গোদাগাড়ীতে ওয়াকফ এস্টেটের চেক জালিয়াতি: সদস্য সচিব শাহীন গ্রেপ্তার
রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) স্বাক্ষর ও সিল জাল করে ওয়াকফ এস্টেটের বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দায়েরকৃত এজাহারের ভিত্তিতে অভিযুক্ত সদস্য সচিব মো. মুশফিকুর রহমান শাহীনকে আটক করে আদালতে সোপর্দ করেছে পুলিশ।
এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোদাগাড়ী মডেল থানাধীন চব্বিশনগর এলাকার হাজী হোসেন আলী সরকার দিং ওয়াকফ এস্টেট পরিচালনার জন্য ১৩ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি কার্যকর রয়েছে। পদাধিকারবলে ওই কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং অভিযুক্ত মো. মুশফিকুর রহমান শাহীন সদস্য সচিবের দায়িত্বে ছিলেন। গ্রেপ্তারকৃত শাহীন উপজেলার রিশিকুল ইউনিয়নের চব্বিশনগর গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় চব্বিশনগর জামে মসজিদ ওয়াকফ এস্টেটের মোতাওয়াল্লি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, কমিটির সদস্য সচিব পদের প্রভাব খাটিয়ে মুশফিকুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে এস্টেটের যাবতীয় আয়-ব্যয়ের হিসাব এককভাবে পরিচালনা করে আসছিলেন। কমিটির অন্য সদস্যরা তার কাছে আয়-ব্যয়ের হিসাব চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি এবং হিসাব প্রদানে গড়িমসি শুরু করেন। এর মধ্যেই গত ২০ আগস্ট দুপুরে গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় চত্বরে বসেই সভাপতির স্বাক্ষর জাল ও দাপ্তরিক সিল ব্যবহার করে একটি চেক তৈরি করেন তিনি। পরবর্তীতে ওই জাল চেক ব্যবহার করে অভিযুক্তরা রূপালী ব্যাংক পিএলসির কাকনহাট শাখা থেকে মো. আবু সাদাত সায়েম ইমন নামের এক ব্যক্তির অনুকূলে ২ লাখ ৮৫ হাজার ৮০০ টাকা উত্তোলন করেন।
এর আগে একই কৌশলে ব্যাংকটি থেকে আরও ১ লাখ ৮৫ হাজার ৮০০ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। পরবর্তীতে গত ২৭ আগস্ট দুপুরে রাজশাহীর লক্ষ্মীপুর মোড় এলাকার রূপালী ব্যাংক শাখা থেকে একইভাবে জাল চেকে পুনরায় ২ লাখ ৮৫ হাজার ৮০০ টাকা উত্তোলনের চেষ্টা চালায় চক্রটি।
টাকা উত্তোলনের সময় চেকের স্বাক্ষর নিয়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সন্দেহ হলে তারা বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করেন। এ সময় ইউএনও নিশ্চিত করেন যে, তিনি অর্থ উত্তোলনের জন্য কোনো চেক বা ছাড়পত্রে স্বাক্ষর করেননি। জালিয়াতির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর ব্যাংক কর্তৃপক্ষ অর্থ প্রদান স্থগিত করে।
এ ঘটনায় মো. রুহুল কবির বাদী হয়ে প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগ এনে গোদাগাড়ী মডেল থানায় একটি নিয়মিত এজাহার দায়ের করেন। এজাহারে মো. মাহফুজুর রহমান ও মো. শওকত হোসেন রাজাকে প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগের ভিত্তিতে গোদাগাড়ী থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে মুশফিকুর রহমান শাহীনকে গ্রেপ্তার করে এবং পরবর্তীতে আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য সহযোগীদের আইনের আওতায় আনতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে থানা পুলিশ।