কলেরা ঝুঁকিপূর্ণ ১৪টি উপজেলা ও থানায় দুই দফায় চলবে টিকাদান কার্যক্রম
দেশের কলেরা ঝুঁকিপূর্ণ ১৪টি উপজেলা ও থানায় এক বছর বা তার বেশি বয়সী ৫১ লাখ ৭৫ হাজার মানুষকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে মুখে খাওয়ার কলেরার টিকা দেওয়ার বিশেষ কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী শনিবার থেকে এই টিকাদান কার্যক্রমের প্রথম দফা শুরু হতে যাচ্ছে। এছাড়া আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হবে দ্বিতীয় দফার টিকাদান কার্যক্রম।
তবে বিশেষ সতর্কতার অংশ হিসেবে গর্ভবতী নারীরা এই টিকাদান কর্মসূচির আওতার বাইরে থাকবেন।
সম্প্রতি ঢাকার দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘সর্বজনীন কলেরা প্রতিরোধ টিকাদান কর্মসূচি’র উদ্বোধন ও সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন আনুষ্ঠানিকভাবে এই কর্মসূচির উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রথম দফার টিকাদান কর্মসূচি আগামী ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এবং দ্বিতীয় দফা আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়ে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। নির্ধারিত কেন্দ্রগুলোতে প্রতিদিন সকাল আটটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত টিকা প্রদান করা হবে।
এই কর্মসূচির আওতায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের লালবাগ, গেন্ডারিয়া, কদমতলী ও কামরাঙ্গীরচর এলাকার ১৭টি ওয়ার্ডে মোট ১৯২টি কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রায় ১১ লাখ ৭০ হাজার মানুষকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
রাজধানীর দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ছাড়াও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের শেরেবাংলা নগর, খিলক্ষেত ও তেজগাঁও এবং মুন্সিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নির্দিষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতেও এই কর্মসূচি সফলভাবে পরিচালিত হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, একসময় কলেরার প্রাদুর্ভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের গ্রাম জনশূন্য হয়ে পড়ত। বর্তমান সময়ে রোগটি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও সাম্প্রতিক প্রাদুর্ভাবের প্রেক্ষাপটে আমাদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা অত্যন্ত জরুরি। জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির মতো কলেরার এই টিকাদান কর্মসূচিকেও সফল ও সার্থক করতে সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেন, পুরান ঢাকাসহ বিভিন্ন ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তাদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। সেই পূর্ব অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ১৭টি ওয়ার্ডে কলেরার এই টিকাদান কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন করা হবে।