বাঘায় ভেজাল গুড় তৈরির কারখানায় প্রশাসনের হানা
রাজশাহীর বাঘায় মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান ও বিষাক্ত কেমিক্যাল ব্যবহার করে ভেজাল গুড় প্রস্তুতের দায়ে এক ব্যক্তিকে অর্থদণ্ড প্রদান করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে কারখানা থেকে উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ ভেজাল গুড় ও খাদ্য তৈরিতে নিষিদ্ধ রাসায়নিক উপাদান প্রকাশ্য দিবালোকে বিনষ্ট করা হয়েছে। আজ বুধবার দুপুরে উপজেলার পীরগাছা বাজার সংলগ্ন নওটিকা এলাকায় এ সাঁড়াশি অভিযান চালানো হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাঘা উপজেলার আড়ানী ইউনিয়নের পীরগাছা বাজারের দক্ষিণ পাশে নওটিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ফটক সংলগ্ন নিজ বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে অস্বাস্থ্যকর ও অপদ্রব্য মিশ্রিত গুড় তৈরির কারখানা গড়ে তোলেন স্থানীয় বাসিন্দা মহসিনের ছেলে সোহেল। তিনি চিনি, চুন, কাপড়ের বিষাক্ত রং ও অনুমোদনহীন রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার করে খেজুরের কৃত্রিম গুড় তৈরি করে বিভিন্ন বাজারে সরবরাহ করে আসছিলেন। স্থানীয়দের এমন গোপন অভিযোগের ভিত্তিতে বাঘা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুসরাত জাহান অনন্যার নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত ওই বাড়িতে আকস্মিক অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযান পরিচালনাকালে সেখানে ভেজাল গুড় তৈরির হাতেনাতে প্রমাণ মেলে। পরে জব্দকৃত বিষাক্ত কেমিক্যাল ও প্রক্রিয়াজাত ভেজাল গুড় উপস্থিত জনসমক্ষে ধ্বংস করা হয়। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য প্রস্তুত ও মানবদেহের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ কেমিক্যাল ব্যবহারের দায়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪১ ধারা অনুযায়ী অভিযুক্ত সোহেলকে ৭ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে সেই জরিমানা আদায় করা হয়।
অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুসরাত জাহান অনন্যা জানান, জনস্বাস্থ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং খাদ্যদ্রব্যে ভেজালের বিস্তার রুখতে উপজেলা প্রশাসন আপসহীন অবস্থানে রয়েছে। খাদ্যে বিষাক্ত উপাদান মিশিয়ে মানুষের জীবন ঝুঁকিতে ফেলার কোনো সুযোগ নেই। জনস্বার্থে ভেজালবিরোধী এ ধরনের কঠোর অভিযান বাঘা উপজেলার সর্বত্র অব্যাহত থাকবে।