রাজশাহীর পবায় আগাম শীতকালীন সবজির বাম্পার ফলন, বেশি দামে বিক্রি করে কৃষকের মুখে হাসি
শীতের স্বাভাবিক মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই বাজারে আগাম ফুলকপি ও বাঁধাকপি তুলে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন রাজশাহীর পবা উপজেলার কৃষক মোশাররফ হোসেন। বাজারে শীতকালীন সবজির ঘাটতি ও বাড়তি চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে আগাম জাতের কপি চাষের মাধ্যমে তিনি বিঘাপ্রতি প্রায় দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত নিট মুনাফা অর্জন করছেন।
উপজেলার দামকুড়া ইউনিয়নের আশগ্রাম এলাকার এই কৃষক চলতি মৌসুমে স্থানীয় কৃষি অফিসের পরামর্শ ও কারিগরি সহযোগিতায় মোট ৩২ বিঘা জমিতে আগাম জাতের কপি আবাদ করেছেন। প্রতি বিঘায় প্রায় ছয় হাজার কপির চারা রোপণ করতে তাঁর উৎপাদন ও পরিচর্যা বাবদ খরচ হয়েছে ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা। ইতোমধ্যে তিনি সাড়ে সাত বিঘা জমির ফুলকপি ও বাঁধাকপি বিক্রি সম্পন্ন করেছেন। বাজারে প্রতি পিস কপি মানভেদে ৫০ থেকে ৭০ টাকা এবং ক্ষেত্রবিশেষে সর্বোচ্চ ৯০ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি করে খরচ বাদে বিঘাপ্রতি প্রায় দেড় লাখ টাকা আয় করেছেন তিনি। বাকি সাড়ে ২৪ বিঘা জমির সবজিও আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বাজারে তোলার উপযোগী হবে বলে তিনি জানান। আগাম চাষে প্রতিকূল আবহাওয়ায় কিছু চারা নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকলেও বাড়তি বাজারদরের কারণে এ ক্ষতি সহজেই পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব বলে জানান এই সফল চাষি।
সাধারণত নভেম্বর থেকে জানুয়ারি মাসে শীতের সবজির ব্যাপক সরবরাহ থাকলে বাজারে দরপতন ঘটে। তাই বাড়তি মুনাফার লক্ষ্যে পবার কৃষকরা এখন আগাম আবাদের দিকে ঝুঁকছেন। আলিমগঞ্জ এলাকার কৃষক নজরুল ইসলাম এবার ১২ কাঠা জমিতে চার হাজার পিস আগাম বাঁধাকপি আবাদ করেছেন, যেখানে ২০ হাজার টাকা খরচের বিপরীতে এক লাখ টাকা বিক্রির আশা করছেন তিনি। এছাড়া তিনি ১০ কাঠা জমিতে আগাম জাতের টমেটোও চাষ করেছেন, যা আশ্বিনের মাঝামাঝি সময়ে বাজারে আসবে। অন্যদিকে নওহাটা পৌরসভার পাইকপাড়া গ্রামের কৃষক মিজানুর রহমানসহ উপজেলার হরিপুর, হরিয়ান, পারিলা ও বড়গাছী এলাকার বহু কৃষক এখন আগাম শিম, মুলা, গাজর, বেগুন, লাউ ও শাকসবজি পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।
পবা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ এম এ মান্নান জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় মোট ১ হাজার ৮৯৫ হেক্টর জমিতে সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা শতভাগ অর্জিত হয়েছে, যার বড় একটি অংশজুড়ে রয়েছে আগাম জাতের ফসল। বর্তমানে কৃষকরা আধুনিক বাণিজ্যিক কৃষির দিকে ঝুঁকছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে কৃষকদের আগাম চাষে সার্বিক সহায়তার পাশাপাশি নিরাপদ ফসল উৎপাদনে জৈব বালাইনাশকের ব্যবহার এবং রাসায়নিক বালাইনাশকের অনুমোদিত মাত্রা বজায় রাখার জন্য নিয়মিত পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।