প্রতিমায় শেষ আঁচড় ও কঠোর নিরাপত্তা বলয়
বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে রাজশাহী মহানগরীসহ জেলার ৯টি উপজেলার মণ্ডপগুলোতে জোরেশোরে চলছে বর্ণাঢ্য প্রস্তুতি। উৎসবের দিন ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে মণ্ডপে মণ্ডপে প্রতিমা নির্মাণে নির্ঘুম ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎশিল্পীরা। বাঁশ, কাঠ, বিচালি ও কাদামাটির কাঠামো পেরিয়ে শিল্পীদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় প্রতিমাগুলো এখন রূপ পাচ্ছে এক একটি অপরূপ শৈল্পিক অবয়বে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে মাটির প্রলেপ শুকানো ও মনের মাধুরী মিশিয়ে রঙের নিখুঁত কারুকাজ।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর রাজশাহীর ৪৮৯টি পূজা মণ্ডপে নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপনের লক্ষ্যে সরকারের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে ২৮৯ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। রাজশাহী জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আব্দুল হাই সরকার জানান, মহানগর এলাকার ৮৫টি এবং ৯টি উপজেলার ৪০৪টি মণ্ডপের প্রতিটির জন্য ৬০০ কেজি হারে মোট ২৮৯ টন চালের বরাদ্দ এসেছে। আরও ৭টি মণ্ডপের জন্য নতুন করে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দকৃত চাল দ্রুতই সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে মণ্ডপ পরিচালনা কমিটির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হবে। গত বছর জেলায় ৪৭২টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হলেও এবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৮৯টিতে, অর্থাৎ এ বছর জেলায় ১৭টি নতুন পূজামণ্ডপ যুক্ত হয়েছে।
উপজেলাওয়ারী পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মহানগর এলাকার ৮৫টি মণ্ডপ ছাড়াও গোদাগাড়ীতে ৪২টি, তানোরে ৫৯টি, পবায় ২৩টি, মোহনপুরে ২৫টি, বাগমায় ৮৬টি, দুর্গাপুরে ২৪টি, চারঘাটে ৪২টি, বাঘায় ৪৮টি এবং পুঠিয়ায় ৫৫টি মণ্ডপে উদযাপিত হবে শারদীয় দুর্গোৎসব। আগামী ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে উৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়ে ২১ অক্টোবর শুভ বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে সমাপ্তি ঘটবে। তবে ষষ্ঠীর আগেই দেবীর বোধন ও পঞ্চমীর আবহে নগরজুড়ে ছড়িয়ে পড়বে উৎসবের আমেজ।
এদিকে উৎসবের আনন্দকে শান্তিপূর্ণ, সৌহার্দ্যপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে গড়ে তোলা হয়েছে বহুমাত্রিক ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয়। ইতোমধ্যে জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের উদ্যোগে সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সাথে সমন্বিত মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মণ্ডপগুলোতে নিজস্ব সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও স্বেচ্ছাসেবক দল নিয়োজিত করার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির, পিপিএম জানান, মেট্রোপলিটন পুলিশ এলাকার আওতাধীন মণ্ডপগুলোতে কঠোর নজরদারি বজায় রাখা হয়েছে। নিয়মিত টহল ও চেকপোস্টের পাশাপাশি সাদা পোশাকে দায়িত্ব পালন করছে গোয়েন্দা নজরদারি টিম। যেসব স্থানে বর্তমানে প্রতিমা তৈরির কাজ চলছে, সেখানেও বাড়তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ, স্থানীয় প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো সমন্বিতভাবে মাঠে কাজ করছে। সব মিলিয়ে সম্প্রীতি ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপনে পদ্মাপাড়ের নগরী রাজশাহীতে বইছে শারদীয় উৎসবের পূর্ণ আবহ।