শুদ্ধ জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের স্বীকৃতিতে জাতীয় পুরস্কার পেল রাজশাহী সিটি করপোরেশন
জন্ম ও মৃত্যুর নির্ধারিত ৪৫ দিনের মধ্যে নির্ভুল ও শতভাগ শুদ্ধ নিবন্ধন নিশ্চিত করার গৌরবোজ্জ্বল স্বীকৃতি হিসেবে জাতীয় পর্যায়ে বিশেষ সম্মাননা পুরস্কার অর্জন করেছে রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক)।
মঙ্গলবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের গ্র্যান্ড বলরুমে জাতীয় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে এ স্বীকৃতি প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, এমপি এবং প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, এমপি যৌথভাবে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটনের হাতে এই সম্মাননা স্মারক ও প্রশংসাপত্র তুলে দেন।
স্থানীয় সরকার বিভাগের জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এ আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মো. মামুনুর রশিদ ভূঁঞা, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) ফারাহ শাম্মী, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ডেলিগেশনের হেড অব ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন ড. মিখাল ক্রেজা এবং ইউনিসেফ বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ জিলিয়ান মেলসপ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন রেজিস্ট্রার জেনারেল ড. আবু নছর মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ। এ সময় রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিমসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে সময়ানুবর্তিতা রক্ষা, তথ্যের নির্ভুলতা যাচাই এবং দ্রুততম সময়ে সেবার মান সুনিশ্চিত করে জাতীয় পর্যায়ে এই অনন্য গৌরব অর্জনের জন্য রাজশাহী সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন রাসিক প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন। একই সাথে নাগরিক সেবা কার্যক্রমকে গতিশীল করতে সার্বিক সহযোগিতা প্রদানের জন্য তিনি রাজশাহী মহানগরবাসীর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।
এক প্রতিক্রিয়ায় রাসিক প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, জন্মের পরপরই শিশুর মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং নাগরিক পরিচিতি সংরক্ষণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সম্পন্ন করা অত্যন্ত জরুরি। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই নাগরিক সেবাকে সম্পূর্ণ আধুনিক, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একনিষ্ঠ দায়িত্বশীলতা ও আন্তরিক সেবার ফলেই আজকের এই জাতীয় স্বীকৃতি অর্জন সম্ভব হয়েছে। এ পুরস্কার কাজের প্রতি দায়বদ্ধতা আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, ভবিষ্যতেও রাজশাহী নগরবাসীকে সব ধরনের নাগরিক সুবিধা আরও সহজ, দ্রুত ও কার্যকর উপায়ে পৌঁছে দিতে রাসিকের এ প্রয়াস অব্যাহত থাকবে।