সংসদ ভবনেই হবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট গণনা ও ফলাফল ঘোষণা
প্রায় সাড়ে তিন দশকের দীর্ঘ বিরতি ভেঙে এবার একাধিক প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অনুষ্ঠিত হতে চলেছে দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। ১৯০১ সালের পর এই প্রথম ঐতিহাসিক এই নির্বাচনী লড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছেন প্রার্থীরা। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার পরপরই জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষেই শুরু হবে ভোট গণনা এবং তাৎক্ষণিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করা হবে।
নির্বাচন কমিশন ভবনে নিজ দফতরে গণমাধ্যমের সাথে আলাপকালে সিইসি জানান, নির্ধারিত দিনে দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ভোট শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সেখানে গণনা প্রক্রিয়া শুরু হবে। নির্বাচনী কর্তা হিসেবে তিনি যে ফলাফল ঘোষণা করবেন, আইন অনুযায়ী সেটাই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে। ভোট গণনা ও ফলাফল ঘোষণা শেষে নির্বাচন কমিশনে ফিরে ওই দিনই গেজেট প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে কমিশনের।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া তুলে ধরে সিইসি জানান, গত ১৩ আগস্ট নির্ধারিত মনোনয়নপত্র দাখলের শেষ দিনে মোট তিনটি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছিল। এর মধ্যে একটি বিএনপি এবং দুটি ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে দাখিল করা হয়। বিএনপির পক্ষ থেকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
পরবর্তীতে ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়। এ সময় জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সহযোগিতায় সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার সময় স্বাক্ষরিত রেজিস্টারের সাথে প্রস্তাবক ও সমর্থকদের স্বাক্ষর নিখুঁতভাবে মিলিয়ে দেখা হয়। যাচাই-বাছাই শেষে তিনটি মনোনয়নপত্রই বৈধ ঘোষণা করা হয়। তবে একই প্রার্থীর পক্ষে দুটি মনোনয়নপত্র জমা পড়ায় একটি অতিরিক্ত বা অপ্রয়োজনীয় হিসেবে বাদ দেওয়া হয়। ফলে বর্তমান এই নির্বাচনে দুই প্রার্থীর সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিশ্চিত হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কেউ প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করায় চূড়ান্ত লড়াইয়ের মঞ্চ প্রস্তুত।
নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরে সিইসি একে একটি ‘হাই প্রপ্রাফাইল’ বা উচ্চপর্যায়ের নির্বাচন হিসেবে আখ্যায়িত করেন। রাষ্ট্রপতি (ভারপ্রাপ্ত), প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, বিরোধীদলীয় নেতা, সব সংসদ সদস্য ও হুইপরা এই নির্বাচনে ভোটার হিসেবে অংশ নিচ্ছেন। চট্টগ্রাম-৪ আসন শূন্য থাকায় এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৪৯ জনে। সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে পুঙ্খানুপুঙ্খ পরামর্শ করেই ভোটের তারিখ নির্ধারণ ও তফসিল চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানান প্রধান নির্বাচন কমিশনার।