শ্রোতাদের মুগ্ধ করতে নাজু আখন্দের নতুন গান ‘যত্নের তানপুরা’ প্রকাশ
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে সংগীতাঙ্গনে নতুন মৌলিক গান নিয়ে ফিরেছেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী নাজু আখন্দ। তাঁর নতুন এই গানের শিরোনাম ‘যত্নের তানপুরা’। ‘যত্নের তানপুরাটা ভেঙে ফেলেছি/ আমি আর গান গাইবো না’-এমন হৃদয়স্পর্শী ও হাহাকার মেশানো কথার ওপর ভিত্তি করে বিরহ ঘরানার গানটি তৈরি করা হয়েছে।
গানটির কথা লিখেছেন রাজু চৌধুরী এবং সুর করেছেন এহসান রাহী। ঢাকার স্টুডিও আলাপে সবুজ আশীষের মিউজিক প্রোগ্রামিং ও অ্যারেঞ্জমেন্টে গানটির সার্বিক কাজ সম্পন্ন হলেও যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের পিংক ভয়েস স্টুডিওতে এতে কণ্ঠ দেন নাজু আখন্দ। পরবর্তীতে গানটির মিক্স ও মাস্টারিংয়ের কাজ করেন আমজাদ হোসেন বাপ্পী। গানটির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মনোরম লোকেশনে দৃশ্যধারণ করে দৃষ্টিনন্দন মিউজিক ভিডিও নির্মাণ করেছেন আল মাসুদ, যেখানে মডেল হিসেবে পর্দায় উপস্থিতি দেখা গেছে তানহাকে। বুধবার ইউটিউবের ‘শব্দ কারিগর’ চ্যানেলে গান-ভিডিওটি আনুষ্ঠানিকভাবে অবমুক্ত করা হয়।
নতুন গান প্রসঙ্গে শিল্পী নাজু আখন্দ বলেন, সংগীত তাঁর রক্তের সঙ্গে মিশে রয়েছে। তিনি সবসময় নিখুঁত ও যত্ন নিয়ে গান তৈরির চেষ্টা করেন। এই ট্র্যাকটিও অত্যন্ত আবেগ দিয়ে গাওয়া একটি মেলোডি ধাঁচের গান, যার কথা ও সুর শ্রোতাদের হৃদয় স্পর্শ করবে। শিল্পীদের মেধা ও শ্রম তখনই সার্থকতা পায় যখন তা শ্রোতাদের প্রশংসা কুড়ায়-এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি জানান, খাঁটি কথার ও সুরের গানপ্রেমীদের কাছে ‘যত্নের তানপুরা’ আলাদা জায়গা করে নেবে।
উল্লেখ্য, সাভারে বেড়ে ওঠা নাজু আখন্দের সংগীতাঙ্গনে যাত্রা শুরু হয়েছিল স্কুলজীবনে। ২০০০ সালে তাঁর প্রথম একক অ্যালবাম ‘কাঁচা হলুদের রং’ প্রকাশিত হয়। এরপর একে একে ‘স্বপ্নকন্যা’, ‘একটু জায়গা দে’ এবং ‘ফিরিয়ে দাও আমার প্রেম’ অ্যালবামগুলোর মাধ্যমে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। ২০০১ সালে কিংবদন্তি সুরকার আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের সুরে ‘মায়ের সম্মান’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক শুরু করে গত দুই দশকে তিনি আড়াই শতাধিক সিনেমার গানে কণ্ঠ দিয়েছেন। সংগীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১০ সালে তিনি সেরা গায়িকা হিসেবে মর্যাদাপূর্ণ ‘সিটিসেল-চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করেন।