রাজশাহীতে তালগাছের চারা রোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন করলেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু
ক্রমবর্ধমান বজ্রপাতের ঝুঁকি হ্রাস, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষার প্রত্যয়ে রাজশাহীতে এক হাজার তালগাছের চারা রোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। শনিবার (২৯ আগস্ট) বেলা ১১টায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) চত্বরে পরিবেশবাদী সংগঠন ‘প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ফোরাম’ (এনবিসিএফ) এবং ‘সেন্টার ফর গ্লোবাল এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’ (সিজিইডি)-এর যৌথ উদ্যোগে এ সবুজ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তালগাছের চারা রোপণ ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের হাতে চারা তুলে দিয়ে কর্মসূচির শুভ সূচনা করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু, এমপি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. খোন্দকার মো. ফয়সল আলমের সভাপতিত্বে এবং কর্মসূচির প্রধান সমন্বয়কারী ও প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ফোরামের সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী জুনায়েদ আহমেদের সঞ্চালনায় আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের সচিব সোহেল রানা, রাজশাহী ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজির অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মির্জা মোহাম্মদ ওয়াসি পারভেজ, সিজিইডির নির্বাহী পরিচালক ড. মো. আব্দুল ওয়াহাব, এনবিসিএফ-এর সভাপতি অধ্যাপক ডা. বিকে দাম এবং রাজশাহী সরকারি সার্ভে ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ মো. আমীরুল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু বলেন, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব ও আকস্মিক প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিশেষ করে প্রাণঘাতী বজ্রপাত থেকে রক্ষা পেতে পরিবেশবান্ধব বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। তালগাছ কেবল ভূমিক্ষয় ও বজ্রপাত প্রতিরোধেই কার্যকর নয়, বরং এটি আমাদের দেশীয় জীববৈচিত্র্যের এক অন্যতম প্রধান আশ্রয়স্থল। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সকলকে বৃক্ষরোপণ ও এর যথাযথ পরিচর্যায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
আয়োজক সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সারাদেশে এক লাখ তালগাছের চারা রোপণের দেশব্যাপী মেগা প্রকল্পের অংশ হিসেবে রাজশাহীতে এই এক হাজার চারা রোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট), রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বিভিন্ন স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা প্রাঙ্গণ এবং পদ্মা নদীর তীরবর্তী বিস্তৃত এলাকায় এসব চারা রোপণ ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হবে।