পর্যটন ও পরিবেশ সুরক্ষায় সাংবাদিকদের সচেতনতামূলক কর্মসূচি
‘ক্লিন বাংলাদেশ, ক্লিন জার্নালিজম’—এই প্রত্যয়কে সামনে রেখে দেশের প্রধান পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে এক বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক অভিযান পরিচালনা করেছে বাংলাদেশ পেশাদার সাংবাদিক ফোরাম (বিপিজেএফ)। মঙ্গলবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সৈকতের প্রায় এক কিলোমিটার এলাকায় এই কর্মসূচি পরিচালিত হয়।
কর্মসূচিতে বিপিজেএফের কেন্দ্রীয় ও মহানগর কমিটির নেতৃবৃন্দ সরাসরি অংশ নিয়ে সৈকতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা প্লাস্টিক বোতল, পলিথিন, অপচনশীল বর্জ্য ও কাগজ সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট স্থানে অপসারণ করেন। একই সঙ্গে আগত পর্যটক ও স্থানীয়দের যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা না ফেলে প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষার আহ্বান জানান তাঁরা।
সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি কাজী শরিফুল ইসলাম (শাকিল) ও সাধারণ সম্পাদক রোমান আকন্দের নেতৃত্বে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। সভাপতির বক্তব্যে কাজী শরিফুল ইসলাম বলেন, সাংবাদিকতা কেবল সংবাদ পরিবেশনেই সীমাবদ্ধ নয়, সমাজ ও পরিবেশের সুরক্ষায় সাংবাদিকদেরও গভীর দায়বদ্ধতা রয়েছে। বিশ্বের দীর্ঘতম প্রাকৃতিক এই সমুদ্রসৈকতের সৌন্দর্য ধরে রাখতে সকলকে নাগরিক দায়িত্ব পালন করতে হবে।
সাধারণ সম্পাদক রোমান আকন্দ উল্লেখ করেন, সৈকতে যত্রতত্র প্লাস্টিক ও বর্জ্য ফেলার কারণে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে। এটি রোধে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি বিপিজেএফের এমন ইতিবাচক সামাজিক উদ্যোগ আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।
অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও সংগঠক ফয়সাল আজম অপু বলেন, কক্সবাজার বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অনন্য প্রতীক। কেবল একদিনের পরিচ্ছন্নতায় সৈকত রক্ষা সম্ভব নয়, বরং পর্যটক ও স্থানীয়দের মানসিকতার পরিবর্তনের মাধ্যমে প্লাস্টিক দূষণ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। পরিচ্ছন্নতার এই বার্তা দেশের প্রতিটি জনপদে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
কর্মসূচিতে আরও বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সহ-সভাপতি মাহবুব আলম বাবু। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এস এম রেজাউল করিম ও সোহেল রানা, সাংগঠনিক সম্পাদক সঞ্জয় সাহা, খাদেমুল ইসলাম, আবুল হোসেন, আব্দুর রহিম, ঢাকা মহানগরের প্রধান সমন্বয়ক হাফিজ উদ্দিন, আইন সম্পাদক খোরশেদ আলম বাবুল, ধর্ম সম্পাদক এস এম জাহান ইমাম, গণযোগাযোগ সম্পাদক মাইনুউদ্দিন জমাদার ও খাইরুল ইসলামসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর কমিটির নেতৃবৃন্দ।