রবিবার , ১৬ আগস্ট ২০২৬
হোমসারাদেশআপসহীন নেত্রীর জীবন ও সংগ্রাম
স্মরণে বেগম খালেদা জিয়া

আপসহীন নেত্রীর জীবন ও সংগ্রাম

favicon
লেখক: মো. সাঈদ হোসেন:-
আপসহীন নেত্রীর জীবন ও সংগ্রাম

আজ ১৫ আগস্ট। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম প্রভাবশালী ও অবিস্মরণীয় নারী ব্যক্তিত্ব, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির চেয়ারপারসন এবং তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকী। দীর্ঘ সংগ্রামী পথ পাড়ি দিয়ে তিনি আজ শারীরিকভাবে আমাদের মাঝে না থাকলেও তাঁর কর্ম, ত্যাগ, রাজনৈতিক দূরদর্শিতা এবং মানুষের প্রতি ভালোবাসা তাঁকে ইতিহাসের পাতায় চিরভাস্বর করে রেখেছে।

একজন সাধারণ গৃহবধূ থেকে দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা এবং পরবর্তীতে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হয়ে ওঠার পথটি কখনোই সহজ ছিল না। ১৯৮১ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আকস্মিক শাহাদাতের পর দেশের সংকটময় রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তাঁকে রাজনীতিতে পা রাখতে হয়। ১৯৮২ সালের ৩ জানুয়ারি বিএনপিতে যোগদানের পর তাঁর নেতৃত্বগুণ ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞা দ্রুত তাঁকে দলের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে আসে। ১৯৮৪ সালের ১০ মে তিনি বিএনপির চেয়ারপারসনের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত দলের অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় হলো নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন। তৎকালীন স্বৈরাচারী সরকারের রোষানল ও বারবার কারাবরণের মুখেও তিনি গণতন্ত্রের প্রশ্নে বিন্দুমাত্র আপস করেননি। তাঁর আপসহীন নেতৃত্বের ফলেই ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে এরশাদ সরকারের পতন ঘটে। এই অটল অবস্থানের কারণেই তিনি দেশবাসীর নিকট ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে ভূষিত হন।

১৯৯১ সালের সংসদীয় নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকারগুলোর সময় দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পাশাপাশি শিক্ষা, নারী ক্ষমতায়ন, মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষা ও উপবৃত্তি চালু এবং সামাজিক নিরাপত্তা খাতে যুগান্তকারী অগ্রগতি সাধিত হয়। একজন নারী রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তাঁর এই অর্জন কেবল ব্যক্তিগত নয়, বরং বাংলাদেশের নারী সমাজের অগ্রযাত্রায় এক বিশাল মাইলফলক।

রাজনৈতিক জীবনের নানা মোড়ে তাঁকে মুখোমুখি হতে হয়েছে চরম প্রতিকূলতার। ২০০৭ সালের এক-এগারোর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে দেশ ছাড়ার বহু চাপ ও প্রস্তাবের মুখেও তিনি অবিচল থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, “দেশের বাইরে আমার কোনো ঠিকানা নেই, এই দেশই আমার ঠিকানা।” পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক ও আইনি প্রতিহিংসার শিকার হয়ে তাঁকে দীর্ঘ কারাবাস ও গুরুতর অসুস্থতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। এমনকি বড় ছেলে তারেক রহমান এবং ছোট প্রয়াত ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর কারাবাস, নির্যাতন ও নিদারুণ কষ্টের মাঝেও তিনি রাজনৈতিক আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি।

২০২৪ সালের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান ও ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর তিনি কারামুক্ত হন। তবে দীর্ঘ বন্দিদশা ও অসুস্থতার কারণে তাঁর শারীরিক অবস্থা অবনতিশীল থাকায় শেষ পর্যন্ত ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর ভোরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ৩১ ডিসেম্বর তাঁর শেষ বিদায়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মানুষের ঢল নামে, যা প্রমাণ করে সাধারণ মানুষের হৃদয়ে তাঁর স্থান কতটা গভীর ছিল।

আজ তাঁর জন্মবার্ষিকীতে রাজনৈতিক মহলসহ সর্বস্তরের মানুষ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে এমন একজন অদম্য নেত্রীকে, যিনি ব্যক্তিগত শোক ও রাষ্ট্রীয় নিপীড়নকে পেছনে ফেলে আজীবন দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ও মুক্তির জন্য লড়াই করে গেছেন।

  • লেখক: মো. সাঈদ হোসেন
  • যুগ্ম আহ্বায়ক,
  • বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল,
  • রাজশাহী মহানগর।


আপসহীন নেত্রীর জীবন ও সংগ্রাম
স্মরণে বেগম খালেদা জিয়া
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
১৫ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উপচার
 রবিবার , ১৬ আগস্ট ২০২৬
হোমসারাদেশআপসহীন নেত্রীর জীবন ও সংগ্রাম
স্মরণে বেগম খালেদা জিয়া

আপসহীন নেত্রীর জীবন ও সংগ্রাম

favicon
লেখক: মো. সাঈদ হোসেন:-
আপসহীন নেত্রীর জীবন ও সংগ্রাম

আজ ১৫ আগস্ট। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম প্রভাবশালী ও অবিস্মরণীয় নারী ব্যক্তিত্ব, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির চেয়ারপারসন এবং তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকী। দীর্ঘ সংগ্রামী পথ পাড়ি দিয়ে তিনি আজ শারীরিকভাবে আমাদের মাঝে না থাকলেও তাঁর কর্ম, ত্যাগ, রাজনৈতিক দূরদর্শিতা এবং মানুষের প্রতি ভালোবাসা তাঁকে ইতিহাসের পাতায় চিরভাস্বর করে রেখেছে।

একজন সাধারণ গৃহবধূ থেকে দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা এবং পরবর্তীতে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হয়ে ওঠার পথটি কখনোই সহজ ছিল না। ১৯৮১ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আকস্মিক শাহাদাতের পর দেশের সংকটময় রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তাঁকে রাজনীতিতে পা রাখতে হয়। ১৯৮২ সালের ৩ জানুয়ারি বিএনপিতে যোগদানের পর তাঁর নেতৃত্বগুণ ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞা দ্রুত তাঁকে দলের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে আসে। ১৯৮৪ সালের ১০ মে তিনি বিএনপির চেয়ারপারসনের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত দলের অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় হলো নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন। তৎকালীন স্বৈরাচারী সরকারের রোষানল ও বারবার কারাবরণের মুখেও তিনি গণতন্ত্রের প্রশ্নে বিন্দুমাত্র আপস করেননি। তাঁর আপসহীন নেতৃত্বের ফলেই ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে এরশাদ সরকারের পতন ঘটে। এই অটল অবস্থানের কারণেই তিনি দেশবাসীর নিকট ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে ভূষিত হন।

১৯৯১ সালের সংসদীয় নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকারগুলোর সময় দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পাশাপাশি শিক্ষা, নারী ক্ষমতায়ন, মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষা ও উপবৃত্তি চালু এবং সামাজিক নিরাপত্তা খাতে যুগান্তকারী অগ্রগতি সাধিত হয়। একজন নারী রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তাঁর এই অর্জন কেবল ব্যক্তিগত নয়, বরং বাংলাদেশের নারী সমাজের অগ্রযাত্রায় এক বিশাল মাইলফলক।

রাজনৈতিক জীবনের নানা মোড়ে তাঁকে মুখোমুখি হতে হয়েছে চরম প্রতিকূলতার। ২০০৭ সালের এক-এগারোর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে দেশ ছাড়ার বহু চাপ ও প্রস্তাবের মুখেও তিনি অবিচল থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, “দেশের বাইরে আমার কোনো ঠিকানা নেই, এই দেশই আমার ঠিকানা।” পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক ও আইনি প্রতিহিংসার শিকার হয়ে তাঁকে দীর্ঘ কারাবাস ও গুরুতর অসুস্থতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। এমনকি বড় ছেলে তারেক রহমান এবং ছোট প্রয়াত ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর কারাবাস, নির্যাতন ও নিদারুণ কষ্টের মাঝেও তিনি রাজনৈতিক আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি।

২০২৪ সালের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান ও ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর তিনি কারামুক্ত হন। তবে দীর্ঘ বন্দিদশা ও অসুস্থতার কারণে তাঁর শারীরিক অবস্থা অবনতিশীল থাকায় শেষ পর্যন্ত ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর ভোরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ৩১ ডিসেম্বর তাঁর শেষ বিদায়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মানুষের ঢল নামে, যা প্রমাণ করে সাধারণ মানুষের হৃদয়ে তাঁর স্থান কতটা গভীর ছিল।

আজ তাঁর জন্মবার্ষিকীতে রাজনৈতিক মহলসহ সর্বস্তরের মানুষ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে এমন একজন অদম্য নেত্রীকে, যিনি ব্যক্তিগত শোক ও রাষ্ট্রীয় নিপীড়নকে পেছনে ফেলে আজীবন দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ও মুক্তির জন্য লড়াই করে গেছেন।

  • লেখক: মো. সাঈদ হোসেন
  • যুগ্ম আহ্বায়ক,
  • বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল,
  • রাজশাহী মহানগর।


আপসহীন নেত্রীর জীবন ও সংগ্রাম
স্মরণে বেগম খালেদা জিয়া
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
১৫ আগস্ট ২০২৬