পবায় প্রাইভেটের নামে শিশু শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ
রাজশাহীর পবা উপজেলার বড়গাছি ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ পাড়া এলাকায় এক শিশুকন্যাকে (৯) পড়ার সুযোগে যৌন হয়রানির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে আবু বক্কর ওমর ফারুক নামের এক গ্রাম্য ডাক্তারের বিরুদ্ধে। শিক্ষাদানের আড়ালে ঘটে যাওয়া এই ঘটনার পর থেকে স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারসহ এলাকার সর্বস্তরের মানুষ অবিলম্বে অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগী ৯ বছর বয়সী শিশু খাদিজার বাবা আবদুস সালাম পেশায় একজন কৃষক। অভিযুক্ত ওমর ফারুক দীর্ঘ ৬-৭ বছর ধরে এলাকায় গ্রাম্য ডাক্তারি করছেন এবং নিজ বাড়ির সাথে যুক্ত ফার্মেসি পরিচালনা করেন। পাশাপাশি তিনি ও তার স্ত্রী নিজেদের বাড়িতেই এলাকার ছোট ছোট শিশুদের প্রাইভেট পড়ান। ওমরের পরিবার এলাকায় ধর্মীয় চর্চার সাথে যুক্ত এবং তার বাবা মজিবুর রহমান ক্বারী হিসেবে বিভিন্ন বাড়িতে কোরআন শিক্ষা দেন।
প্রায় ২২ দিন আগে প্রতিদিনের মতোই শিশু খাদিজা ওমর ফারুক ও তার স্ত্রীর কাছে পড়তে যায়। অভিযোগ অনুযায়ী, পড়ালেখার একপর্যায়ে অন্য শিশুদের কৌশল করে বিদায় করে দেন ওমর। পরে খালি ঘরে শিশু খাদিজাকে একা পেয়ে তার শরীরে অনৈতিক স্পর্শ করেন এবং যৌন হয়রানি চালান।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে ভুক্তভোগী শিশুর বোন জানান, শিক্ষকতার মতো বিশ্বস্ত জায়গায় বসে ওমর এমন কুরুচিপূর্ণ কাজ করবে তা তারা কখনো ভাবেননি। শিশুটি বাসায় ফিরে কান্নাকাটি করে পুরো ঘটনা জানানোর পর তার মা বিষয়টি ওমরের বাবা মজিবুর রহমানকে জানাতে যান। কিন্তু মজিবুর রহমান এ নিয়ে কোনো বাড়াবাড়ি না করার জন্য নির্দেশ দেন। পরিবারটি এখন এই অপরাধের কঠোর বিচার দাবি করছে, যাতে আর কোনো শিশুর সাথে এমন ঘটনা না ঘটে।
ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বড়গাছি ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রহিদুল জানান, শিক্ষক বা চিকিৎসকের মতো দুটি পেশার আড়ালে এমন অনৈতিক কাজ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তারা সামাজিক ও স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং দোষী ওমরের উপযুক্ত বিচার চান।
তবে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত ওমর ফারুক ও তার পরিবার। ওমরের বাবা ক্বারী মজিবুর রহমান জানান, তার ছেলের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তোলা হচ্ছে। মেয়ের মা কোনো প্রমাণ দিতে পারেননি বলেই তাকে বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করতে মানা করা হয়েছিল। অন্যদিকে অভিযুক্ত ওমর ফারুক দাবি করেন, শিশুটি মূলত তার স্ত্রীর কাছেই পড়তে আসে। সেদিন তার স্ত্রী না থাকায় তিনি পড়াচ্ছিলেন, তবে তিনি কোনো খারাপ কাজ করেননি।
বর্তমানে পুরো দক্ষিণ পাড়া এলাকায় এ নিয়ে ব্যাপক অসন্তোষ বিরাজ করছে। এলাকার সাধারণ মানুষ ধর্মীয় পরিচয় ও চিকিৎসার আড়ালে এমন অনৈতিক ঘটনার জন্য অবিলম্বে অভিযুক্ত ওমরের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাকে উপযুক্ত শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।