কৃষি, প্রযুক্তি ও কারিগরি শিক্ষায় কানাডার নিবিড় অংশীদারত্ব প্রত্যাশা রাষ্ট্রপতির
বাংলাদেশে কানাডার সরাসরি বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিধি আরও বিস্তৃত করার জন্য দেশটির সরকারের প্রতি জোর আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার বঙ্গভবনে বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং রাষ্ট্রপতির সঙ্গে এক আনুষ্ঠানিক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হলে তিনি এ আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি কানাডার সুদীর্ঘ গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য ও প্রাতিষ্ঠানিক রীতিনীতির ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং বাংলাদেশে টেকসই গণতান্ত্রিক কাঠামো গড়ে তোলার চলমান প্রক্রিয়ায় দেশটির কার্যকর অভিজ্ঞতা ও সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বিগত দীর্ঘ সময় ধরে গণতান্ত্রিক ধারা ও সংসদীয় রীতির কার্যকর অনুপস্থিতির কারণে বর্তমান প্রশাসনকে নানামুখী কাঠামোগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। এ বাস্তবতায় রাষ্ট্রব্যবস্থাকে জবাবদিহিমূলক করতে এবং গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে ইতোমধ্যে বিস্তৃত সংস্কার কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের ইতিবাচক অগ্রগতি তুলে ধরে হাইকমিশনার অজিত সিং জানান, বাংলাদেশ ও কানাডার মধ্যকার বার্ষিক দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ইতোমধ্যে ৪ বিলিয়ন কানাডীয় ডলার অতিক্রম করেছে এবং কৌশলগত সমন্বয়ের মাধ্যমে তা আরও বহুগুণ বৃদ্ধি করার অপার সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় রাষ্ট্রপতি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা, রাসায়নিক সার সরবরাহ, তথ্যপ্রযুক্তি এবং আউটসোর্সিংয়ের মতো উদীয়মান ক্ষেত্রগুলোতে কানাডার বলিষ্ঠ সহযোগিতা কামনা করেন। একই সাথে কানাডার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর আসন্ন ঢাকা সফর সম্পর্কে হাইকমিশনার রাষ্ট্রপতিকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেন।
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে হাইকমিশনার অজিত সিং উল্লেখ করেন, মানবিক কারণে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের সহায়তায় কানাডা সরকার এ পর্যন্ত প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ডলারের তাৎপর্যপূর্ণ আর্থিক ও মানবিক অনুদান প্রদান করেছে। এই দীর্ঘমেয়াদি সহায়তার জন্য কানাডা সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে রাষ্ট্রপতি জোর দিয়ে বলেন, রোহিঙ্গাদের নিজ ভূখণ্ড মিয়ানমারে নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক ফোরামে মিয়ানমারের ওপর কার্যকর রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখতে কানাডাকে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে।
দ্বিপাক্ষিক মানবসম্পদ উন্নয়ন প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি বলেন, বর্তমানে এক লাখেরও বেশি প্রবাসী বাংলাদেশি দক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কানাডার জাতীয় অর্থনীতি ও উন্নয়নে সক্রিয় অবদান রেখে চলেছেন। এর ধারাবাহিকতায় শিক্ষাক্ষেত্রে, বিশেষ করে কারিগরি ও প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ, নার্সিং এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানের উচ্চতর গবেষণায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য কানাডার সহযোগিতা বৃদ্ধির অনুরোধ জানান তিনি।
বৈঠকে রাষ্ট্রপতির সচিবগণ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কূটনীতিকবৃন্দ এবং কানাডার পক্ষে রাজনৈতিক কাউন্সেলর মার্কাস ডেভিস উপস্থিত ছিলেন।