দেশের বাজারে ফের বাড়ল স্বর্ণের দাম, ভরি ছাড়াল ২ লাখ ৩৪ হাজার টাকা
স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের বা পিওর গোল্ডের দাম বেড়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। মাত্র একদিনের ব্যবধানে বড় এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম গিয়ে ঠেকেছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৩৮ টাকায়। আজ শনিবার সকালে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে এবং নতুন এই দর আজ সকাল ১০টা থেকেই দেশজুড়ে কার্যকর হয়েছে।
বাজুসের প্রকাশিত নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি বা ১১.৬৬৪ গ্রাম ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৩৮ টাকা। এর পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৩ হাজার ৫৪১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯১ হাজার ৯৩১ টাকা এবং ঐতিহ্যবাহী সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৮২২ টাকা। এসব নির্ধারিত মূল্যের সঙ্গে সরকারের নির্ধারিত ভ্যাট এবং বাজুস নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি যুক্ত হবে বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, এর ঠিক একদিন আগে গত ৭ আগস্ট সকালে স্বর্ণের দাম সামান্য সমন্বয় করে কমিয়েছিল বাজুস। সেদিন প্রতি ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৯ হাজার ৬৬৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এ ছাড়া সেদিন ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৯ হাজার ৩৪২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৮ হাজার ৩৭৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৩ হাজার ৮৪৮ টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছিল। কিন্তু ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারের দফার ব্যবধানে সেই দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী হলো।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, চলতি বছর জুয়েলারি খাতে বিশ্ববাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশের বাজারেও মুদ্রাস্ফীতি ও তেজাবি স্বর্ণের দামের অস্থিরতার প্রভাব পড়তে দেখা যাচ্ছে। পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে মোট ১০০ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪৯ দফা দাম বাড়ানো হলেও ৫০ দফা কমানো হয়েছে এবং ১ দফা শুধুমাত্র ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। স্বর্ণের এই লাগাতার দাম পরিবর্তনের ফলে সাধারণ ক্রেতা ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের ক্রয়ক্ষমতা দিন দিন আরও সীমিত হয়ে পড়ছে।