গোদাগাড়ীতে ১০ কোটি টাকার সড়ক প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম
রাজশাহীর গোদাগাড়ী পৌরসভার প্রায় ১০ কোটি টাকার সড়ক ও ড্রেন সংস্কার প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, সিডিউল না মেনে তিন নম্বর ইটের খোয়া, ভরাট বালু, এঁটেল মাটি ও নিম্নমানের পাথর দিয়ে নির্মাণ কাজ চালানো হচ্ছে। এমনকি মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যেও বন্ধ থাকেনি ঢালাই কাজ। এসব অনিয়মের প্রতিবাদে ইতোমধ্যেই দুই দফায় কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের (এলজিইডি) আরইউটিডি প্রকল্পের আওতায় ১০ কোটি ১৯ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার সড়ক এবং এক হাজার ২০০ মিটার ড্রেন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি এ কাজ শুরু হয়। ঢাকার মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমএ ইঞ্জিনিয়ারিং হলেও কাজটি সাব-কন্ট্রাক্টে বাস্তবায়ন করছে রাজশাহীর এলিজা এন্টারপ্রাইজ। সরেজমিনে গোদাগাড়ী থানা সংলগ্ন এলাকা ও বিভিন্ন অংশে দেখা গেছে, ড্রেনের ঢালাইয়ে ব্যবহৃত উপকরণগুলো খুবই ভঙ্গুর এবং সিডিউলে নির্ধারিত ডোমার বালুর পরিবর্তে নিম্নমানের স্থানীয় বালু ব্যবহার করা হচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরে সড়ক ও ড্রেন খননের বর্জ্য রাস্তার পাশে ফেলে রাখায় সামান্য বৃষ্টিতেই কাদা ও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। এর পাশাপাশি পদ্মা নদীসংলগ্ন এলাকার একটি পুরোনো সেতু ভেঙে ফেলার পর নতুন সেতুর কাজ শুরু না করায় লক্ষাধিক মানুষকে প্রায় এক কিলোমিটার পথ ঘুরে চলাচল করতে হচ্ছে। এমনকি হাটের ব্যবসায়ীরা পণ্য মাথায় করে নিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। অন্যদিকে ভগবান্তপুর এলাকায় ড্রেনের মাটি দিয়ে একটি ব্যক্তিমালিকানাধীন পুকুর ভরাট করার অভিযোগও উঠেছে, যা স্থানীয়দের মতে অনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে সম্ভব হয়েছে।
টানা বৃষ্টির মধ্যে ঢালাই কাজ চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে প্রকল্পের উপসহকারী প্রকৌশলী হারেস শেখ জানান, উপকরণ আগে প্রস্তুত করায় কাজ চালাতে হয়েছে। তবে এতে গুণগত মান নষ্ট হবে কি না সে প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যান তিনি। স্থানীয় অধিবাসীদের অভিযোগ, অনিয়মের কথা একাধিকবার জানানো সত্ত্বেও পৌরসভা ও এলজিইডির মাঠপর্যায়ের প্রকৌশলীদের অসহযোগিতার কারণে কোনো প্রতিকার মিলছে না।
তবে পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী সারওয়ার জাহান মুকুল ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এলিজা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আসাদুল ইসলাম যৌথভাবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, বৃষ্টির কারণে ইটের রঙ কিছুটা নষ্ট হলেও সব নির্মাণসামগ্রী সিডিউল অনুযায়ী ব্যবহার করা হচ্ছে এবং যোগসাজশের অভিযোগ ভিত্তিহীন। এই বিষয়ে এলজিইডি রাজশাহীর নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ জানিয়েছেন, তিনি ঢাকায় অবস্থান করছেন এবং রাজশাহীতে ফিরে অভিযোগ তদন্ত করে সতত্য পাওয়া গেলে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।