বৃহস্পতিবার , ০৬ আগস্ট ২০২৬
হোমজাতীয়লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে রেকর্ড ৪২ হাজার কোটি টাকার বেশি কৃষিঋণ বিতরণ

লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে রেকর্ড ৪২ হাজার কোটি টাকার বেশি কৃষিঋণ বিতরণ

favicon
উপচার ডেস্ক :-
লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে রেকর্ড ৪২ হাজার কোটি টাকার বেশি কৃষিঋণ বিতরণ

বাংলাদেশের অর্থনীতি ও খাদ্য নিরাপত্তার প্রধান চালিকাশক্তি কৃষি খাতের গতিশীলতা বজায় রাখতে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কৃষি ও পল্লী ঋণ বিতরণে দুর্দান্ত সাফল্য অর্জিত হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিদায়ী অর্থবছরে ব্যাংকগুলো নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রাকে ছাড়িয়ে রেকর্ড পরিমাণ ঋণ বিতরণ করেছে। পরিমাণগত এই সাফল্য কৃষকের মুখে হাসি ফোটালেও, অন্যদিকে কিছু ব্যাংকের দুর্বল পারফরম্যান্স, বকেয়া এবং শ্রেণিকৃত বা খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

চলতি অর্থবছরে ৫৮টি অংশগ্রহণকারী ব্যাংকের জন্য মোট ৩৯ হাজার কোটি টাকা কৃষি ও পল্লী ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। অর্থবছর শেষে প্রকৃত বিতরণ দাঁড়িয়েছে ৪২ হাজার ৮৩৪ কোটি ১৬ লাখ টাকা, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার ১০৯ দশমিক ৮৩ শতাংশ। শুধু লক্ষ্যমাত্রা অর্জনই নয়, বিগত অর্থবছরের তুলনায় এই খাতে প্রায় ১৪ দশমিক ৭৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে, যা দেশের গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও বেশি চাঙ্গা করে তুলেছে।

ব্যাংকভিত্তিক বিতরণ পর্যালোচনায় দেখা যায়, এই সাফল্যের শীর্ষে রয়েছে বিশেষায়িত ব্যাংকগুলো, যারা তাদের লক্ষ্যমাত্রার ১২৩ দশমিক ৪০ শতাংশ অর্জন করেছে। এ ছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো ১০৯ দশমিক ৮৯ শতাংশ, বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক ১০৮ দশমিক ০৫ শতাংশ এবং বিদেশি ব্যাংকগুলো ১০৪ দশমিক ০৫ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করেছে। তবে ব্যতিক্রম ছিল ইসলামী ধারার ব্যাংকগুলো। এই খাতের ব্যাংকগুলো মাত্র ৯৪ দশমিক ৩৭ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পেরেছে, যা তাদের ঋণ বিতরণের ব্যর্থতা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

মাসভিত্তিক পর্যালোচনায় দেখা যায়, ঋণ বিতরণে বছরজুড়েই ছিল নানা ওঠানামা। গত ডিসেম্বরে সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৯১৫ কোটি টাকা বিতরণ হলেও জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত এই প্রবাহে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যায়। তবে বছরের শেষ প্রান্তিকে বিশেষ করে জুনে ২৯ দশমিক ১৯৪৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে অর্থবছরের সমাপ্তি ঘটে, যা কৃষি অর্থায়নে নতুন গতি ফিরিয়ে আনে। খাতওয়ারি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মোট ঋণের ৪৭ দশমিক ৩২ শতাংশ গেছে ফসল উৎপাদনে। এ ছাড়া প্রাণিসম্পদ ও পোল্ট্রিতে ২৬ দশমিক ৩৮ শতাংশ, মৎস্য খাতে ১৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ এবং গ্রামীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ১১ দশমিক ৬৮ শতাংশ ঋণ দেওয়া হয়েছে। তবে কৃষির আধুনিকায়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সেচ ও কৃষিযন্ত্রে বরাদ্দের হার ছিল খুবই কম।

বিতরণের পাশাপাশি বিদায়ী অর্থবছরে বকেয়া বা আউটস্ট্যান্ডিং ঋণ এবং ঋণ আদায় উভয়ই বৃদ্ধি পেয়েছে। অর্থবছর শেষে মোট স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৬৩ হাজার ৫৭৪ কোটি টাকায়, যা আগের বছরের চেয়ে ৫ দশমিক ৫৫ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে আদায় হয়েছে ৪৫ হাজার ২৬ কোটি ৯৩ লাখ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ বেশি। তবে সামগ্রিক চিত্রের বিপরীত অবস্থানে রয়েছে ইসলামী ব্যাংকগুলো। অন্য ব্যাংকগুলোর বকেয়া ও খেলাপি ঋণ কমলেও ইসলামী ব্যাংকগুলোর বকেয়া ৭৩ দশমিক ১১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং শ্রেণিকৃত বা খেলাপি ঋণ অস্বাভাবিকভাবে ১৪৯ দশমিক ৩৯ শতাংশ বেড়ে গেছে, যা তাদের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাকে স্পষ্ট করে তোলে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্বিক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, অংশগ্রহণকারী ব্যাংক ও বিআরডিবি মিলিয়ে মোট কৃষিঋণ বিতরণ হয়েছে ৪৪ হাজার ১৬৮ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। তবে বিপুল পরিমাণ বকেয়া ও খেলাপি ঋণ দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা না হলে এই অর্জনের ধারাবাহিকতা দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। ইনস্টিটিউট ফর ইনক্লুসিভ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইএনএফ) সাবেক নির্বাহী পরিচালক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মোস্তফা কে মুজেরী এ প্রসঙ্গে বলেন, ঋণ বিতরণ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়ানো অবশ্যই ইতিবাচক। তবে শুধু পরিমাণ বাড়লেই হবে না, সেই অর্থ উৎপাদনশীল খাতে ব্যবহার হচ্ছে কি না এবং সময়মতো আদায় হচ্ছে কি না, সেটাই আসল কথা। ইসলামী ব্যাংকগুলোর বকেয়া ও খেলাপি ঋণের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি তাদের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার দুর্বলতারই বহিঃপ্রকাশ।

লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে রেকর্ড ৪২ হাজার কোটি টাকার বেশি কৃষিঋণ বিতরণ
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
০৫ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উপচার
 বৃহস্পতিবার , ০৬ আগস্ট ২০২৬
হোমজাতীয়লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে রেকর্ড ৪২ হাজার কোটি টাকার বেশি কৃষিঋণ বিতরণ

লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে রেকর্ড ৪২ হাজার কোটি টাকার বেশি কৃষিঋণ বিতরণ

favicon
উপচার ডেস্ক :-
লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে রেকর্ড ৪২ হাজার কোটি টাকার বেশি কৃষিঋণ বিতরণ

বাংলাদেশের অর্থনীতি ও খাদ্য নিরাপত্তার প্রধান চালিকাশক্তি কৃষি খাতের গতিশীলতা বজায় রাখতে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কৃষি ও পল্লী ঋণ বিতরণে দুর্দান্ত সাফল্য অর্জিত হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিদায়ী অর্থবছরে ব্যাংকগুলো নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রাকে ছাড়িয়ে রেকর্ড পরিমাণ ঋণ বিতরণ করেছে। পরিমাণগত এই সাফল্য কৃষকের মুখে হাসি ফোটালেও, অন্যদিকে কিছু ব্যাংকের দুর্বল পারফরম্যান্স, বকেয়া এবং শ্রেণিকৃত বা খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

চলতি অর্থবছরে ৫৮টি অংশগ্রহণকারী ব্যাংকের জন্য মোট ৩৯ হাজার কোটি টাকা কৃষি ও পল্লী ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। অর্থবছর শেষে প্রকৃত বিতরণ দাঁড়িয়েছে ৪২ হাজার ৮৩৪ কোটি ১৬ লাখ টাকা, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার ১০৯ দশমিক ৮৩ শতাংশ। শুধু লক্ষ্যমাত্রা অর্জনই নয়, বিগত অর্থবছরের তুলনায় এই খাতে প্রায় ১৪ দশমিক ৭৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে, যা দেশের গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও বেশি চাঙ্গা করে তুলেছে।

ব্যাংকভিত্তিক বিতরণ পর্যালোচনায় দেখা যায়, এই সাফল্যের শীর্ষে রয়েছে বিশেষায়িত ব্যাংকগুলো, যারা তাদের লক্ষ্যমাত্রার ১২৩ দশমিক ৪০ শতাংশ অর্জন করেছে। এ ছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো ১০৯ দশমিক ৮৯ শতাংশ, বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক ১০৮ দশমিক ০৫ শতাংশ এবং বিদেশি ব্যাংকগুলো ১০৪ দশমিক ০৫ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করেছে। তবে ব্যতিক্রম ছিল ইসলামী ধারার ব্যাংকগুলো। এই খাতের ব্যাংকগুলো মাত্র ৯৪ দশমিক ৩৭ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পেরেছে, যা তাদের ঋণ বিতরণের ব্যর্থতা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

মাসভিত্তিক পর্যালোচনায় দেখা যায়, ঋণ বিতরণে বছরজুড়েই ছিল নানা ওঠানামা। গত ডিসেম্বরে সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৯১৫ কোটি টাকা বিতরণ হলেও জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত এই প্রবাহে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যায়। তবে বছরের শেষ প্রান্তিকে বিশেষ করে জুনে ২৯ দশমিক ১৯৪৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে অর্থবছরের সমাপ্তি ঘটে, যা কৃষি অর্থায়নে নতুন গতি ফিরিয়ে আনে। খাতওয়ারি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মোট ঋণের ৪৭ দশমিক ৩২ শতাংশ গেছে ফসল উৎপাদনে। এ ছাড়া প্রাণিসম্পদ ও পোল্ট্রিতে ২৬ দশমিক ৩৮ শতাংশ, মৎস্য খাতে ১৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ এবং গ্রামীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ১১ দশমিক ৬৮ শতাংশ ঋণ দেওয়া হয়েছে। তবে কৃষির আধুনিকায়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সেচ ও কৃষিযন্ত্রে বরাদ্দের হার ছিল খুবই কম।

বিতরণের পাশাপাশি বিদায়ী অর্থবছরে বকেয়া বা আউটস্ট্যান্ডিং ঋণ এবং ঋণ আদায় উভয়ই বৃদ্ধি পেয়েছে। অর্থবছর শেষে মোট স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৬৩ হাজার ৫৭৪ কোটি টাকায়, যা আগের বছরের চেয়ে ৫ দশমিক ৫৫ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে আদায় হয়েছে ৪৫ হাজার ২৬ কোটি ৯৩ লাখ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ বেশি। তবে সামগ্রিক চিত্রের বিপরীত অবস্থানে রয়েছে ইসলামী ব্যাংকগুলো। অন্য ব্যাংকগুলোর বকেয়া ও খেলাপি ঋণ কমলেও ইসলামী ব্যাংকগুলোর বকেয়া ৭৩ দশমিক ১১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং শ্রেণিকৃত বা খেলাপি ঋণ অস্বাভাবিকভাবে ১৪৯ দশমিক ৩৯ শতাংশ বেড়ে গেছে, যা তাদের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাকে স্পষ্ট করে তোলে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্বিক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, অংশগ্রহণকারী ব্যাংক ও বিআরডিবি মিলিয়ে মোট কৃষিঋণ বিতরণ হয়েছে ৪৪ হাজার ১৬৮ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। তবে বিপুল পরিমাণ বকেয়া ও খেলাপি ঋণ দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা না হলে এই অর্জনের ধারাবাহিকতা দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। ইনস্টিটিউট ফর ইনক্লুসিভ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইএনএফ) সাবেক নির্বাহী পরিচালক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মোস্তফা কে মুজেরী এ প্রসঙ্গে বলেন, ঋণ বিতরণ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়ানো অবশ্যই ইতিবাচক। তবে শুধু পরিমাণ বাড়লেই হবে না, সেই অর্থ উৎপাদনশীল খাতে ব্যবহার হচ্ছে কি না এবং সময়মতো আদায় হচ্ছে কি না, সেটাই আসল কথা। ইসলামী ব্যাংকগুলোর বকেয়া ও খেলাপি ঋণের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি তাদের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার দুর্বলতারই বহিঃপ্রকাশ।

লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে রেকর্ড ৪২ হাজার কোটি টাকার বেশি কৃষিঋণ বিতরণ
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
০৫ আগস্ট ২০২৬