মাদক ও ভূমিদস্যু নির্মূলে ভূমিমন্ত্রীর কঠোর নির্দেশ
১৯৯২ সালের ১ জুলাই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) যাত্রা শুরু হলেও কালের পরিক্রমায় সেই ঐতিহাসিক স্মৃতিকে পরিবর্তন করা হয়েছিল উল্লেখ করে আরএমপির গৌরবময় ইতিহাস পুনঃস্থাপনের ঘোষণা দিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু। শনিবার বেলা ১১টায় রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ সদর দপ্তরে ঐতিহাসিক স্মারক হিসেবে পুনঃস্থাপিত ভিত্তিপ্রস্তর ফলক উন্মোচন শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।
ভূমিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় আরএমপির এই প্রকৃত ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে পুনরুদ্ধার করে পুনঃস্থাপন করা হয়েছে। এ সময় তিনি রাজশাহী মহানগরীকে অপরাধমুক্ত রাখতে মাদক কারবারি, জুয়াড়ি ও ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের নির্দেশ দেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, রাজশাহীর শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় আইন সম্পূর্ণ নিজস্ব গতিতে চলবে এবং অপরাধী দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কোনো ধরনের রাজনৈতিক চাপের মুখোমুখি হতে হবে না।
বিগত সরকারের সময় সীমান্ত পথে মাদকের বিস্তার প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, বিগত ১৭ বছরে সীমান্ত এলাকা দিয়ে শত শত কোটি টাকার অবৈধ মাদক ও চোরাচালান দেশে প্রবেশ করিয়ে তরুণ সমাজকে ধ্বংসের অপচেষ্টা হয়েছে। এই চোরাকারবারি চক্রকে জাতির শত্রু আখ্যা দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে আরএমপিকে আপসহীন অভিযান পরিচালনার আহ্বান জানান মন্ত্রী।
অনুষ্ঠান শেষে রাজশাহী অঞ্চলের সামগ্রিক শান্তি, সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তা কামনার পাশাপাশি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
আরএমপি কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলী, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন, রাসিকের সাবেক মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইট, জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম এবং জেলা পরিষদ প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ এরশাদ আলী ঈশা। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।