চাঁদাবাজ নির্মূলে ব্যর্থ হলে পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা
চিহ্নিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারিদের কোনো ছাড় না দেওয়ার স্পষ্ট ঘোষণা দিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, চাঁদাবাজ নির্মূলে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের নাক-কান-গলা (ইএনটি) বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. আসাদুর রহমানকে দেখতে ঢামেক হাসপাতালে যান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন। এ সময় মন্ত্রীদ্বয় চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে আহত চিকিৎসকের চিকিৎসার সার্বিক খোঁজখবর নেন এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের চিকিৎসা সহায়তার আশ্বাস দেন।
হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, চিহ্নিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, গত ১৭ আগস্ট রাতে শান্তিনগরে নিজস্ব চেম্বার থেকে বের হওয়ার পর অধ্যাপক ডা. আসাদুর রহমানের ওপর সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ চক্র নৃশংস হামলা চালায়। ঘটনার পর পুলিশ ও গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) তৎপরতায় মূল হোতাসহ চারজনকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করা হয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, চক্রটির মূল হোতা বিদেশে হুন্ডি ব্যবসায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে দেশে ফিরে অপরাধমূলক চক্র গড়ে তোলে এবং বড় বড় প্রতিষ্ঠান, চিকিৎসক, প্রকৌশলী ও ধনাঢ্য ব্যক্তিদের ভয়ভীতি দেখিয়ে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করত।
পুলিশের অভ্যন্তরীণ জবাবদিহিতার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, কেবল অপরাধীদেরই নয়, এসব অপরাধে যদি পুলিশের কোনো সদস্যের সম্পৃক্ততা বা সহযোগিতার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাদের বিরুদ্ধেও তালিকা তৈরি করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধী বা মদদদাতা যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, কাউকে রেহাই দেওয়া হবে না।
চিকিৎসকদের সার্বিক নিরাপত্তায় সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা ও চিকিৎসকদের নির্বিঘ্ন কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে দেশের ৫০০টি হাসপাতালে ১০ জন করে মোট ৫ হাজার আনসার সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। এছাড়া চিকিৎসকরা নিজস্ব চেম্বারে কোনো ঝুঁকি বোধ করলে পুলিশকে অবহিত করার পরামর্শ দেন তিনি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও জানান, দেশের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী যে কোনো নাগরিক শর্ত পূরণ সাপেক্ষে আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সের আবেদন করতে পারেন; চিকিৎসকদের আবেদনের ক্ষেত্রেও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।
পরিদর্শনকালে আরও উপস্থিত ছিলেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ, অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি প্রধান) মো. শফিকুল ইসলাম এবং ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। পরবর্তীতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ধানমন্ডির আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে গিয়ে একই চক্রের হুমকির শিকার ডা. এ কে এম আমিনুল হককে দেখতে যান।