মঙ্গলবার , ১১ আগস্ট ২০২৬
হোমরাজশাহীচাঁপাইনবাবগঞ্জে দাখিলে হতাশাজনক ফল, ৪ মাদ্রাসায় পাস করেনি কোনো শিক্ষার্থী

চাঁপাইনবাবগঞ্জে দাখিলে হতাশাজনক ফল, ৪ মাদ্রাসায় পাস করেনি কোনো শিক্ষার্থী

favicon
ফয়সাল আজম অপু,চাঁপাইনবাবগঞ্জ :
চাঁপাইনবাবগঞ্জে দাখিলে হতাশাজনক ফল, ৪ মাদ্রাসায় পাস করেনি কোনো শিক্ষার্থী

চাঁপাইনবাবগঞ্জে এবারের দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে চারটি মাদ্রাসায় দেখা গেছে চরম হতাশাজনক চিত্র। এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। এর মধ্যে দুটি মাদ্রাসায় পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা সবাই অকৃতকার্য হয়েছে, আর বাকি দুটি প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধিত শিক্ষার্থীদের কেউ পরীক্ষায় অংশই নেয়নি।

সোমবার (১০ আগস্ট) মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের দাখিল পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর জেলার ফলাফল পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানা গেছে।

ফলাফল অনুযায়ী, জেলার চারটি মাদ্রাসায় মোট ২৬ জন শিক্ষার্থী নিবন্ধিত ছিল। তাদের মধ্যে ১৬ জন পরীক্ষায় অংশ নিলেও একজনও উত্তীর্ণ হতে পারেনি।

জানা যায়, গোমস্তাপুর উপজেলার গোপীনাথপুর ডিএস দাখিল মাদ্রাসায় ১৬ জন শিক্ষার্থী নিবন্ধিত থাকলেও পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৪ জন। তবে তাদের কেউই পাস করতে পারেনি।

একই উপজেলার ব্রঞ্জনাথপুর দাখিল মাদ্রাসায় চারজন শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করলেও পরীক্ষায় অংশ নেয়নি একজনও।

অন্যদিকে, নাচোল উপজেলার বকুলতলা দাখিল মাদ্রাসায় পাঁচজন শিক্ষার্থী নিবন্ধিত থাকলেও পরীক্ষায় অংশ নেয় মাত্র দুজন। অংশ নেওয়া দুজনই অকৃতকার্য হয়েছে।

এ ছাড়া শিবগঞ্জ উপজেলার নাটোর দাখিল মাদ্রাসায় মাত্র একজন শিক্ষার্থী নিবন্ধিত ছিল। তবে ওই শিক্ষার্থীও পরীক্ষায় অনুপস্থিত থাকায় প্রতিষ্ঠানটির ফলাফল শূন্যই থেকে গেছে।

পরীক্ষায় অংশ নিয়ে শতভাগ শিক্ষার্থীর অকৃতকার্য হওয়া এবং নিবন্ধিত শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশ না নেওয়ার ঘটনায় জেলার শিক্ষা ব্যবস্থার মান, পাঠদান কার্যক্রম ও প্রাতিষ্ঠানিক তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. বিপ্লব কুমার মজুমদার বলেন, নামমাত্র পরীক্ষার্থী নিয়ে পরিচালিত এসব প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কার্যক্রম ও পাঠদানের মান নিয়েও প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে গোপীনাথপুর ডিএস দাখিল মাদ্রাসার সুপার রায়হান উদ্দীনকে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। অন্যদিকে, বকুলতলা দাখিল মাদ্রাসার সুপার সুলতান আহম্মেদের মোবাইল নম্বর বন্ধ থাকায় তাঁর বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শাহীন সুলতানা বলেন, “পরীক্ষায় অংশ নিয়েও শতভাগ ফেল করাটা জেলার জন্য খুবই অসম্মানজনক। এ ছাড়া দুটি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা রেজিস্ট্রেশন করার পরও কেন পরীক্ষায় অংশ নেয়নি, সে বিষয়েও প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের সঙ্গে কথা বলা হবে।”

তিনি আরও বলেন, খারাপ ফলাফল করা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে দাখিলে হতাশাজনক ফল, ৪ মাদ্রাসায় পাস করেনি কোনো শিক্ষার্থী
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
১১ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উপচার
 মঙ্গলবার , ১১ আগস্ট ২০২৬
হোমরাজশাহীচাঁপাইনবাবগঞ্জে দাখিলে হতাশাজনক ফল, ৪ মাদ্রাসায় পাস করেনি কোনো শিক্ষার্থী

চাঁপাইনবাবগঞ্জে দাখিলে হতাশাজনক ফল, ৪ মাদ্রাসায় পাস করেনি কোনো শিক্ষার্থী

favicon
ফয়সাল আজম অপু,চাঁপাইনবাবগঞ্জ :
চাঁপাইনবাবগঞ্জে দাখিলে হতাশাজনক ফল, ৪ মাদ্রাসায় পাস করেনি কোনো শিক্ষার্থী

চাঁপাইনবাবগঞ্জে এবারের দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে চারটি মাদ্রাসায় দেখা গেছে চরম হতাশাজনক চিত্র। এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। এর মধ্যে দুটি মাদ্রাসায় পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা সবাই অকৃতকার্য হয়েছে, আর বাকি দুটি প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধিত শিক্ষার্থীদের কেউ পরীক্ষায় অংশই নেয়নি।

সোমবার (১০ আগস্ট) মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের দাখিল পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর জেলার ফলাফল পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানা গেছে।

ফলাফল অনুযায়ী, জেলার চারটি মাদ্রাসায় মোট ২৬ জন শিক্ষার্থী নিবন্ধিত ছিল। তাদের মধ্যে ১৬ জন পরীক্ষায় অংশ নিলেও একজনও উত্তীর্ণ হতে পারেনি।

জানা যায়, গোমস্তাপুর উপজেলার গোপীনাথপুর ডিএস দাখিল মাদ্রাসায় ১৬ জন শিক্ষার্থী নিবন্ধিত থাকলেও পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৪ জন। তবে তাদের কেউই পাস করতে পারেনি।

একই উপজেলার ব্রঞ্জনাথপুর দাখিল মাদ্রাসায় চারজন শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করলেও পরীক্ষায় অংশ নেয়নি একজনও।

অন্যদিকে, নাচোল উপজেলার বকুলতলা দাখিল মাদ্রাসায় পাঁচজন শিক্ষার্থী নিবন্ধিত থাকলেও পরীক্ষায় অংশ নেয় মাত্র দুজন। অংশ নেওয়া দুজনই অকৃতকার্য হয়েছে।

এ ছাড়া শিবগঞ্জ উপজেলার নাটোর দাখিল মাদ্রাসায় মাত্র একজন শিক্ষার্থী নিবন্ধিত ছিল। তবে ওই শিক্ষার্থীও পরীক্ষায় অনুপস্থিত থাকায় প্রতিষ্ঠানটির ফলাফল শূন্যই থেকে গেছে।

পরীক্ষায় অংশ নিয়ে শতভাগ শিক্ষার্থীর অকৃতকার্য হওয়া এবং নিবন্ধিত শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশ না নেওয়ার ঘটনায় জেলার শিক্ষা ব্যবস্থার মান, পাঠদান কার্যক্রম ও প্রাতিষ্ঠানিক তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. বিপ্লব কুমার মজুমদার বলেন, নামমাত্র পরীক্ষার্থী নিয়ে পরিচালিত এসব প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কার্যক্রম ও পাঠদানের মান নিয়েও প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে গোপীনাথপুর ডিএস দাখিল মাদ্রাসার সুপার রায়হান উদ্দীনকে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। অন্যদিকে, বকুলতলা দাখিল মাদ্রাসার সুপার সুলতান আহম্মেদের মোবাইল নম্বর বন্ধ থাকায় তাঁর বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শাহীন সুলতানা বলেন, “পরীক্ষায় অংশ নিয়েও শতভাগ ফেল করাটা জেলার জন্য খুবই অসম্মানজনক। এ ছাড়া দুটি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা রেজিস্ট্রেশন করার পরও কেন পরীক্ষায় অংশ নেয়নি, সে বিষয়েও প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের সঙ্গে কথা বলা হবে।”

তিনি আরও বলেন, খারাপ ফলাফল করা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে দাখিলে হতাশাজনক ফল, ৪ মাদ্রাসায় পাস করেনি কোনো শিক্ষার্থী
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
১১ আগস্ট ২০২৬