জামায়াতের লংমার্চ কর্মসূচি ঘিরে সংসদীয় দলের বৈঠকে বিএনপির শঙ্কা ও সতর্কবার্তা
বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঘোষিত লংমার্চ ও মহাসমাবেশ কর্মসূচি নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছে সরকারি দল বিএনপি। সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ছয় মাসের মাথায় বিরোধী জোটের এমন ধারাবাহিক রাজপথের কর্মসূচি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে মত দিয়েছেন দলটির সংসদ সদস্যরা।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনের সরকারি দলের সভাকক্ষে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সকাল ১১টা থেকে দুপুর সোয়া একটা পর্যন্ত এ বৈঠক চলে। সেখানে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির পাশাপাশি চলমান বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও সার ব্যবস্থাপনা নিয়ে সংসদ সদস্যরা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং সমাধানের তাগিদ দেন।
বৈঠক সূত্রে জানা যায়, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও বৈষম্যহীন দেশ গড়ার দাবিতে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের কর্মসূচি নিয়ে গভীর আলোচনা হয়। ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে যাত্রার মধ্য দিয়ে লংমার্চ শুরু হবে। পরবর্তীতে ১৯ সেপ্টেম্বর রংপুর, ১০ অক্টোবর খুলনা ও ২৪ অক্টোবর সিলেট অভিমুখে লংমার্চ এবং আগামী ১৪ নভেম্বর রাজধানীতে মহাসমাবেশ করার কথা রয়েছে বিরোধী দলগুলোর। এ ধরনের বড় কর্মসূচির কারণে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি কিংবা বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে বলে সংসদ সদস্যরা উদ্বেগ প্রকাশ করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সরকারের নেওয়া প্রস্তুতি ও সতর্কতামূলক পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন এবং তথাকথিত মব সংস্কৃতির বিরুদ্ধে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান।
বৈঠকে দেশের লোডশেডিং পরিস্থিতি নিয়ে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের কাছে ব্যাখ্যা চান সংসদ সদস্যরা। প্রতিমন্ত্রী সরকারের সক্ষমতা ও বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরে জানান, লোডশেডিং ব্যবস্থাপনায় গ্রাম ও শহরের মধ্যে সমতা আনার চেষ্টা চলছে। অসুস্থতার কারণে এ বৈঠকে উপস্থিত হতে পারেননি বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
অন্যদিকে চলমান সার পরিস্থিতি নিয়ে সংসদ সদস্যদের আশ্বস্ত করেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি জানান, দেশে সারের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে কোনো ধরনের অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না। সার বিতরণ ব্যবস্থা তদারকিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রধান করে কমিটি গঠন এবং পলাতক ডিলারদের স্থলে দ্রুত নতুন ডিলার নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সমাপনী বক্তব্যে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ১ সেপ্টেম্বর দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিতে মন্ত্রী ও এমপিদের নিজ নিজ নির্বাচনি এলাকায় উপস্থিত থাকার কঠোর নির্দেশনা দেন। একই সাথে সরকারের বিরুদ্ধে চলমান নানা অপপ্রচারের বিরুদ্ধে মাঠে থেকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলার আহ্বান জানান। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যোগ্য ও সৎ প্রার্থীদের বিজয়ী করতে দলীয় সংসদ সদস্যদের ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা পালনেরও নির্দেশ দেন তিনি।