রাজশাহী কারাগারে বন্দিদের জীবনমান উন্নয়নে নতুন দৃষ্টান্ত আল মামুনের
রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দিদের জীবনমান উন্নয়ন, সংশোধনমূলক পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কল্যাণে একের পর এক প্রশংসনীয় উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছেন সিনিয়র জেল সুপার মো. আল মামুন। দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র আড়াই মাসের মধ্যেই কারাগারের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এসেছে দৃশ্যমান পরিবর্তন। বন্দিদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি, খাবারের মান উন্নয়ন, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চার সুযোগ সৃষ্টি এবং কারাগারের অবকাঠামোগত উন্নয়নে নেওয়া উদ্যোগগুলো ইতোমধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
গত ১৬ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে মো. শাহ আলম খানের স্থলাভিষিক্ত হয়ে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন আল মামুন। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি কারাগারকে শুধু শাস্তির স্থান নয়, বরং একটি কার্যকর সংশোধনাগার হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।
কারাগার সূত্রে জানা যায়, বন্দিদের খাবারের মান উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বন্দিদের প্রতিদিন পরিমিত আমিষ, শর্করা ও প্রয়োজনীয় পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে। খাবারের মান বৃদ্ধি পাওয়ায় বন্দিদের অভিযোগও আগের তুলনায় অনেক কমেছে।
শুধু খাবার নয়, বন্দিদের মানসিক বিকাশ ও সুস্থ বিনোদনের জন্যও নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন উদ্যোগ। নিয়মিত দাবা, লুডু, ক্রিকেট ও ফুটবল খেলার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সাংস্কৃতিক চর্চার পরিবেশও তৈরি করা হয়েছে। সম্প্রতি ফুটবল বিশ্বকাপ উপলক্ষে বড় প্রজেক্টরের মাধ্যমে খেলা দেখানোর ব্যবস্থা করা হলে বন্দিদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও আনন্দের সৃষ্টি হয়।
দায়িত্ব গ্রহণের পর জেল সুপার আল মামুন কারাগারের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ উন্নয়নেও বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছেন। ডেপুটি জেলারের জরাজীর্ণ কক্ষ সংস্কার, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য শিশু পার্ক নির্মাণ, কারাগারের প্রধান ফটকের নামফলক সংস্কার, ১০টি ডাস্টবিন স্থাপন এবং ১৭৫টি ফলজ ও বনজ গাছ রোপণের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
বন্দিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমান কারা ব্যবস্থাপনায় মানবিক আচরণ ও নিয়মতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি হয়েছে। কোনো অভিযোগ উঠলে তা যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বন্দিদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা এবং তাদের সমাজে ফিরে যাওয়ার উপযোগী করে গড়ে তোলার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সিনিয়র জেল সুপার মো. আল মামুন বলেন, “কারাগার শুধু বন্দিদের আটকে রাখার জায়গা নয়, এটি একটি সংশোধনাগার। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো বন্দিদের সংশোধন ও পুনর্বাসনের মাধ্যমে সমাজে একজন দায়িত্বশীল ও ভালো মানুষ হিসেবে ফিরিয়ে দেওয়া।”
তিনি আরও বলেন, “প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো এই কারাগারে ধারণক্ষমতার তুলনায় অতিরিক্ত বন্দি থাকায় কিছুটা চাপ রয়েছে। এরপরও আমরা বন্দিদের জন্য একটি মানবিক ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।”
কারাগারের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরে তিনি বলেন, “জরাজীর্ণ ভবন সংস্কার, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং প্রায় ২০০টি শূন্য পদ দ্রুত পূরণ করা গেলে কারা ব্যবস্থাপনা আরও গতিশীল হবে।”
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, একজন দায়িত্বশীল ও মানবিক কর্মকর্তার নেতৃত্বে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে যে পরিবর্তনের ধারা শুরু হয়েছে, তা একটি আধুনিক ও জনবান্ধব কারা ব্যবস্থাপনার দৃষ্টান্ত হতে পারে।