আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় এমপি গাজী নজরুল ও প্রথম স্ত্রী গ্রেপ্তার
রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের সংসদ সদস্য ভবনে (ন্যাম ভবন) দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের করা আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম এবং তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগমকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ।
গতকাল রোববার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের একটি দায়িত্বশীল সূত্র গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, সংসদ সদস্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য আইনি প্রক্রিয়াগুলো অনুসরণ করে তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে এবং এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানানো হবে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গতকাল রোববার সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে খবর পেয়ে শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে। ঘটনার পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এমপি গাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগমকে নিজেদের হেফাজতে নেয় পুলিশ। পরবর্তীতে ঘটনাটিকে ঘিরে আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা প্রক্রিয়াধীন হলে তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
এর আগে চলতি বছরের জুলাই মাসে মরিয়ম খাতুনের সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত মুহূর্তের কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়। শুরুতে তাঁর সমর্থকরা ভিডিওগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি বলে দাবি করলেও ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠানগুলো সে দাবি নাকচ করে ভিডিওগুলোকে প্রকৃত হিসেবে শনাক্ত করে।
বিতর্কের মুখে গাজী নজরুল ইসলাম দাবি করেছিলেন, ভিডিওতে থাকা তরুণী তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী এবং প্রথম স্ত্রীর পূর্ণ সম্মতি নিয়েই তিনি পারিবারিকভাবে বিয়ে করেছেন। তবে মরিয়ম খাতুনের বিয়ের পরের একটি জীবনবৃত্তান্ত (বায়োডাটা) সামনে এলে নতুন করে বিতর্ক দানা বাঁধে, যেখানে বৈবাহিক অবস্থা ‘অবিবাহিত’ উল্লেখ ছিল।
এসব বিতর্কের জেরে গত ২২ জুলাই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে গাজী নজরুল ইসলামকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়। দলীয় অভ্যন্তরীণ তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে 'নৈতিক স্খলন'-এর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় দলীয় গঠনতন্ত্রের ৬২ ধারা মোতাবেক বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত জানিয়ে নির্বাচন কমিশনকেও চিঠি দেওয়া হয়েছিল।