মোহনপুরে মাদরাসা সুপারের আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল: তদন্তের নির্দেশ
রাজশাহীর মোহনপুরে এক নারীর সঙ্গে স্থানীয় একটি দাখিল মাদরাসার প্রধান শিক্ষকের (সুপারিন্টেনডেন্ট) আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। বুধবার সকাল থেকে ভিডিওটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় বইছে।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, একটি বদ্ধ কক্ষে এক নারী ও এক পুরুষ অত্যন্ত অন্তরঙ্গ ও আপত্তিকর অবস্থায় রয়েছেন। হঠাৎ কয়েকজন ব্যক্তির উপস্থিতি ও ভিডিও ধারণের বিষয়টি টের পেয়ে ওই নারী আতঙ্কিত হয়ে ওঠেন। এ সময় ভিডিওর ক্যামেরা পুরুষটির দিকে তাক করা হলে তিনি দ্রুত চাদর দিয়ে নিজের শরীর ঢেকে ফেলার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তিনি মিনতি জানিয়ে উপস্থিত ব্যক্তিদের উদ্দেশ্যে বলেন, তিনি একজন শিক্ষক মানুষ এবং এই ঘটনা প্রকাশ করে যেন তার জীবন ধ্বংস না করা হয়। পরে পরিচয় জানতে চাওয়া হলে তিনি নিজেকে ‘গোলাম মোস্তফা’ বলে স্বীকার করেন এবং ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে উপস্থিত ব্যক্তিদের কাছে অনুনয়-বিনয় করতে থাকেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে, অভিযুক্ত ওই ব্যক্তি মোহনপুর উপজেলার মৌগাছি ইউনিয়নে অবস্থিত বসন্তকেদার দারুস সুন্নাত দাখিল মাদরাসার প্রধান শিক্ষক (সুপারিন্টেনডেন্ট) মো. গোলাম মোস্তফা। তিনি প্রায় ২৮ বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত এবং এমপিওভুক্ত হিসেবে সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন। অবসরে যেতে তার চাকরির মেয়াদ আরও প্রায় পাঁচ বছর অবশিষ্ট রয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ওই প্রধান শিক্ষকের নৈতিক স্খলনজনিত বিতর্ক নতুন নয়। এর আগেও তিনি নিজ প্রতিষ্ঠানের এক ছাত্রী ও নিজের মেয়ের সহপাঠীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে বিয়ে করেছিলেন এবং মাত্র তিন মাসের মাথায় তাকে তালাক দেন। ওই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আদালতে একটি মামলা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।
এদিকে প্রাতিষ্ঠানিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৩৫০ জন শিক্ষার্থী এবং ২৪ জন শিক্ষক-কর্মচারী সম্বলিত এই প্রতিষ্ঠানটির সামগ্রিক ফলাফলও চরম বিপর্যয়ের মুখে। চলতি ২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটি থেকে ৩৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে মাত্র ১১ জন পাস করে এবং বাকি ২৪ জনই অকৃতকার্য হয়। এমন নাজুক ফলাফলের মধ্যেই প্রধান শিক্ষকের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ভিডিও ফাঁসের ঘটনায় অভিভাবকরা প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সুপারিন্টেনডেন্ট গোলাম মোস্তফা। তিনি দাবি করেন, তাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন ও ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে ষড়যন্ত্র করে এ ঘটনা সাজিয়েছে।
এ বিষয়ে বসন্তকেদার দারুস সুন্নাত দাখিল মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি ইসারুল হক জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয়দের মাধ্যমে ঘটনাটি তাদের নজরে এসেছে। কমিটির অন্যান্য সদস্যদের সাথে দ্রুত বৈঠক করে অভিযুক্ত সুপারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম মাহমুদ হাসান জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি সরাসরি অবগত নন। তবে ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত হলে বিধি মোতাবেক তাকে সাময়িক বরখাস্ত এবং তার এমপিওভুক্ত বেতন-ভাতা বন্ধের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবরে সুপারিশ পাঠানো হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহিমা বিনতে আখতার স্পষ্ট জানিয়েছেন, ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
অন্যদিকে রাজশাহী জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জায়েদুর রহমান বলেন, একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে এমন অনৈতিক আচরণের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। লিখিত অভিযোগ ও তদন্তের ভিত্তিতে অভিযোগ প্রমাণিত হলে চাকরিবিধি অনুসারে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।