সোমবার , ২৭ জুলাই ২০২৬
হোমজাতীয়শিক্ষা ক্যাডারে বদলি-পদায়নে বড় পরিবর্তন
জারি হলো নতুন নীতিমালা

শিক্ষা ক্যাডারে বদলি-পদায়নে বড় পরিবর্তন

favicon
উপচার ডেস্ক :-
শিক্ষা ক্যাডারে বদলি-পদায়নে বড় পরিবর্তন

বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডার কর্মকর্তাদের বদলি ও পদায়ন প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে সরকার। বদলি ও পদায়নের ক্ষমতা আংশিকভাবে বিকেন্দ্রীকরণ করে নতুন নীতিমালা জারি করা হয়েছে। এর ফলে নিম্ন ও মধ্য পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বদলির আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রোববার (২৬ জুলাই) জারি করা নীতিমালায় বলা হয়েছে, সরকারি কলেজে কর্মরত শিক্ষা ক্যাডারের শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের আবেদন এবং প্রশাসনিক প্রয়োজনের ভিত্তিতে বদলি বা পদায়নের ক্ষেত্রে নতুন এই নীতিমালা অনুসরণ করা হবে। তবে জনস্বার্থে সরকার প্রয়োজন মনে করলে যে কোনো সময় যে কোনো শিক্ষক বা কর্মকর্তাকে দেশের যে কোনো কর্মস্থল বা পদে বদলি কিংবা পদায়ন করতে পারবে।

নীতিমালা অনুযায়ী, বদলি বা পদায়নের জন্য আবেদনকারীকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জমা দিতে হবে। আবেদনপত্রে তথ্য অসম্পূর্ণ থাকলে অথবা পার্সোনাল ডাটা শিট (পিডিএস) হালনাগাদ না থাকলে সেই আবেদন বিবেচনায় নেওয়া হবে না।

নতুন নীতিমালায় নবনিযুক্ত প্রভাষকদের জন্য স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। চাকরিতে যোগদানের পর দুই বছর পূর্ণ হওয়ার আগে তারা সাধারণভাবে বদলির আবেদন করতে পারবেন না। একই বিধান অন্যান্য শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তা ও শিক্ষকদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। বর্তমান কর্মস্থলে কমপক্ষে দুই বছর দায়িত্ব পালন না করলে সাধারণভাবে বদলির আবেদন গ্রহণ করা হবে না। তবে গুরুতর শারীরিক, মানসিক বা পারিবারিক সমস্যার ক্ষেত্রে দুই বছর পূর্ণ হওয়ার আগেও আবেদন করা যাবে। এসব আবেদন যৌক্তিকতা বিবেচনায় সরকার নিষ্পত্তি করবে।

কর্মজীবী দম্পতিদের জন্যও নতুন নীতিমালায় বিশেষ সুযোগ রাখা হয়েছে। স্বামী-স্ত্রী উভয়েই চাকরিজীবী হলে একজনের কর্মস্থল অথবা তার নিকটবর্তী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অন্যজনের বদলি বা পদায়নের আবেদন করার সুযোগ থাকবে। এছাড়া অবসর-পূর্ব প্রস্তুতিমূলক ছুটিতে (পিআরএল) যাওয়ার এক বছর আগে কোনো শিক্ষক বা কর্মকর্তা নিজের সুবিধাজনক কর্মস্থলে বদলির আবেদন করলে শূন্য পদ থাকা সাপেক্ষে সেটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করা হবে।

নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, বদলির আবেদন মূল্যায়নের সময় আবেদনকারীর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সমস্যা, পেশাগত প্রয়োজন, আবেদনকারী বা তার পরিবারের সদস্যদের দূরারোগ্য অসুস্থতা এবং নিজ জেলা থেকে বর্তমান কর্মস্থলের দূরত্বসহ বিভিন্ন বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। বদলির জন্য জমা পড়া আবেদন নির্ধারিত কমিটির মাধ্যমে যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় সুপারিশ করা হবে এবং এরপর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বদলি বা পদায়নের আদেশ জারি করবে।

সরকারি কলেজগুলোতে শিক্ষক সংকট নিরসনের লক্ষ্যেও নতুন নীতিমালায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। উপজেলা ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের সরকারি কলেজগুলোর শূন্য পদে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পদায়নের ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকটে থাকা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে দ্রুত জনবল নিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নতুন নীতিমালার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো বদলি ও পদায়নের ক্ষমতা আংশিকভাবে বিকেন্দ্রীকরণ। এখন থেকে প্রভাষক ও সহকারী অধ্যাপক পদমর্যাদার শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের বদলি বা পদায়নের ক্ষমতা থাকবে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালকের হাতে। অন্যদিকে সহযোগী অধ্যাপক, অধ্যাপক এবং ঊর্ধ্বতন পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের বদলি ও পদায়নের ক্ষমতা আগের মতোই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন থাকবে।

এর আগে অনলাইন বদলি নীতিমালার আওতায় শিক্ষা ক্যাডারের সব স্তরের কর্মকর্তা ও শিক্ষকদের বদলি ও পদায়নের ক্ষমতা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছেই কেন্দ্রীভূত ছিল। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে নিম্ন ও মধ্য পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বদলির আবেদন মাউশি থেকেই নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে, যা প্রশাসনিক জটিলতা কমিয়ে পুরো প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল ও সময়োপযোগী করবে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, নতুন নীতিমালার মাধ্যমে একদিকে যেমন বদলি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও গতি বাড়বে, অন্যদিকে শিক্ষক সংকটপূর্ণ সরকারি কলেজগুলোতে দ্রুত জনবল পদায়নের সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও পেশাগত প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়ার ফলে শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা আরও মানবিক ও বাস্তবসম্মত বদলি ব্যবস্থার সুবিধা পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

শিক্ষা ক্যাডারে বদলি-পদায়নে বড় পরিবর্তন
জারি হলো নতুন নীতিমালা
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
২৭ জুলাই ২০২৬
দৈনিক উপচার
 সোমবার , ২৭ জুলাই ২০২৬
হোমজাতীয়শিক্ষা ক্যাডারে বদলি-পদায়নে বড় পরিবর্তন
জারি হলো নতুন নীতিমালা

শিক্ষা ক্যাডারে বদলি-পদায়নে বড় পরিবর্তন

favicon
উপচার ডেস্ক :-
শিক্ষা ক্যাডারে বদলি-পদায়নে বড় পরিবর্তন

বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডার কর্মকর্তাদের বদলি ও পদায়ন প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে সরকার। বদলি ও পদায়নের ক্ষমতা আংশিকভাবে বিকেন্দ্রীকরণ করে নতুন নীতিমালা জারি করা হয়েছে। এর ফলে নিম্ন ও মধ্য পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বদলির আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রোববার (২৬ জুলাই) জারি করা নীতিমালায় বলা হয়েছে, সরকারি কলেজে কর্মরত শিক্ষা ক্যাডারের শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের আবেদন এবং প্রশাসনিক প্রয়োজনের ভিত্তিতে বদলি বা পদায়নের ক্ষেত্রে নতুন এই নীতিমালা অনুসরণ করা হবে। তবে জনস্বার্থে সরকার প্রয়োজন মনে করলে যে কোনো সময় যে কোনো শিক্ষক বা কর্মকর্তাকে দেশের যে কোনো কর্মস্থল বা পদে বদলি কিংবা পদায়ন করতে পারবে।

নীতিমালা অনুযায়ী, বদলি বা পদায়নের জন্য আবেদনকারীকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জমা দিতে হবে। আবেদনপত্রে তথ্য অসম্পূর্ণ থাকলে অথবা পার্সোনাল ডাটা শিট (পিডিএস) হালনাগাদ না থাকলে সেই আবেদন বিবেচনায় নেওয়া হবে না।

নতুন নীতিমালায় নবনিযুক্ত প্রভাষকদের জন্য স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। চাকরিতে যোগদানের পর দুই বছর পূর্ণ হওয়ার আগে তারা সাধারণভাবে বদলির আবেদন করতে পারবেন না। একই বিধান অন্যান্য শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তা ও শিক্ষকদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। বর্তমান কর্মস্থলে কমপক্ষে দুই বছর দায়িত্ব পালন না করলে সাধারণভাবে বদলির আবেদন গ্রহণ করা হবে না। তবে গুরুতর শারীরিক, মানসিক বা পারিবারিক সমস্যার ক্ষেত্রে দুই বছর পূর্ণ হওয়ার আগেও আবেদন করা যাবে। এসব আবেদন যৌক্তিকতা বিবেচনায় সরকার নিষ্পত্তি করবে।

কর্মজীবী দম্পতিদের জন্যও নতুন নীতিমালায় বিশেষ সুযোগ রাখা হয়েছে। স্বামী-স্ত্রী উভয়েই চাকরিজীবী হলে একজনের কর্মস্থল অথবা তার নিকটবর্তী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অন্যজনের বদলি বা পদায়নের আবেদন করার সুযোগ থাকবে। এছাড়া অবসর-পূর্ব প্রস্তুতিমূলক ছুটিতে (পিআরএল) যাওয়ার এক বছর আগে কোনো শিক্ষক বা কর্মকর্তা নিজের সুবিধাজনক কর্মস্থলে বদলির আবেদন করলে শূন্য পদ থাকা সাপেক্ষে সেটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করা হবে।

নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, বদলির আবেদন মূল্যায়নের সময় আবেদনকারীর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সমস্যা, পেশাগত প্রয়োজন, আবেদনকারী বা তার পরিবারের সদস্যদের দূরারোগ্য অসুস্থতা এবং নিজ জেলা থেকে বর্তমান কর্মস্থলের দূরত্বসহ বিভিন্ন বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। বদলির জন্য জমা পড়া আবেদন নির্ধারিত কমিটির মাধ্যমে যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় সুপারিশ করা হবে এবং এরপর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বদলি বা পদায়নের আদেশ জারি করবে।

সরকারি কলেজগুলোতে শিক্ষক সংকট নিরসনের লক্ষ্যেও নতুন নীতিমালায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। উপজেলা ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের সরকারি কলেজগুলোর শূন্য পদে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পদায়নের ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকটে থাকা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে দ্রুত জনবল নিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নতুন নীতিমালার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো বদলি ও পদায়নের ক্ষমতা আংশিকভাবে বিকেন্দ্রীকরণ। এখন থেকে প্রভাষক ও সহকারী অধ্যাপক পদমর্যাদার শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের বদলি বা পদায়নের ক্ষমতা থাকবে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালকের হাতে। অন্যদিকে সহযোগী অধ্যাপক, অধ্যাপক এবং ঊর্ধ্বতন পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের বদলি ও পদায়নের ক্ষমতা আগের মতোই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন থাকবে।

এর আগে অনলাইন বদলি নীতিমালার আওতায় শিক্ষা ক্যাডারের সব স্তরের কর্মকর্তা ও শিক্ষকদের বদলি ও পদায়নের ক্ষমতা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছেই কেন্দ্রীভূত ছিল। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে নিম্ন ও মধ্য পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বদলির আবেদন মাউশি থেকেই নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে, যা প্রশাসনিক জটিলতা কমিয়ে পুরো প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল ও সময়োপযোগী করবে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, নতুন নীতিমালার মাধ্যমে একদিকে যেমন বদলি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও গতি বাড়বে, অন্যদিকে শিক্ষক সংকটপূর্ণ সরকারি কলেজগুলোতে দ্রুত জনবল পদায়নের সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও পেশাগত প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়ার ফলে শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা আরও মানবিক ও বাস্তবসম্মত বদলি ব্যবস্থার সুবিধা পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

শিক্ষা ক্যাডারে বদলি-পদায়নে বড় পরিবর্তন
জারি হলো নতুন নীতিমালা
◀ বিস্তারিত কমেন্ট ▶
dailyupochar.com
২৭ জুলাই ২০২৬