটেছে। গ্রাম্য সালিসে মীমাংসার পরও প্রতিশোধের আগুনে জ্বলেই মামুন হক (৩৮) নামের ওই ব্যক্তির ওপর চালানো হয় পরিকল্পিত আক্রমণ। হামলায় গুরুতর আহত মামুনের মাথায় দিতে হয়েছে ১১টি সেলাই। ঘটনাটি এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সকাল ৯টার দিকে বাঘা উপজেলার মনিগ্রাম ইউনিয়নের গঙ্গারামপুর গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহত মামুন ওই গ্রামের মৃত আব্দুল জলিল সরকারের ছেলে। ঘটনার পর স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে দ্রুত বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

মামুন হকের দায়ের করা লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, এর আগের দিন ২৯ ডিসেম্বর রাতে মনিগ্রাম বাজারে পূর্ব শত্রুতার জেরে জয়নাল আবেদিন গরু জবাইয়ের ছুরি নিয়ে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে খুঁজতে থাকে। বাজারের লোকজন বিষয়টি টের পেয়ে তাকে বাধা দেন এবং ছুরিটি কেড়ে নেন। পরদিন ৩০ ডিসেম্বর রাতে গ্রাম্য সালিসের মাধ্যমে স্থানীয় নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়। সালিসে ভবিষ্যতে কোনো ঝামেলায় না জড়ানোর কথাও বলা হয়েছিল।

কিন্তু সালিসের একদিন পরই পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। বুধবার সকালে গঙ্গারামপুর গ্রামে একটি কাঁচা রাস্তায় ভাগ্নে জামাইয়ের বাড়ি নির্মাণ নিয়ে আলোচনা করছিলেন মামুন। এ সময় জয়নাল আবেদিনের নির্দেশে অপর অভিযুক্ত জিয়াউল হক ও আশরাফুল ইসলামের সহায়তায় তার ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, জয়নাল আবেদিন চাইনিজ কুড়াল দিয়ে মামুনের মাথার ডান পাশে আঘাত করে। এতে তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এরপর জিয়াউল হক লোহার শাবল এবং আশরাফুল ইসলাম বাঁশের লাঠি দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি আঘাত করে।

স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে প্রত্যক্ষদর্শীদের সহায়তায় মোটরসাইকেলে করে মামুনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, মাথার গুরুতর জখমে তাকে ১১টি সেলাই দিতে হয়েছে।

মনিগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুকুল হোসেন বলেন, আগের বিরোধ নিয়ে সালিসে বসে শান্তিপূর্ণ সমাধান করা হয়েছিল। কিন্তু এর পরদিনই এমন হামলার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক।

এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বাঘা থানার উপপরিদর্শক (নিঃ) আবু জামিল হাসান জানান, ঘটনার দিনই তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। অভিযুক্তরা বর্তমানে পলাতক রয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।

সালিসের পরও প্রকাশ্যে এমন সহিংসতা স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি করেছে। দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এলাকায় ক্ষোভ বাড়ছে।


কুড়ালের কোপে আহত মামুন-মাথায় ১১ সেলাই
বাঘায় সালিসের পরও রক্তঝরা প্রতিশোধ
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
০২ জানুয়ারি ২০২৬