জুলাই অভ্যুত্থানে নজরুলের গান গেয়ে ফ্যাসিবাদ রুখেছিল শিক্ষার্থীরা: রিজভী
চব্বিশের ঐতিহাসিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে শিক্ষার্থীরা জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের গান গেয়ে রাজপথে নেমেছিল বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে কবির সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ফ্যাসিবাদের দুঃশাসনকে পরাস্ত করতে রাজপথের ছাত্র-জনতা জাতীয় কবির দ্রোহের গান ও কবিতাকে অনুপ্রেরণা হিসেবে বেছে নিয়েছিল। নজরুলের গান এবং কবিতা প্রতিটি মানুষকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে অকুতোভয় হতে শেখায়। দীর্ঘ সময় ধরে নজরুলচর্চাকে সংকুচিত করে রাখা হলেও দেশে এখন আবার নতুন উদ্যমে নজরুলের চেতনাকে ধারণ করা হচ্ছে। আমাদের জাতীয় জীবনের প্রতিটি গণতান্ত্রিক ও মুক্তির পদক্ষেপে কবি নজরুল চিরকাল অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে থাকবেন।
বাংলা সাহিত্যে নজরুলের অনন্য অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাহিত্যের এমন কোনো শাখা নেই যেখানে নজরুলের দীপ্তিময় বিচরণ ছিল না। সমাজের সব ধরনের বৈষম্য, নিপীড়ন ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে তিনি আজীবন সোচ্চার ছিলেন। নজরুলের বৈপ্লবিক চেতনা ও দ্রোহ কোনো নির্দিষ্ট সময়ের ফ্রেমে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা সর্বকালের সীমানা অতিক্রম করে মানুষের অন্তরে মুক্তির স্পন্দন জাগায়। তৎকালীন শাসকগোষ্ঠীর সর্বাত্মক হুমকি-ধমকি ও রক্তচক্ষু উপেক্ষা করেই তিনি বিপ্লব ও স্বাধীনতার বাণী প্রচার করেছিলেন।
বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা আরও যোগ করেন, বিশ্ব সাহিত্যের আঙিনায় এবং বাংলা ভাষাভাষীদের মাঝে কাজী নজরুল ইসলামের মতো বহুশাস্ত্রীয় প্রতিভার তুলনা বিরল। যুগ যুগ ধরে যেকোনো জুলুম-নিপীড়নের মুখে তাঁর সাহিত্যই বাঙালিকে রুখে দাঁড়ানোর পথ দেখিয়েছে। অন্যায় ও অবিচার প্রতিরোধ করে সমাজে সাম্য, সত্য ও ন্যায়নীতি প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে জাতীয় কবি নজরুল ইসলাম চিরকাল শক্তির চিরন্তন উৎস হয়ে বেঁচে থাকবেন।