সেনাসদস্য পরিচয়ে জাল টাকা দিয়ে স্বর্ণ হাতিয়ে নেওয়া চক্রের ২ সদস্য গ্রেপ্তার
রাজশাহী মহানগরীর ব্যস্ততম ব্যবসাকেন্দ্র সাহেববাজারে জাল টাকার বান্ডিল দিয়ে মূল্যবান স্বর্ণের চেইন আত্মসাতের ঘটনায় আন্তজেলা প্রতারক চক্রের মূল হোতাসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় রাজশাহী ও বগুড়ার দুটি আলাদা জুয়েলারি দোকান থেকে অভিনব কৌশলে হাতিয়ে নেওয়া দুটি স্বর্ণের চেইন উদ্ধার করা হয়েছে।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন আরএমপির মুখপাত্র ও উপপুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান। এর আগে আরএমপির বোয়ালিয়া মডেল থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রাজধানী ঢাকার খিলক্ষেত এলাকায় সফল অভিযান পরিচালনা করে তাঁদের গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন ঝালকাঠি সদর উপজেলার উত্তর মারাবাটি এলাকার হারুন অর রশিদের ছেলে মো. রিয়াজুল ইসলাম এবং কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার লড়িবাগ এলাকার আলফু মিয়ার ছেলে মো. রোমান। তাঁদের মধ্যে রিয়াজুল ঢাকার খিলক্ষেত টানপাড়া এলাকায় ভাড়া থাকতেন এবং রোমান একই এলাকার জামতলা মোড়ে অবস্থিত ‘মা জুয়েলার্স’-এর স্বত্বাধিকারী।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে সাহেববাজারের ‘আশা জুয়েলারি স্টোরে’ যান রিয়াজুল ইসলাম। সেখানে নিজেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সৈনিক পরিচয় দিয়ে তিনি তাঁর ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তার মেয়ের বিয়ের উপহার হিসেবে গহনা কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেন। ওই দিন ৭০০ টাকা দিয়ে একটি নাকফুল কেনার পাশাপাশি আট আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন পরে এসে নগদ মূল্যে নিয়ে যাওয়ার কথা জানান। পরবর্তীতে গত ২৭ সেপ্টেম্বর তিনি পুনরায় দোকানে এসে চেইনটি দাবি করেন। তখন দোকানে ওই মানের চেইন না থাকায় পাশের দোকান থেকে ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা বাজারমূল্যের ২২ ক্যারেটের একটি স্বর্ণের চেইন এনে তাঁকে দেওয়া হয়। চেইনটি হাতে পাওয়ার পর রিয়াজুল এক হাজার টাকা মূল্যমানের ১১৫টি নতুন নোটের একটি বান্ডিল দোকানির হাতে দেন। দোকানমালিকের বাবা নোটগুলো যাচাইয়ের জন্য পাশের দোকানে গেলে সেগুলো জাল বলে ধরা পড়ে, তবে ততক্ষণে চেইন নিয়ে কৌশলে সটকে পড়েন রিয়াজুল।
ঘটনার পর পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে অভিযুক্তের অবস্থান শনাক্ত করে। ঢাকার খিলক্ষেত থেকে রিয়াজুলকে গ্রেপ্তারের পর তাঁর স্বীকারোক্তি অনুযায়ী জানা যায়, হাতিয়ে নেওয়া চেইনটি তিনি খিলক্ষেতের মা জুয়েলার্সের মালিক রোমানের কাছে বিক্রি করেছিলেন। পরবর্তীতে রোমানকে গ্রেপ্তার করে সেই চেইনটি উদ্ধার করা হয়।
তদন্তে আরও বেরিয়ে আসে, একই প্রতারণামূলক কৌশলে রিয়াজুল গত ৬ অক্টোবর বগুড়া শহরের আনোয়ারা সুপার মার্কেটের ‘তামান্না জুয়েলার্স’ থেকেও ১ লাখ ২২ হাজার টাকার জাল নোট দিয়ে আট আনা তিন রতি ওজনের আরেকটি স্বর্ণের চেইন আত্মসাৎ করেছিলেন। পুলিশ সেই চেইনটিও উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রিয়াজুল ইসলাম দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন খাতে জাল নোট ব্যবহার করে প্রতারণা করে আসছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে এর আগেও রংপুরের বদরগঞ্জ থানা এবং ঢাকার খিলক্ষেত থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তার দুজনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।