মঙ্গলবার , ১১ আগস্ট ২০২৬
হোমরাজশাহীছাত্রত্ব হারানোর পরও রাবির মতিহার হলে বহাল তবিয়তে ছাত্রদল নেতা নিশাত

ছাত্রত্ব হারানোর পরও রাবির মতিহার হলে বহাল তবিয়তে ছাত্রদল নেতা নিশাত

favicon
রাবি প্রতিনিধি :
ছাত্রত্ব হারানোর পরও রাবির মতিহার হলে বহাল তবিয়তে ছাত্রদল নেতা নিশাত

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) মতিহার হলের একটি সিট বাতিলের নির্দেশ পাওয়ার পরও তা অমান্য করে হলে নিয়মিত অবস্থানের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এক শাখা ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দেওয়া নির্দিষ্ট সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও তিনি হল ত্যাগ করেননি বলে জানা গেছে।

অভিযুক্ত ওই নেতার নাম আব্দুল্লাহ আল নিশাত। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং মতিহার হল শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ২ জুলাই মতিহার হলের প্রাধ্যক্ষ স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে আব্দুল্লাহ আল নিশাতের হলের সিট বাতিলের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। ওই নোটিশে উল্লেখ করা হয়, সংশ্লিষ্ট বিভাগের তৃতীয় বর্ষের পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে তার পরবর্তী বর্ষে ভর্তি হওয়ার কথা থাকলেও দাপ্তরিকভাবে তার কোনো ভর্তির তথ্য পাওয়া যায়নি। নিয়মানুযায়ী তাকে ড্রপআউট বা ঝরে পড়া শিক্ষার্থী হিসেবে বিবেচনা করে হলের আসনটি বাতিল করা হয়। একই সঙ্গে গত ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে হলের যাবতীয় বকেয়া পরিশোধপূর্বক তাকে হল ত্যাগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

অনুসন্ধানে জানা যায়, একাডেমিক নিয়ম অনুযায়ী বিএসসি (অনার্স) পার্ট-২ বা দ্বিতীয় বর্ষের সমমান পরীক্ষায় আব্দুল্লাহ আল নিশাত পরপর দুইবার অকৃতকার্য হন। পরবর্তীতে পরবর্তী বর্ষের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও পরবর্তী ধাপের পরীক্ষায় আবারও অকৃতকার্য হওয়ায় তিনি একাডেমিক নীতিমালা অনুযায়ী ড্রপআউট হিসেবে চিহ্নিত হন।

নির্ধারিত সময়সীমা পার হওয়ার পরও হলে অবস্থানের সত্যতা স্বীকার করেছেন অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা আব্দুল্লাহ আল নিশাত। নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে তিনি জানান, নিজের ছাত্রত্ব ফিরে পাওয়ার জন্য তিনি ইতিমধ্যে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছেন। হলের প্রাধ্যক্ষের কাছে তিনি কিছুটা সময় চেয়েছেন এবং প্রাধ্যক্ষ মহোদয় তাকে সেই সময় দিয়েছেন। বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, যেহেতু এখনো তার নামে নতুন করে কোনো আসন বরাদ্দ হয়নি, তাই হলের অ্যালটমেন্ট বা বরাদ্দ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত তার অবস্থান করার সুযোগ থাকতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

তিনি আরও যোগ করেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তার ছাত্রত্ব পুনরুদ্ধার হলে সিট নিয়ে আর কোনো জটিলতা থাকবে না। তবে যদি ছাত্রত্ব ফিরে পেতে ব্যর্থ হন, তবে নিয়মানুযায়ী তিনি হল ত্যাগ করবেন। বিষয়টিকে অনৈতিকভাবে হল দখল বা জবরদখল হিসেবে না দেখার অনুরোধ জানিয়েছেন এই ছাত্রদল নেতা।

এ বিষয়ে মতিহার হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ছামিউল ইসলাম সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, যখন ওই শিক্ষার্থীর সিট বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তখন তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলে ছাত্রত্ব ফিরে পাওয়ার জন্য একটি আবেদন করেন এবং তার দপ্তরে এসে কিছু সময় প্রার্থনা করেন। প্রাধ্যক্ষ বিষয়টি মানবিক ও প্রশাসনিক বিবেচনায় তাকে সাময়িক সময় দিয়েছিলেন বলে নিশ্চিত করেন।

প্রাধ্যক্ষ আরও বলেন, নিশাত ইতিমধ্যে তার ছাত্রত্ব ফিরে পেয়েছেন কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন। যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তার ছাত্রত্ব ফিরে না আসে, তবে ওই সিটটি বাতিল ঘোষণা করে অন্য কোনো বৈধ ও অপেক্ষমাণ শিক্ষার্থীকে আনুষ্ঠানিকভাবে বরাদ্দ দেওয়া হবে।

ছাত্রত্ব হারানোর পরও রাবির মতিহার হলে বহাল তবিয়তে ছাত্রদল নেতা নিশাত
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
১১ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উপচার
 মঙ্গলবার , ১১ আগস্ট ২০২৬
হোমরাজশাহীছাত্রত্ব হারানোর পরও রাবির মতিহার হলে বহাল তবিয়তে ছাত্রদল নেতা নিশাত

ছাত্রত্ব হারানোর পরও রাবির মতিহার হলে বহাল তবিয়তে ছাত্রদল নেতা নিশাত

favicon
রাবি প্রতিনিধি :
ছাত্রত্ব হারানোর পরও রাবির মতিহার হলে বহাল তবিয়তে ছাত্রদল নেতা নিশাত

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) মতিহার হলের একটি সিট বাতিলের নির্দেশ পাওয়ার পরও তা অমান্য করে হলে নিয়মিত অবস্থানের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এক শাখা ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দেওয়া নির্দিষ্ট সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও তিনি হল ত্যাগ করেননি বলে জানা গেছে।

অভিযুক্ত ওই নেতার নাম আব্দুল্লাহ আল নিশাত। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং মতিহার হল শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ২ জুলাই মতিহার হলের প্রাধ্যক্ষ স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে আব্দুল্লাহ আল নিশাতের হলের সিট বাতিলের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। ওই নোটিশে উল্লেখ করা হয়, সংশ্লিষ্ট বিভাগের তৃতীয় বর্ষের পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে তার পরবর্তী বর্ষে ভর্তি হওয়ার কথা থাকলেও দাপ্তরিকভাবে তার কোনো ভর্তির তথ্য পাওয়া যায়নি। নিয়মানুযায়ী তাকে ড্রপআউট বা ঝরে পড়া শিক্ষার্থী হিসেবে বিবেচনা করে হলের আসনটি বাতিল করা হয়। একই সঙ্গে গত ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে হলের যাবতীয় বকেয়া পরিশোধপূর্বক তাকে হল ত্যাগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

অনুসন্ধানে জানা যায়, একাডেমিক নিয়ম অনুযায়ী বিএসসি (অনার্স) পার্ট-২ বা দ্বিতীয় বর্ষের সমমান পরীক্ষায় আব্দুল্লাহ আল নিশাত পরপর দুইবার অকৃতকার্য হন। পরবর্তীতে পরবর্তী বর্ষের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও পরবর্তী ধাপের পরীক্ষায় আবারও অকৃতকার্য হওয়ায় তিনি একাডেমিক নীতিমালা অনুযায়ী ড্রপআউট হিসেবে চিহ্নিত হন।

নির্ধারিত সময়সীমা পার হওয়ার পরও হলে অবস্থানের সত্যতা স্বীকার করেছেন অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা আব্দুল্লাহ আল নিশাত। নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে তিনি জানান, নিজের ছাত্রত্ব ফিরে পাওয়ার জন্য তিনি ইতিমধ্যে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছেন। হলের প্রাধ্যক্ষের কাছে তিনি কিছুটা সময় চেয়েছেন এবং প্রাধ্যক্ষ মহোদয় তাকে সেই সময় দিয়েছেন। বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, যেহেতু এখনো তার নামে নতুন করে কোনো আসন বরাদ্দ হয়নি, তাই হলের অ্যালটমেন্ট বা বরাদ্দ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত তার অবস্থান করার সুযোগ থাকতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

তিনি আরও যোগ করেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তার ছাত্রত্ব পুনরুদ্ধার হলে সিট নিয়ে আর কোনো জটিলতা থাকবে না। তবে যদি ছাত্রত্ব ফিরে পেতে ব্যর্থ হন, তবে নিয়মানুযায়ী তিনি হল ত্যাগ করবেন। বিষয়টিকে অনৈতিকভাবে হল দখল বা জবরদখল হিসেবে না দেখার অনুরোধ জানিয়েছেন এই ছাত্রদল নেতা।

এ বিষয়ে মতিহার হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ছামিউল ইসলাম সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, যখন ওই শিক্ষার্থীর সিট বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তখন তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলে ছাত্রত্ব ফিরে পাওয়ার জন্য একটি আবেদন করেন এবং তার দপ্তরে এসে কিছু সময় প্রার্থনা করেন। প্রাধ্যক্ষ বিষয়টি মানবিক ও প্রশাসনিক বিবেচনায় তাকে সাময়িক সময় দিয়েছিলেন বলে নিশ্চিত করেন।

প্রাধ্যক্ষ আরও বলেন, নিশাত ইতিমধ্যে তার ছাত্রত্ব ফিরে পেয়েছেন কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন। যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তার ছাত্রত্ব ফিরে না আসে, তবে ওই সিটটি বাতিল ঘোষণা করে অন্য কোনো বৈধ ও অপেক্ষমাণ শিক্ষার্থীকে আনুষ্ঠানিকভাবে বরাদ্দ দেওয়া হবে।

ছাত্রত্ব হারানোর পরও রাবির মতিহার হলে বহাল তবিয়তে ছাত্রদল নেতা নিশাত
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
১১ আগস্ট ২০২৬