রাজশাহীর পুঠিয়ায় চিংড়িতে জেলি পুশ
রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় অসাধু উপায়ে ওজন বাড়ানোর অসৎ উদ্দেশ্যে চিংড়ি মাছে ক্ষতিকর জেলি পুশ করে বিক্রির অপরাধে আরিফুল ইসলাম নামের এক মাছ ব্যবসায়ীকে আর্থিক জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে জব্দ করা হয়েছে জেলি মিশ্রিত বিপুল পরিমাণ মাছ। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকালে উপজেলার ব্যস্ততম ঝলমলিয়া হাটে এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত আরিফুল ইসলাম ঝলমলিয়া এলাকার মৃত জলিল মণ্ডলের ছেলে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে অসাধু উপায়ে মাছের ওজন কৃত্রিমভাবে বৃদ্ধি করার জন্য চিংড়িতে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর জেলি পুশ করে আসছে। এমন সুনির্দিষ্ট ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার সকালে ঝলমলিয়া হাটে আকস্মিক অভিযান চালান পুঠিয়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শিবু দাশ। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় ওই ব্যবসায়ীকে তিন হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ সময় ঘটনাস্থলেই জব্দ করা আট কেজি জেলি মিশ্রিত বিষাক্ত চিংড়ি মাছ মাটিতে পুঁতে ধ্বংস করা হয়।
এর আগে গত বুধবার দুপুরেও পুঠিয়া এলাকায় অনুরূপ একটি ভেজালবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। সে সময় চিংড়িতে জেলি মিশিয়ে বিক্রির দায়ে অন্য এক ব্যবসায়ীকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছিল এবং ১০ কেজি জেলি মেশানো চিংড়ি জব্দ করে তা ধ্বংস করা হয়েছিল। দুই দিনের ধারাবাহিক এই অভিযানে স্থানীয় অসাধু ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ও সচেতনতা তৈরি হয়েছে।
অভিযান সমাপ্তির পর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শিবু দাশ গণমাধ্যমকে জানান, খাদ্যে ভেজাল ও রাসায়নিকের ব্যবহার সাধারণ মানুষের জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি ও দীর্ঘমেয়াদি বিপর্যয় সৃষ্টি করে। সর্বসাধারণের জন্য শতভাগ নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রশাসনের এ ধরনের কঠোর অভিযান ও নজরদারি ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে। সেই সঙ্গে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট সকল ব্যবসায়ীকে সৎ ও নীতিসম্মত উপায়ে ব্যবসা পরিচালনা করার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং সাধারণ ভোক্তাদেরও ভেজাল ক্রয়ের ক্ষেত্রে অধিকতর সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।