নওগাঁয় বিয়ের দাবিতে আদিবাসী তরুণীর অনশন, প্রেমিক পলাতক
নওগাঁর মান্দা উপজেলায় বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে অনশন করার পর এক
আদিবাসী তরুণী বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদে আশ্রয় নিয়েছেন। অভিযুক্ত প্রেমিক
ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন।
ভুক্তভোগী তরুণীর বয়স ১৯ বছর। তিনি
মান্দা উপজেলার ভারশোঁ ইউনিয়নের মহানগর আদিবাসী পাড়ার বাসিন্দা নিরঞ্জন
পাহানের মেয়ে মহিমা পাহান। অভিযুক্ত যুবকের নাম মো. নাদির (২১)। তিনি
ভালাইন ইউনিয়নের মদন চক গ্রামের জিল্লুর রহমানের ছেলে।
ভুক্তভোগী ও
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত এক বছর ধরে মহিমা পাহানের সঙ্গে নাদিরের প্রেমের
সম্পর্ক ছিল। মহিমার অভিযোগ, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে নাদির দীর্ঘদিন ধরে
তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক বজায় রাখেন।
গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়
নাদির মহিমাকে বিয়ের উদ্দেশ্যে তার মামীর বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে দুদিন
অবস্থানের পর শনিবার তাকে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসেন। তবে বাড়িতে পৌঁছানোর
কিছুক্ষণ পর কৌশলে পালিয়ে যান নাদির।
এরপর মহিমা নাদিরের বাড়িতেই
অবস্থান করেন এবং বিয়ের দাবিতে অনশন শুরু করেন। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে
স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে ভালাইন ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে আসা হয়।
বর্তমানে তিনি সেখানেই অবস্থান করছেন।
ভালাইন ইউনিয়ন পরিষদের
চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা মন্ডল বলেন, ‘ঘটনাটি আমরা অবগত হয়েছি। মেয়েটিকে
আপাতত ইউনিয়ন পরিষদে রাখা হয়েছে এবং তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। উভয়
পক্ষকে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে।’
সংরক্ষিত
নারী সদস্য লিলিফা জানান, ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে ভুক্তভোগী তরুণীর পাশে
থাকা হয়েছে। আইনি ও সামাজিকভাবে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগী তরুণী বলেন, নাদির তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে প্রতারণা করেছেন। বিয়ে ছাড়া তিনি বাড়ি ফিরতে চান না।
এ ঘটনায় স্থানীয় আদিবাসী নেতারা দ্রুত সামাজিক ও আইনি সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।