ডেঙ্গুর প্রকোপ: ২৪ ঘণ্টায় ৭ জনের প্রাণহানি
দেশব্যাপী মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে, যার ফলে চলতি বছরে মশাবাহিত এই রোগে মোট প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৬৪ জনে। একই সময়ে নতুন করে আরও ১ হাজার ৩৭৩ জন ডেঙ্গু রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো নিয়মিত ডেঙ্গু সংক্রান্ত নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত একদিনে মারা যাওয়া সাতজন রোগীর সবাই ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন। অন্যদিকে সারাদেশে হাসপাতালে নতুন রোগী ভর্তির ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যা লক্ষ্য করা গেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ৩২০ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন সিটি করপোরেশন এলাকার বাইরের ঢাকা বিভাগের জেলাগুলোতে। এ ছাড়া একই সময়ে বরিশাল বিভাগে ২২৫ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ২১১ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৯৭ জন, খুলনা বিভাগে ১৫৫ জন এবং রাজশাহী বিভাগে ১১১ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। পাশাপাশি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৭১ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৪৫ জন, রংপুর বিভাগে ২৮ জন এবং সিলেট বিভাগে ১০ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে আজ বুধবার পর্যন্ত সারাদেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মোট ৩৬৪ জনের মৃত্যু হলো। বিভাগভিত্তিক মৃত্যু পর্যালোচনায় দেখা যায়, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনসহ পুরো ঢাকা বিভাগেই সর্বোচ্চ ১৭৮ জন ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এর বাইরে বিভাগীয় পর্যায়ে খুলনা বিভাগে ৬৫ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৩২ জন, বরিশাল বিভাগে ২৮ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ২৭ জন এবং রাজশাহী বিভাগে ২৭ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। এ ছাড়া রংপুর বিভাগে ৭ জন ও সিলেট বিভাগে চারজন মারা গেছেন।
চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানান, থেমে থেমে বৃষ্টির কারণে জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে এডিস মশার লার্ভা বংশবিস্তার করায় সংক্রমণ বাড়ছে। জ্বর দেখা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া, পর্যাপ্ত তরল খাবার গ্রহণ এবং নিজ নিজ বাসাবাড়ির আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে ডেঙ্গুর প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাসহ স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষকে মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করার আহ্বান জানানো হয়েছে।