শ্রীলঙ্কার মাহারা কারাগারে ভয়াবহ দাঙ্গা
শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোর উপকণ্ঠে অবস্থিত উচ্চ নিরাপত্তা সংবলিত মাহারা কারাগারে সংঘটিত ভয়াবহ দাঙ্গার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে যৌথভাবে সেনাবাহিনী ও বিশেষ কমান্ডো বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত একজন বন্দি নিহত এবং আরও ছয়জন আহত হয়েছেন। অতিরিক্ত বন্দির দীর্ঘস্থায়ী চাপ এবং ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত চাপের কারণে কারাগারগুলোতে নিরাপত্তাজনিত সংকট চরম আকার ধারণ করেছে।
রোববার (২ আগস্ট) শ্রীলঙ্কা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, শনিবার সকালে কারাগারের অভ্যন্তরে বন্দিরা হঠাৎ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে এবং তীব্র দাঙ্গা শুরু করে। এ সময় বিক্ষুব্ধ বন্দিরা কারাগারের একাধিক ভবনে ভাঙচুর চালায়। পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী তলব করা হয়।
ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে পুলিশের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) সঞ্জীবা মেদাওয়াত্তে গণমাধ্যমকে জানান, বাংলাদেশ বা শ্রীলঙ্কার আইন প্রয়োগকারী সংস্থার যৌথ পদক্ষেপে সেনাবাহিনী ও স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) কমান্ডো সদস্যদের সহায়তায় কারাগারের ভেতরে ও বাইরে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। পরে বন্দিদের নিরাপদে পুনরায় তাদের নিজ নিজ কক্ষে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, দাঙ্গার সময় সহিংস বন্দিরা কারাগারটির রান্নাঘর, চিকিৎসাকেন্দ্র বা হাসপাতাল, নবনির্মিত পুনর্বাসন ভবন এবং কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পুরোপুরি ভাঙচুর ও ধ্বংস করে দেয়।কারাগার সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মাহারা কারাগারের নির্ধারিত ধারণক্ষমতা মাত্র এক হাজার হলেও বর্তমানে সেখানে প্রায় চার হাজার ১০০ বন্দি মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অর্থাৎ, কারাগারটি তার ধারণক্ষমতার প্রায় চার গুণ অতিরিক্ত বন্দি নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে, যা দেশটির প্রায় প্রতিটি কারাগারের দীর্ঘদিনের একটি গুরুতর সমস্যা। অতিরিক্ত এই জনসংখ্যার চাপে প্রায়শই সেখানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০২০ সালের নভেম্বর মাসেও একই মাহারা কারাগারে ভয়াবহ দাঙ্গার ঘটনা ঘটেছিল। সে সময় নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে ১১ জন বন্দি নিহত এবং প্রায় ১২০ জন আহত হয়েছিলেন। এছাড়া, এর ঠিক এক মাস আগে দেশটির অন্য আরেকটি কারাগারে সংঘটিত রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ১০ জন কারারক্ষী ও ২১ জন বন্দি প্রাণ হারিয়েছিলেন। কারাগারগুলোতে এই অসহনীয় অতিরিক্ত বন্দির চাপ এবং ঘন ঘন সহিংসতার ঘটনা এড়াতে গত মাসেই পরিত্যক্ত সরকারি ভবনগুলোকে অস্থায়ী কারাগারে রূপান্তর করার একটি বিশেষ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল শ্রীলঙ্কা সরকার। দেশটির কারা কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান শ্রীলঙ্কার কারাগারগুলোর মোট বন্দির তিন-চতুর্থাংশের বেশি মানুষই বিচারাধীন বন্দি হিসেবে আটকে আছেন, যার অধিকাংশই মাদক-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মামলার আসামি।