পুঠিয়ায় দিনদুপুরে প্রবাসী ও দুই শিক্ষকের বাড়িতে চুরি: স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট
রাজশাহীর পুঠিয়ায় দিনের আলোতে এক প্রবাসী ও দুই স্কুল শিক্ষকের বাড়িতে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার উপজেলার গাং ধোপাপাড়া এলাকার হিন্দুপাড়া ও কারিগরপাড়ায় এসব চুরির ঘটনা ঘটে। সংঘবদ্ধ চোর চক্র ফাঁকা বাড়ির সুযোগ নিয়ে নগদ আড়াই লক্ষাধিক টাকা ও কয়েক ভরি স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গাং ধোপাপাড়ার হিন্দুপাড়া গ্রামের মৃত স্বপন কুমারের স্ত্রী ও স্থানীয় বিদ্যালয়ের শিক্ষক সুলতা রানী প্রতিদিনের মতো সকালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চলে যান। এ সময় বাড়িতে কোনো সদস্য না থাকার সুযোগে চোরেরা ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে। পরে তারা আলমারি ও ড্রয়ার ভেঙে প্রায় ৫ থেকে ৭ ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার এবং নগদ ৪৪ হাজার টাকা চুরি করে নিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী শিক্ষক সুলতা রানী আতঙ্ক প্রকাশ করে জানান, স্কুল শেষে বাড়ি ফিরে তিনি ঘরের সবকিছু এলোমেলো অবস্থায় দেখতে পান। ড্রয়ার পরীক্ষা করে দেখেন ভেতরে সংরক্ষিত সঞ্চিত টাকা ও স্বর্ণালংকার নেই। দিনেদুপুরে নিজ বাড়িতে এমন চুরির ঘটনার পর থেকে তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
একই দিন ধোপাপাড়া কারিগরপাড়া এলাকার অপর শিক্ষক খলিলুর রহমানের বাসাতেও চুরির ঘটনা ঘটে। দিনের বেলায় পরিবারের অনুপস্থিতিতে চোরেরা ঘরে ঢুকে নগদ ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা নিয়ে নির্বিঘ্নে পালিয়ে যায়।
এছাড়া একই এলাকার সিঙ্গাপুরপ্রবাসী পরেশ কুমারের বাড়িতেও তালা ভেঙে ভেতরে ঢোকে চোর চক্র। ওই সময় বাড়িতে কেউ না থাকায় চোরেরা ট্রাংক ও লাগেজ বের করে খাটের ওপর রেখে ঘরের জিনিসপত্র তছনছ করে। তবে মূল্যবান কী কী সামগ্রী খোয়া গেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি পরিবারটি।
পরেশ কুমারের স্ত্রী তৃপ্তি রানী অভিযোগ করেন, এর আগেও তাদের বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটেছিল। কিন্তু নানা ঝামেলার ভয়ে তখন আইনি আশ্রয় নেননি। দিনেদুপুরে বারবার এমন চুরির ঘটনায় স্থানীয় জনমনে তীব্র শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, সম্প্রতি পুঠিয়া উপজেলাজুড়ে চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেকে হয়রানির ভয়ে থানায় অভিযোগ করতে চান না, যার সুযোগ নিচ্ছে অপরাধী চক্র। এ কারণে এলাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি জোরদার করার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এ বিষয়ে পুঠিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফরিদুল ইসলাম জানান, চুরির খবর পেয়ে তিনি নিজেই সরজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও প্রাথমিক তদন্ত করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত ভুক্তভোগী কোনো পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করা হয়নি। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো অভিযোগ দায়ের করলে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।