বুধবার , ২৯ জুলাই ২০২৬
হোমআজকের শীর্ষ সংবাদরাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে তিন দফা মারধর
‘ট্যাগিং’ বিতর্কে উত্তাল ক্যাম্পাস

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে তিন দফা মারধর

তদন্তে প্রশাসন
favicon
স্টাফ রিপোর্টার :-
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে তিন দফা মারধর

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এক শিক্ষার্থীকে ঘিরে অভিযোগের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, মারধর, রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে বিতর্ক এবং দুইজনকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। প্রক্টর দপ্তর, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি এবং পরে অ্যাম্বুলেন্সের সামনে হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা, প্রশাসনের ভূমিকা এবং ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক ‘ট্যাগিং’ সংস্কৃতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) পর্যন্ত নতুন কোনো সংঘর্ষের ঘটনা না ঘটলেও শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

ঘটনার সূত্রপাত গত রোববার। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগের এক ছাত্রী একই বিভাগের আরেক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেন। অভিযোগের পর বিষয়টি নিষ্পত্তির লক্ষ্যে প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমানের উদ্যোগে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে ইতিহাস বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী আনাস আহাম্মেদ, হাসিবসহ কয়েকজন উপস্থিত হলে প্রক্টরের সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডা হয় বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়।

পরদিন সোমবার বিষয়টি নিয়ে আবারও প্রক্টর কার্যালয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দীন আম্মার আনাস আহাম্মেদকে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের কর্মী বলে দাবি করেন। এর পরপরই প্রক্টর দপ্তরের ভেতরে তাকে মারধরের অভিযোগ ওঠে। প্রক্টরের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণে এলেও পরে সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ে।

এর কিছু সময় পর রাকসুর পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, আনাস আহাম্মেদ ও তার সহযোগীরা ছাত্র সংসদ ভবনে হামলা চালিয়েছেন। এ ঘটনায় রাকসুর তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক বি. এম. নাজমুস সাকিব আহত হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আনাস আহাম্মেদ ও তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির পাঠকক্ষে আশ্রয় নেন। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে গিয়েও তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, প্রক্টরিয়াল বডি ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও হামলা পুরোপুরি ঠেকানো সম্ভব হয়নি।

এছাড়া গুরুতর আহত মাহমুদুল হাসানকে অ্যাম্বুলেন্সে তোলার সময়ও তাকে জোর করে নামিয়ে আবার মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে ঘটনার বিভিন্ন অংশ দেখা গেলেও ভিডিওগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ঘটনার পর আনাস আহাম্মেদ ও মাহমুদুল হাসানকে ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে আদালত সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তবে গ্রেপ্তার হওয়া দুইজনের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, তারা ছাত্রলীগের পদধারী নেতা ছিলেন না। যদিও অতীতে ছাত্রলীগের কিছু কর্মসূচিতে তাদের উপস্থিতি দেখা গেছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। অন্যদিকে রাকসুর সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দীন আম্মার দাবি করেছেন, মোবাইল ফোনের তথ্য, ছবি ও ভিডিও বিশ্লেষণে তাদের ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলেছে।

এদিকে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার পরিবর্তে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের মারধর ও পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার ঘটনাটি অতীতের ‘ট্যাগিং’ রাজনীতির পুনরাবৃত্তি। তাদের দাবি, ছাত্র সংসদকে সামনে রেখে একটি পক্ষ ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছে।

অন্যদিকে ছাত্র সংসদ ও ছাত্রশিবিরের নেতারা পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের কর্মীদের আশ্রয় দেওয়া হচ্ছে এবং সাম্প্রতিক ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের সঙ্গে ছাত্রলীগের সম্পৃক্ততার তথ্য রয়েছে। তবে ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সংঘর্ষে তাদের সংগঠনের কোনো কর্মী সরাসরি অংশ নেয়নি; আহতদের খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, মব সৃষ্টি বন্ধ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে কর্মসূচি পালন করেছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের অনেকেই মনে করছেন, প্রশাসনের উপস্থিতিতেই একাধিকবার মারধরের ঘটনা ঘটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র মো. গাজিউর রহমান জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি খারাপ দৃষ্টান্ত। এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটিকে আগামী ১০ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে শৃঙ্খলা রক্ষা, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে প্রশাসন প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক বিষয় পরিচালনার দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এবং এ ক্ষেত্রে কোনো পক্ষের অযাচিত হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে তিন দফা মারধর
‘ট্যাগিং’ বিতর্কে উত্তাল ক্যাম্পাস
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
২৯ জুলাই ২০২৬
আরও খবর
রাজশাহী বিভাগের উন্নয়ন নিয়ে বিভাগীয় কমিশনারের সঙ্গে বিরোধীদলীয় এমপিদের বৈঠক
রাজশাহী বিভাগের উন্নয়ন নিয়ে বিভাগীয় কমিশনারের সঙ্গে বিরোধীদলীয় এমপিদের বৈঠক
রাজধানীসহ দেশজুড়ে এলএনজি সরবরাহে বিঘ্ন
রাজধানীসহ দেশজুড়ে এলএনজি সরবরাহে বিঘ্ন
পুঠিয়ার ঐতিহাসিক স্থাপনা ও বানেশ্বর আম বাজার ঘুরে দেখলেন ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত
পুঠিয়ার ঐতিহাসিক স্থাপনা ও বানেশ্বর আম বাজার ঘুরে দেখলেন ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত
বদলির এক মাসেও কর্মস্থল ছাড়েননি নিরাপত্তা প্রহরী
বদলির এক মাসেও কর্মস্থল ছাড়েননি নিরাপত্তা প্রহরী
টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সক্ষমতা বাড়াতে কক্সবাজারে দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত
টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সক্ষমতা বাড়াতে কক্সবাজারে দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত
আরএমপি কমিশনারের সঙ্গে বিকাশ প্রতিনিধি দলের সৌজন্য সাক্ষাৎ
আরএমপি কমিশনারের সঙ্গে বিকাশ প্রতিনিধি দলের সৌজন্য সাক্ষাৎ
ডিআইজি, রাজশাহী রেঞ্জের সঙ্গে বিকাশ প্রতিনিধি দলের সৌজন্য সাক্ষাৎ
ডিআইজি, রাজশাহী রেঞ্জের সঙ্গে বিকাশ প্রতিনিধি দলের সৌজন্য সাক্ষাৎ
সুরুজ আলীর বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার ও নিঃশর্ত মুক্তির আহ্বান রাজশাহী প্রেসক্লাবের
সুরুজ আলীর বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার ও নিঃশর্ত মুক্তির আহ্বান রাজশাহী প্রেসক্লাবের
দৈনিক উপচার
 বুধবার , ২৯ জুলাই ২০২৬
হোমআজকের শীর্ষ সংবাদরাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে তিন দফা মারধর
‘ট্যাগিং’ বিতর্কে উত্তাল ক্যাম্পাস

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে তিন দফা মারধর

তদন্তে প্রশাসন
favicon
স্টাফ রিপোর্টার :-
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে তিন দফা মারধর

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এক শিক্ষার্থীকে ঘিরে অভিযোগের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, মারধর, রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে বিতর্ক এবং দুইজনকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। প্রক্টর দপ্তর, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি এবং পরে অ্যাম্বুলেন্সের সামনে হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা, প্রশাসনের ভূমিকা এবং ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক ‘ট্যাগিং’ সংস্কৃতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) পর্যন্ত নতুন কোনো সংঘর্ষের ঘটনা না ঘটলেও শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

ঘটনার সূত্রপাত গত রোববার। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগের এক ছাত্রী একই বিভাগের আরেক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেন। অভিযোগের পর বিষয়টি নিষ্পত্তির লক্ষ্যে প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমানের উদ্যোগে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে ইতিহাস বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী আনাস আহাম্মেদ, হাসিবসহ কয়েকজন উপস্থিত হলে প্রক্টরের সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডা হয় বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়।

পরদিন সোমবার বিষয়টি নিয়ে আবারও প্রক্টর কার্যালয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দীন আম্মার আনাস আহাম্মেদকে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের কর্মী বলে দাবি করেন। এর পরপরই প্রক্টর দপ্তরের ভেতরে তাকে মারধরের অভিযোগ ওঠে। প্রক্টরের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণে এলেও পরে সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ে।

এর কিছু সময় পর রাকসুর পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, আনাস আহাম্মেদ ও তার সহযোগীরা ছাত্র সংসদ ভবনে হামলা চালিয়েছেন। এ ঘটনায় রাকসুর তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক বি. এম. নাজমুস সাকিব আহত হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আনাস আহাম্মেদ ও তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির পাঠকক্ষে আশ্রয় নেন। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে গিয়েও তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, প্রক্টরিয়াল বডি ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও হামলা পুরোপুরি ঠেকানো সম্ভব হয়নি।

এছাড়া গুরুতর আহত মাহমুদুল হাসানকে অ্যাম্বুলেন্সে তোলার সময়ও তাকে জোর করে নামিয়ে আবার মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে ঘটনার বিভিন্ন অংশ দেখা গেলেও ভিডিওগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ঘটনার পর আনাস আহাম্মেদ ও মাহমুদুল হাসানকে ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে আদালত সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তবে গ্রেপ্তার হওয়া দুইজনের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, তারা ছাত্রলীগের পদধারী নেতা ছিলেন না। যদিও অতীতে ছাত্রলীগের কিছু কর্মসূচিতে তাদের উপস্থিতি দেখা গেছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। অন্যদিকে রাকসুর সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দীন আম্মার দাবি করেছেন, মোবাইল ফোনের তথ্য, ছবি ও ভিডিও বিশ্লেষণে তাদের ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলেছে।

এদিকে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার পরিবর্তে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের মারধর ও পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার ঘটনাটি অতীতের ‘ট্যাগিং’ রাজনীতির পুনরাবৃত্তি। তাদের দাবি, ছাত্র সংসদকে সামনে রেখে একটি পক্ষ ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছে।

অন্যদিকে ছাত্র সংসদ ও ছাত্রশিবিরের নেতারা পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের কর্মীদের আশ্রয় দেওয়া হচ্ছে এবং সাম্প্রতিক ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের সঙ্গে ছাত্রলীগের সম্পৃক্ততার তথ্য রয়েছে। তবে ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সংঘর্ষে তাদের সংগঠনের কোনো কর্মী সরাসরি অংশ নেয়নি; আহতদের খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, মব সৃষ্টি বন্ধ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে কর্মসূচি পালন করেছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের অনেকেই মনে করছেন, প্রশাসনের উপস্থিতিতেই একাধিকবার মারধরের ঘটনা ঘটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র মো. গাজিউর রহমান জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি খারাপ দৃষ্টান্ত। এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটিকে আগামী ১০ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে শৃঙ্খলা রক্ষা, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে প্রশাসন প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক বিষয় পরিচালনার দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এবং এ ক্ষেত্রে কোনো পক্ষের অযাচিত হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে তিন দফা মারধর
‘ট্যাগিং’ বিতর্কে উত্তাল ক্যাম্পাস
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
২৯ জুলাই ২০২৬
আরও খবর
রাজশাহী বিভাগের উন্নয়ন নিয়ে বিভাগীয় কমিশনারের সঙ্গে বিরোধীদলীয় এমপিদের বৈঠক
রাজশাহী বিভাগের উন্নয়ন নিয়ে বিভাগীয় কমিশনারের সঙ্গে বিরোধীদলীয় এমপিদের বৈঠক
রাজধানীসহ দেশজুড়ে এলএনজি সরবরাহে বিঘ্ন
রাজধানীসহ দেশজুড়ে এলএনজি সরবরাহে বিঘ্ন
পুঠিয়ার ঐতিহাসিক স্থাপনা ও বানেশ্বর আম বাজার ঘুরে দেখলেন ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত
পুঠিয়ার ঐতিহাসিক স্থাপনা ও বানেশ্বর আম বাজার ঘুরে দেখলেন ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত
বদলির এক মাসেও কর্মস্থল ছাড়েননি নিরাপত্তা প্রহরী
বদলির এক মাসেও কর্মস্থল ছাড়েননি নিরাপত্তা প্রহরী
টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সক্ষমতা বাড়াতে কক্সবাজারে দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত
টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সক্ষমতা বাড়াতে কক্সবাজারে দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত
আরএমপি কমিশনারের সঙ্গে বিকাশ প্রতিনিধি দলের সৌজন্য সাক্ষাৎ
আরএমপি কমিশনারের সঙ্গে বিকাশ প্রতিনিধি দলের সৌজন্য সাক্ষাৎ
ডিআইজি, রাজশাহী রেঞ্জের সঙ্গে বিকাশ প্রতিনিধি দলের সৌজন্য সাক্ষাৎ
ডিআইজি, রাজশাহী রেঞ্জের সঙ্গে বিকাশ প্রতিনিধি দলের সৌজন্য সাক্ষাৎ
সুরুজ আলীর বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার ও নিঃশর্ত মুক্তির আহ্বান রাজশাহী প্রেসক্লাবের
সুরুজ আলীর বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার ও নিঃশর্ত মুক্তির আহ্বান রাজশাহী প্রেসক্লাবের