রংপুরে সপরিবারে শিক্ষক হত্যাকাণ্ড: জবানবন্দির নতুন সূত্রে তদন্ত নিয়ে ধোঁয়াশা
রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তাঁর পরিবারের চার সদস্য হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মহানগর পুলিশের তথ্যে একের পর এক অসংগতি প্রকাশ পাচ্ছে। ঘটনার বিবরণ নিয়ে দ্বিতীয় দফায় সংবাদ সম্মেলন ডেকে আসামিদের জবানবন্দির বরাতে নতুন তথ্য দিয়েছেন রংপুর মহানগর পুলিশ (আরপিএমপি) কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ। তবে বক্তব্যের পর তথ্যের গরমিল ও তদন্ত সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সাংবাদিকদের কোনো প্রশ্নের জবাব না দিয়েই তিনি তড়িঘড়ি করে সভাকক্ষ ত্যাগ করেন। পুলিশ কমিশনারের এমন অপেশাদার আচরণে উপস্থিত সংবাদকর্মীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে পুলিশ কমিশনার দাবি করেন, গ্রেপ্তার দুই আসামি সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ দাসের জবানবন্দিতে কিছু নতুন বিষয় সামনে এসেছে। নতুন বয়ান অনুযায়ী, ঘটনার দিন সকালে গণপতি চক্রবর্তী বাড়ির ছাদে হাঁটতে গিয়ে পানির ট্যাংকের আড়ালে আসামিদের ইয়াবা সেবন করতে দেখে ধমক দেন। তখন পরিচয় প্রকাশ ও আত্মসম্মানহানির ভয়ে আসামিরা গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে শিক্ষককে হত্যা করে। এরপর শব্দ শুনে ছাদটিতে ছুটে এলে তাঁর স্ত্রী ও মেয়েকেও সেখানে হত্যা করে মরদেহ সিঁড়ির দিকে টেনে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে সিসিটিভি ফুটেজে শনাক্ত হওয়ার ভয়ে বাড়ির বিদ্যুৎ-সংযোগের তার কেটে দেওয়া হয়।
অথচ এর আগে গত রোববার আয়োজিত প্রথম সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানিয়েছিল, ছাদ ব্যবহারের ধরন, রাতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার সময় এবং হত্যার পর আসামিদের আবারও ইয়াবা সেবনের মতো ভিন্ন তথ্য। এমনকি শিক্ষকপুত্র শিশু প্রিয়মকে হত্যার ক্ষেত্রেও আগের বক্তব্য বদলে গেছে। রবিবারের সংবাদ সম্মেলনে শিশুটিকে ‘ঘুমন্ত অবস্থায়’ হত্যার কথা বলা হলেও আজকের সম্মেলনে কমিশনার জানান, শিশুটি ঘুম থেকে জেগে সিদ্ধার্থকে দেখে চিনে ফেলে কথা বলায় তাকে হত্যা করা হয়।
দিনের আলোয় খোলা ছাদে তিনজনকে হত্যা, শিশুটিকে হত্যার পরিস্থিতি, বিদ্যুৎ সংযোগ কাটার সময় এবং আলামত নিয়ে পুলিশের পরস্পরবিরোধী বয়ান পুরো ঘটনায় গভীর ধোঁয়াশার জন্ম দিয়েছে। এসব অসঙ্গতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীরা প্রশ্ন করতে গেলে আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি না টেনেই দ্রুত সভাকক্ষ ত্যাগ করেন পুলিশ প্রধান।
কর্মরত সাংবাদিকরা জানান, একটি স্পর্শকাতর চার খুনের ঘটনায় পুলিশের তথ্যের ধারাবাহিক গরমিল তদন্ত প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। সংবাদ সম্মেলন ডেকে সাংবাদিকদের সুনির্দিষ্ট প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে চলে যাওয়া দায়িত্বশীল আচরণ নয় এবং এতে তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়ে জনমনে সংশয় আরও জোরালো হবে।